ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস


বিজয়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জেসাপ মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০      
বিজয়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিজয়ী ঢাবির আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের রিফাত জাবিন খান, তাহসিন লুবাবা এবং জালাল উদ্দিন আহমেদ - ছবি :সংগ্রহ

সারাবিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের সাতশ'র মতো বিশ্ববিদ্যালয় মুটকোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। এবারের জেসাপ মুটকোর্ট প্রতিযোগিতার ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে বিজয়ী হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লিখেছেন সানজিদা ইমু



মুটকোর্ট সারাবিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইন বিভাগে প্রধান সহ-শিক্ষা কার্যক্রম। এটি মূলত একটি সিমুলেটেড কোর্ট প্রসেডিংস, যেখানে আপিল আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। একটি মুটকোর্ট টিমে সাধারণত তিনজন সদস্য থাকে, তবে সর্বনিম্ন দু'জন থাকতে হবে। দু'জন সদস্য কোর্টের সামনে সাবমিশন দেয়, যাদেরকে মুটার বলে এবং একজন মুটারদের বিভিন্ন তথ্যাদি দিয়ে সাহায্য করে, তাকে বলে রিসার্চার। মুটারদের একটি 'কম্প্রোমি' অথবা ঘটনাবলি দেওয়া হয়, যেটার ভিত্তিতে তাদের ওরাল সাবমিশন দিতে হয়, একই সঙ্গে একটি লিখিত সাবমিশন দিতে হয় যেটাকে 'মেমোরিয়াল' বলা হয়।

ফিলিপ সি. জেসাপ মুটকোর্ট কম্পিটিশনকে মুটিংয়ের বিশ্বকাপ বলা হয়ে থাকে। জেসাপ মুট বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে বড় মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা। ১৯৬০ সালে এই প্রতিযোগিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ল স্কুলগুলোর মধ্য শুরু করা হয়। এরপর ১৯৬৮ সালে প্রতিযোগিতাটা অন্য দেশের ল স্কুলগুলোর জন্যও খুলে দেওয়া হয়। সারা বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের সাতশোর মতো বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশগ্রহণ করে থাকে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী দেশে একটি ন্যাশনাল কোয়ালিফাইং রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। সেই রাউন্ড থেকে সাধারণত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যারা বিজয়ী, রানার্স আপ ও থার্ড প্লেস পায় তারা মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যায়। প্রতি বছর এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই প্রতিযোগিতার মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কোয়ালিফাইং রাউন্ডগুলো বিভিন্ন দেশে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি মুটকোর্ট সোসাইটি (ডিইউএমসিএস) বাংলাদেশে মুটিংয়ের প্রথম সংগঠন। বাংলাদেশে প্রথম মুটিং এই সংগঠন শুরু করে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের অধীনে সিনেট অনুমোদিত একটি সংগঠন। ডিইউএমসিএস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ঢাবির প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে তারা আইন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের মধ্যে প্রতি বছর মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করে যেটার ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দল নির্বাচিত করা হয়। এ ছাড়া ডিইউএমসিএস প্রতি বছর ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ার্কশপ ও বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেশন আয়োজন করে থাকে। জাতীয় পর্যায় ডিইউএমসিএস হেনরি দুনান্ত মুটকোর্ট এবং টিআইবি মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে, যেখানে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টিআইবি-ডিইউএমসিএস মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা ছিল জাতীয় পর্যায় সর্ববৃহৎ মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা যেখানে সারাদেশ থেকে ছাব্বিশটি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবারের জেসাপ মুটকোর্ট প্রতিযোগিতার ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে বিজয়ী হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৪-৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। এবারের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড ছিল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত চতুর্থ কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড, যেখানে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে ছিল আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের রিফাত জাবিন খান, তাহসিন লুবাবা এবং জালাল উদ্দিন আহমেদ। রিফাত জাবিন খান এবং তাহসিন লুবাবা মুটার ছিলেন এবং জালাল উদ্দিন আহমেদ রিসার্চার। প্রিলিমিনারি পর্যায় চারটি দলের সঙ্গে মুটিং করে তারা নকআউট স্টেজে পৌঁছায় সেখানে কোয়ার্টার আর সেমিফাইনালে বিজয়ী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফাইনালে পৌঁছায়। ফাইনালে ঢাবি টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হয়। রিফাত জাবিন খান প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ মুটার হওয়ায় 'বেস্ট মুটার অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করে। া