ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


কৃষি প্রকৌশলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

তানিউল করিম জীম

দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশাল জনগোষ্ঠী। এক সময় বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিবিদদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। অধিক ফলনশীল, আগাছা সহনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এখন বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি খাবার মজুদ করাও সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সব পণ্যের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পেলেও সেই হারে বৃদ্ধি পায়নি কৃষিপণ্যের বাজার মূল্য। এদিকে শ্রমিক মজুরি, সার, কীটনাশক ও ফসল উৎপাদনের আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। কারণ তারা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কিছুদিন আগে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুঃখ-ক্ষোভে তাদের ধানের জমিতে আগুন লাগায়, যা আজকে দেশে কৃষকের অবস্থা তুলে ধরে। এ জন্য প্রযুক্তিকরণের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করতে হবে। অন্যথায় দিনে দিনে কৃষকরা কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাবে। ফলে খাদ্যের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। কৃষিপ্রধান দেশ যদি খাদ্যের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে তাহলে তা খুবই লজ্জাজনক। শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বীজের অপচয়, ফসলের অপচয় ও ক্ষতি কমানো সম্ভব। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাবনা-চিন্তা তুলে ধরা হলো।



ওয়াহীদা তানজীম

চতুর্থ বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার



যান্ত্রিকীকরণের এই যুগে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত অংশটি এখন কৃষি। অথচ জিডিপিতে এই কৃষিই ১৯.৬ শতাংশ হারে অবদান রাখছে। এখনও বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কেটে ঘরে আনা পর্যন্ত কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃতির দয়া কামনা করে চলেছে। এ ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত খণ্ডিত হচ্ছে জমি। ফলে বাড়ছে চাষাবাদের বিভিন্ন সমস্যা। আবার ফসল বাজারজাতকরণের জটিল প্রক্রিয়ায় কৃষক পাচ্ছেন না ন্যায্যমূল্য। কৃষি উন্নয়নের অন্তরায় কী হতে পারে, এমন প্রশ্নে প্রথমেই সামনে আসে কৃষিপ্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির অভাব। ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের মতো সহজলভ্য যন্ত্রগুলোও পৌঁছাচ্ছে না প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকের কাছে। উপযুক্ত সময়ে বীজ বপন বা ফসল কাটতে না পারার কারণে বাড়ছে না ফসল উৎপাদনের হার। কৃষকের হাতে উপযুক্ত প্রযুক্তি আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কৃষকদের নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করার জন্য কৃষি প্রকৌশলীদের প্রয়োজন। তাদের গবেষণাই পারে দেশীয় ভূমি আর আবহাওয়ার জন্য যুগোপযোগী কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন করতে এবং কৃষকের সঙ্গে এসব যন্ত্র বা যন্ত্রাংশের মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে।



তানজিমা রিতা

চতুর্থ বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার



বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে কৃষি। কৃষকরাই দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষকের বর্তমান অবস্থা এখন নাজেহাল। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তারা ফসল উৎপাদন করলেও তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। ১ লিটার পানির দাম দিয়ে পাওয়া যাচ্ছিল ২ কেজি ধান, যা সত্যিকার অর্থে আমাদের কৃষকের জন্য অপমানজনক। একদিকে বীজ, কীটনাশক, প্রযুক্তি ও সেচ সব কিছুর মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ধানের দাম হ্রাস পাচ্ছে। আগে যেখানে কৃষকরা ফসলের জন্য মাটি তৈরি থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত সব কাজ হাতে করতে হতো প্রযুক্তি ব্যবহারে এখন অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে গেছে। মোট কথা, যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আমাদের কৃষকের কায়িক পরিশ্রম কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও লাভবান হবে। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি প্রকৌশলীরা কৃষির উন্নয়নে অনেক অবদান রাখে আসছে। আগে কৃষকরা জমি চাষ করত গরু লাঙ্গল দিয়ে। এখন ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে চাষাবাদে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে একদিকে যেমন কৃষকের শ্রম ও সময় কমেছে, অন্যদিকে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে জমি তৈরি, নিড়ানি দেওয়া, ফসল কাটা, মাড়াই করা, শুকানো সবকিছুই আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। দিন দিন আমাদের দেশে জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, কিন্তু খাদ্যের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এ সমস্যা দূর করতে কৃষিপ্রযুক্তি কম সময়ে বেশি উৎপাদন করতে আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। কৃষকের কাছে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সহজীকরণ, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে আমাদের কৃষি প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি প্রকৌশলীদের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে তাদের কাজের সুযোগ প্রদান করলে বাংলার কৃষি উন্নয়নের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।



কফিল উদ্দীন

দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার

দেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওযায় কৃষকরা কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রধানত শ্রমমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এমন সময় কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব। আমাদের দেশে প্রযুক্তি হিসেবে পাওয়ার টিলার ও সেচযন্ত্রই বেশি ব্যবহার করা হয়। বীজ রোপণ, ফসল কাটা, আগাছা কাটা, সার দেওয়া, ফসল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে এখনও যন্ত্রের ছোঁয়া লাগেনি। বর্তমান বিশ্বে কৃষিকাজে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে একটি লাভজনক পেশায় পরিণত করেছে। উন্নত বিশ্বে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক কাজ কম মূল্যে করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এর ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় দেশের কৃষকরা তা ব্যবহার করে না।

এ ক্ষেত্রে যদি কৃষি প্রকৌশলীদের মাঠ পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে কৃষকের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সহজলভ্য যন্ত্রপাতি তৈরি করে কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে যথাযথ সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটাবে। মাঠ পর্যায়ে যদি কৃষি প্রকৌশলীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা, সক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পায় তবেই কৃষকের হাতে হাতে পৌঁছবে প্রযুক্তি। া