ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চার মেধাবীর বিজয়ের গল্প

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০      
ভালো ফল করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য। তাদের এই সফলতার পেছনে ছিলেন বাবা-মা, শিক্ষক অথবা স্বামী। কিসের উৎসাহে এতদূর আসা? আর পেছনের গল্পটাই-বা কেমন ছিল? স্বর্ণপদকজয়ী আট শিক্ষার্থীর সফলতার গল্পের প্রথম পর্ব থাকছে আজ। লিখেছেন -মুজাহিদ হোসেন



অরিন্দম বিশ্বাস

আইন বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ : ২০১৩-১৪


স্বর্ণপদক প্রাপ্তির যাত্রাটা শুরু হয়েছিল যখন বিভাগে প্রথম বর্ষের ফলাফলে প্রথম হই। তারপর স্বপ্ন দেখা শুরু স্বর্ণপদক অর্জনের। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, চার বছর শেষে সিজিপিএ ৩.৫৫ পেয়ে অনার্সে আমি প্রথম হই। আমি এটা বলব না যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক আমার একার অর্জন, এটা আমার বিভাগেরও অর্জন। ছাত্রজীবনের কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য পুরস্কার বা স্বীকৃতি যে কোনো ছাত্রছাত্রীর জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। আর সেই পুরস্কার যদি হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে, তাহলে তা যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য হবে স্মরণীয় ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ শুধু একটি বিভাগ নয়, এটি একটি পরিবার; যেখানে শিক্ষকরা শুধু শিক্ষাদান ও ভালো ফল অর্জনে উৎসাহিত করেননি, সেইসঙ্গে আমাকে সার্বিকভাবে সাহায্যও করেছেন।



সাবিনা ইয়াসমিন

ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্স বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ : ২০১১-১২


স্বপ্ন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়ের আবর্তে নতুন নতুন স্বপ্ন যোগ হয় স্বপ্নের ডায়েরিতে। তারপর স্বপ্নগুলো একে একে ডানা মেলে, খুঁজে ফিরে চলে বাস্তবতার পথ। এমন এক স্বপ্ন নিয়ে আমার পথচলা শুরু হয়েছিল উত্তরাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছোটবেলা থেকেই যখন কোনো পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতায় প্রথম দিকে নিজের নাম দেখতাম তখন মনের মধ্যে ভীষণ ভালো লাগা কাজ করত। আর আশেপাশের গুরুজনদের অনুপ্রেরণা ভাসিয়ে নিয়ে যেত নতুন দিগন্তে। সেই রেশ ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার প্রথম দিক থেকেই নিজেকে শত ভিড়ের মধ্যে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এই স্রোতে আমার সফলতা আমাকে আজকের এ সম্মান এনে দিয়েছে। যার জন্য আমি আমার বিভাগের সব শিক্ষকের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক প্রাপ্তি আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে।



সোহেল রানা

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি

শিক্ষাবর্ষ : ২০১৩-১৪


প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাওয়া সবার জন্য আনন্দের, আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। অনেক ভালো লাগছে। আসলে এ ভালো লাগার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি এটি অর্জন করছি তার জন্য। আমার বাবা-মা। আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আসলে এ অর্জনটি তাদের জন্য সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আসলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে শুধু পরিশ্রমের কারণে। মেধা সবারই আছে। কিন্তু পরিশ্রম সবাই করতে চায় না। আমি মনে করি, পরিশ্রম করলে যে কেউ সাফল্য অর্জন করতে পারে।



আবু বক্কর সিদ্দিক

আরবি বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ : ২০১৩-১৪


আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল কওমি মাদ্রাসায় সেখান থেকে বাংলাদেশের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পেছনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। তবে অনেকের উৎসাহ আমাকে সাহস জুগিয়েছে। আমার এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। বিভাগে প্রথম হওয়া পিছনে বিভাগের সব শিক্ষক আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন সবসময়। আমি নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয়ে স্যারদের লেকচার শুনতাম ও প্রচলিত শিট বা নোট ইত্যাদির ওপর নির্ভর না করে লাইব্রেরি গিয়ে পড়াশোনা করতাম। যারা ভালো রেজাল্ট করতে চায় তাদের জন্য বলব, নিয়মিত পড়াশোনা ও ক্লাস করতে হবে। কোন বিষয় বিস্তারিত জানতে হলে িিশক্ষকদের লেকচার ছাড়াও রেফারেন্স বইয়ের সাহায্য নিতে হবে। তাতেই ভালো ফল করা সম্ভব।