আচ্ছা দোস্ত, এ বছর কি ক্যাম্পাসে আর দেখা হবে? খুব আক্ষেপ নিয়েই মেসেঞ্জার গ্রুপে বার্তাটি পাঠিয়েছিল মেহেদি। অন্য সময় হলে ওর কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বলতাম, কিরে তোর কি ক্লাস করতে খুব ইচ্ছা করছে, ছুটি কাটা; বাসায় ঘুমিয়ে থাক। কিন্তু এবার আর তা বলতে পারলাম না। ক্যাম্পাসে শেষবার যখন যাই, সেটা ছিল গত ফেব্রুয়ারি মাস। ফেব্রুয়ারিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার পর প্রায় তিন সপ্তাহ সেমিস্টার ব্রেক কাটিয়ে মার্চে ক্যাম্পাসে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও ফেরা হয়নি। সেই তিন সপ্তাহের ছুটি বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় পাঁচ মাস হতে চলল। মাঝে অনলাইনেই শেষ করে ফেললাম একটি সেমিস্টার। এই মাসে নতুন আরেকটি শুরুও করে দিয়েছি। হয়তো এটাও অনলাইনেই শেষ করতে হবে। মাঝেমধ্যে ভাবি, এখন ক্যাম্পাসে থাকলাম কী করতাম? সকালে ঘুম থেকে না উঠতে পারলে কাউকে বলতাম, দোস্ত প্রক্সিটা দিস। টিউশন ফি দেওয়ার শেষ দিনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিউশন ফি নেওয়ার পুরো সিস্টেমে যে গলদ আছে সেটা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করতাম। পরীক্ষার আগের দিন কে কার পাশে বসব, সেটা ঠিক করে গিয়ে দেখতাম সিট প্ল্যান দিয়ে দিয়েছে কিংবা টঙে বসে চা খাওয়ার পর কে বিল দেবে সেটা নিয়েই তুমুল আড্ডা বাধিয়ে ফেলতাম। ক্যাম্পাসের প্রথমদিকের বোকামিগুলো এখন অনলাইনে আমাদের আলোচনার মূল খোরাক হয়ে গেছে। একেবারে ফ্রেশ থাকাকালে ব্যাচমেটকে সিনিয়র ভেবে সালাম দিয়ে পরে আফসোস করে তাজবির। ক্যান্টিনে আড্ডা দেওয়ার সময় জুনিয়র ব্যাচের সবাই এসে পকেট কাটে সিয়ামের। আবার পরীক্ষায় অন্যজনেরটা দেখে লিখেও নিজে বেশি মার্ক পাওয়া নিয়ে গর্ব করে মিশু। মাঝেমধ্যে এগুলো ভাবি আর নিজেই হাসি। প্রতিদিন সকালে উঠে ক্লাসে যাও, টিউশন ফির লাইনে দাঁড়াও, হোস্টেলের তেল-নুন না হওয়া তরকারি। অন্যদিকে হাজারো বোকামি, তবুও ক্যাম্পাস জীবনটাকে অনেক মিস করি। মিস করি একসঙ্গে বটতলার সেই আড্ডাগুলো, বিতর্ক ক্লাবে কথার সেই তুবরিগুলো আর টিচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বন্ধুর প্রক্সি দেওয়ার দিনগুলো। আর মনে মনে বলি ্তুআবার হবে তো দেখা?

মন্তব্য করুন