ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


নীল জলরাশির ভালোবাসা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

আমজাদ হোসেন হৃদয়

পাহাড়, বন আর সমুদ্র পরিবেষ্টিত ছোট্ট এই ভূখণ্ডটি ছায়াঘেরা পরিবেশের এক অনবদ্য রূপ সম্ভার। ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ডুসাস পরিবারের টুর ছিল আর তাতেই রচিত হয় নীল জলরাশির ভালোবাসায় সিক্ত সিলেটের নীল নদখ্যাত লালাখালের গল্প।

পূর্বপরিকল্পনা মাফিক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বিকেলে লালাখালে পৌঁছায় ডুসাস পরিবার। এসেই নীল জলরাশি ও ছোট ছোট নৌকার সারি মুগ্ধ করে আমাদের। যে যার মতো ছুটে যায় জলের পানে এবং বন্ধি হয় স্থিরচিত্রে। সিদ্ধান্ত হলো, আমরা নৌকা ভ্রমণ করব, লালাখাল জিরো পয়েট থেকে তিনটি নৌকা ভাড়া করে ছুটে চললাম সারিঘাটের উদ্দেশে। লালাখালের নীল জলরাশির আছড়ে পড়া ঢেউ এবং চারপাশের পরিবেশ মুগ্ধ করে প্রত্যেককেই। মাঝপথে মেহেরুন নেসা প্রীতিয়ার মন্তব্যটি ছিল ঠিক এমন- 'এই পথ শেষ না হোক, আমি হারাতে চাই এই সৌন্দর্যের মাঝে।' নদী আর পাহাড়ের মেলবন্ধনে নদীর টলটলে স্রোতস্বিনী জল আর পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝরনাধারা, এ যেন প্রকৃতির এক মায়াময়ী রূপের বাহানা।

লালাখালে সন্ধ্যার আগমুহূর্তটা ছিল আরও অবিস্মরণীয়। ওপরে আলোকিত আকাশ। ক্লান্ত সূর্য ঢলে পড়ছে পশ্চিম আকাশে। চারপাশে গাছপালার মধ্যে পাখির কিচিরমিচির। এসব দেখলে মনে হয়, পাহাড় থেকে তিরতির করে সন্ধ্যা নেমে আসছে। ধীরে ধীরে গোধূলিকেও আঁধার ঢেকে দেয়। ক্রমে চারপাশে নেমে আসে আঁধার। সন্ধ্যার অঁাঁধার নেমে আসে লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলে। ১.৪০ মিনিটের এই নৌকা ভ্রমণ সত্যিই লালাখালের মুগ্ধতা হাজারগুণ বাড়িয়ে দিল। নদী, পাহাড়ি বন, চা-বাগান এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি লালাখালের ভূপ্রকৃতিকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ ক্লান্তির অবসানে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার জন্য প্রয়োজন ছিল এমন তৃপ্তিময় নৌকা ভ্রমণ।

নীল জলরাশি কার না পছন্দ। এমন একটি নীল জলরাশির লালাখাল মুহূর্তেই মনে করিয়ে দেয় অপার সৌন্দর্যময়ী বাংলাদেশের কথা। এই যেন এক টুকরো নীলনদ, যেখানে গা ভাসিয়ে দিয়ে উপভোগ করা যায় জীবনের সবচেয়ে মধুর মুহূর্তটি। লালাখাল ভ্রমণের জন্য শীতের প্রথম ভাগটাই উপযুক্ত সময়। চাইলে বৃষ্টির দিনে ভ্রমণ করা যেতে পারে। তবে শীতের সময়টা বেশ নিরাপদ। সময়স্বল্পতার কারণে যখন ফিরে যাচ্ছিলাম মন বারবার বলল, 'খুব মিস করব হে নীল জলরাশি।'া