ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

ইসরাত জাহান

 ক্যাম্পাসে বসন্ত উৎসব

বসন্ত উৎসবে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবর্তনের পরিবেশনা ছবি :শাহীন আলম

পাতা ঝরা শীতকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতি সেজেছে নতুনরূপে। গাছে গাছে শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া জানান দেয় বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্তদূত কোকিলের কণ্ঠে গাওয়া অবিরাম কুহু কুহু ডাক সবার কানে কানে বলে যায় আজি বসন্ত। হলদে শাড়ি আর খোঁপায় গাঁদা ফুল গুঁজে তরুণীরা ব্যস্ত ফুলে ফুলে রঙিন বসন্তকে বরণ করতে। তাদের দেখে যেন মনে হয়, আজ কোনো অজানা হলুদে কন্যার গায়ে হলুদ।

বসন্তের উৎসবে সবার সঙ্গে মেতেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবর্তন দিনব্যাপী বসন্তবরণ উৎসব ১৪২৬-এর জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে দিনটিকে রঙিন করে রেখেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে শুরু হয় বসন্তবরণের পালা। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও ফাল্কগ্দুনের গানে মঞ্চ মাতিয়ে রাখে সংগঠনটি। এর আগে দুদিনব্যাপী ক্যাম্পাসের ব্যাডমিন্টন মাঠে আয়োজন করা হয় বসন্তমেলার। যেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা জিনিসপত্রের দোকান বসে। কথা হয় বসন্তবরণ উৎসবে আসা পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল কাউসার রুমকির সঙ্গে। 'বসন্ত সবার উৎসব। বসন্ত ঋতুর প্রথম দিনে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা শীতের জীর্ণতাকে মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়। প্রতিটি মানুষের উচিত নতুনরূপে সজ্জিত প্রকৃতিকে সানন্দে বরণ করে নেওয়া।'

প্রতি বছর ক্যাম্পাসে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করে থাকে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবর্তন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল হাসানের ভাষায়, 'আমাদের আনন্দ সবার সঙ্গে বসন্তের উৎসব ভাগ করার মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যখন আমাদের উৎসবে এসে আনন্দে মেতে উঠে তা দেখে আমাদের মন ভরে যায়।

আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটাই। আর প্রতিবর্তন সবসময় এ কাজই চায়।'

ষড়ঋতুর এ দেশে প্রতিটি ঋতুই নতুন নতুন রূপের পরসা নিয়ে আসে। তবে বসন্ত আসে ভিন্নভাবে, একদম ভিন্ন আঙিকে। প্রকৃতিপ্রেমী নয়, এমন মানুষও বসন্তের প্রেমে পড়বেনই। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সাজে প্রকৃতি নিজেকে সাজায় আপন হস্তে। তাই তো প্রকৃতির এমন অপরূপ প্রাকৃতিক লীলা দেখে বার বার বলতে ইচ্ছা করে বসন্ত এসে গেছে। া