ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


আবৃত্তি উৎসব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

আব্দুল্লাহ আল মাছুম

আজকের সমাজে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে মানবিক মানুষের সংকট। এমন সময় কিছু তরুণ আবৃত্তির জন্য একত্র হয়েছে, কবিতা নিয়ে ভাবছে- এটাই বড় বিষয়। এই তরুণরা মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখছে। এসব কথা বলছিলেন আবৃত্তি শিল্পী ও প্রশিক্ষক রাশেদ হাসান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি চর্চার প্ল্যাটফর্ম 'ধ্বনি'র আবৃত্তি উৎসবে অংশ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পূর্ণ করা আবৃত্তি সংগঠন 'ধ্বনি' চার দিনব্যাপী আবৃত্তি উৎসবের আয়োজন করে। ২, ৩, ৪ ও ৭ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে 'অষ্টাদশ আবৃত্তি উৎসব-২০২০' শিরোনামে এই আয়োজন করা হয়। প্রথম তিন দিন ছিল মঞ্চ পরিবেশনা। আর শেষদিন ছিল পুনর্মিলনীর আয়োজন। আয়োজনের স্লোগান ছিল 'উন্মুক্ত হও, বিবৃত হও। নিভৃত বেড়াজাল ছিন্ন করো'।

আয়োজন নিয়ে ধ্বনির সাবেক সহসভাপতি সাদিয়া সাজ্জাদ বন্নি বলেন, 'কবিতা মানে শুধু ভালোবাসা, বিরহ, প্রেম নয়। কবিতা মানে আপনার কথা; আপনার প্রতিবাদের ভাষা। কবিতা আপনার ভেতরের আমিটা বের করে নিয়ে আসে।' আয়োজনের প্রথম দিনে সংগঠনটির কর্মীদের পরিবেশনায় ছিল মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মা নদীর মাঝি'। গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন তাজমিরা ইয়াসমিন মুক্তা ও আলোকসজ্জায় সোহানুর রশীদ মুন গাজী। আবহ সংগীতে নির্ঝর অধিকারী ও প্রীতম এবং স্বর প্রক্ষেপণে ছিলেন সাওদা, মোশারফ, ঐশী, মুক্তা, মনির, আসাদ, ইমরান, প্রত্যাশা, রিতু, জান্নাত ও জাহিদ। দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনায় ছিল সোহানুর রশীদ মুন গাজীর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় 'অসময়ের ইশতেহার'। আবহ সংগীতে ছিলেন অনুরাগ দাস। স্বর প্রক্ষেপণে ছিলেন প্রিয়ন্তি, সুমি, ঐশী, ছন্দা, শিমুল, ইমরান, জুবায়ের, উদয় ও প্রীতম।

আবৃত্তিতে ধর্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা, আবরার হত্যা, শ্রমিকের অধিকার, ধানের ন্যায্য দাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গুজব, রাজনৈতিক গোঁড়ামি, ধর্মের নামে অধার্মিক আচরণ, ঘুষ-লুটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আহ্বান জানানো হয়। বন্নি বলেন, 'প্রযোজনাটা দ্রোহ, বিদ্রোহ, প্রতিবাদের'। মঞ্চ পরিবেশনার শেষদিন সংগঠনটির সাবেকদের সংগঠন 'ধ্বনি, ঢাকা'র প্রযোজনায় ছিল 'একলা যুগল পাখি'। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, সামসউজজোহা, তামান্না তিথি, প্রদ্যুত রায়, অনন্যা লাবনী পুতুল। অতিথিরাও এককভাবে আবৃত্তি করে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন।

আবৃত্তি শিল্পী তামান্না তিথি বলেন, 'ধ্বনির সদস্যরা পাল্টাচ্ছে। কিন্তু সবসময় মনে হচ্ছে এই জায়গাটা তারুণ্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত, আলোকিত।' অনন্যা লাবনী পুতুল বলেন, 'যৌবনের উল্লাসে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত হলেও এর ভারি কিছু মূল্য থেকে যায়।'

উৎসবের তৃতীয় দিন আসাদুল্লাহ আল গালিবকে সভাপতি ও সামি-আল জাহিদ প্রীতমকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনটির ২০২০ সালের কার্যকরী পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। সদ্য সাবেক সভাপতি সোহানুর রশীদ মুন গাজী বলেন, 'কবিতায় একই কণ্ঠে আমরা প্রেমের কথা বলি। ঠিক একইভাবে দ্রোহের কথাও বলি। শিল্প ও সংস্কৃতিকে যারা ধারণ করেন তারা কোনো অন্যায় করতে পারেন না। কোনো অন্যায় সহ্যও করেন না। যেখানে অন্যায় থাকে সেখানে তাদের কণ্ঠও গর্জে উঠে।' আবৃত্তি শিল্পী প্রদ্যুত রায় বলেন, 'ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হোক। শুধু দেশ নয়, সমগ্র বিশ্বজুড়ে। ধ্বনির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।'