ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

কেমন চলছে অনলাইনে পড়াশোনা

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২০

গোলাম কিবরিয়া

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী ও সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে এ ধরনের অনলাইন শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম বা উভয় মাধ্যমের পরিচিত স্কুলগুলো ফেসবুক বা জুম ব্যবহার করে অনলাইন পাঠদান গত মাস থেকেই শুরু করে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। অচলাবস্থা চলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কবে নাগাদ এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে, তা জানে না কেউ। ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের মন সচল রাখতে ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। কেমন চলছে এখন অনলাইনে পড়াশোনা। ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি কার্যক্রম প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরীক্ষামূলকভাবে একটি শ্রেণির কার্যক্রম প্রচার করা হয়। পরবর্তী সময় প্রতিদিন সাতটি, প্রতি সপ্তাহে ৩৫টি ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাসেল প্রথম প্রথম খুব মন দিয়ে ক্লাস দেখলেও এখন আর দেখতে চায়। তার অভিভাবক সাহিদা আক্তার বলেন, সরাসরি স্কুলে ক্লাসের পড়া আর টিভিতে ক্লাস অনেক ব্যতিক্রম। তাই বলে এখনই স্কুল খোলার পক্ষপাতী তিনি নন। যতক্ষণ সব স্বাভাবিক না হচ্ছে তার আগে স্কুল না খুলুক এটাই চাই। সবার আগে সন্তানের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে তাই না। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি বিশেষ করে সুপরিচিত স্কুলগুলোতে গত এক মাস ধরেই কখনও ফেসবুক লাইভ কিংবা জুম ব্যবহার করে শিক্ষকরা তাদের ক্লাস নিচ্ছেন। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী ও সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে এ ধরনের অনলাইন শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম বা উভয় মাধ্যমের পরিচিত স্কুলগুলো ফেসবুক বা জুম ব্যবহার করে অনলাইন পাঠদান গত মাস থেকেই শুরু করে। তবে শহরাঞ্চলে ঠিক কত স্কুল অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে আর কতগুলোতে চালু করা যায়নি তার কোনো হিসাব নেই। আবার সরকারি স্কুলগুলোতে অনলাইনের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে সংসদ টিভির মাধ্যমে স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান প্রক্রিয়াকে।

বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি ২৮ মার্চ মেসেজের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জানান, ২৯ মার্চ থেকে পুরোনো রুটিন অনুযায়ী অনলাইন ক্লাস চলবে। যা এখন পর্যন্ত চলছে। প্রত্যেকে বাসায় নিরাপদে থেকে স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারের সাহায্যে অনলাইন ক্লাসে জয়েন করছে। এর আগে কয়েকটি ডেমো ক্লাস নেওয়া হয়। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত হচ্ছে গুগল ক্লাসরুম ও গুগল মিটস।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. ইকরামুজ্জামানের বলেন, ্তুআমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নর্থসাউথ মেইল রয়েছে। নিজ নিজ মেইলের মাধ্যমে গুগল ক্লাসরুমে লগইন করতে পার। পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ রাখার চেয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়াটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজুম সুমাইয়া জানান, ব্যবহারিক ক্লাসগুলো নিয়েই বেশি চিন্তায় আছেন তারা বর্তমানে। কারণ প্রকৌশল শিক্ষার বাস্তবিক পাঠদান আর অনলাইন পাঠদানে রয়েছে বিস্তর ফারাক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ যে নির্দেশনা তাতে দেখা যাচ্ছে, অসমাপ্ত পাঠ্যসূচির অনলাইন ক্লাস থাকবে কিন্তু ল্যাবরেটরিভিত্তিক ক্লাস পরে স্বাভাবিক অবস্থা এলে শেষ করা হবে।

এ ছাড়াও বেশ কিছু বাধা বা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে। প্রথমেই বলা যায় নেটওয়ার্কিং সমস্যা। দেখা যায়, অনলাইনে ক্লাস করা হয় বা নেওয়া হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে, ফলে এসব ইন্টারনেট চালিত করা হয় মোবাইলের বিভিন্ন সিমকার্ডের দ্বারা। ফলে এতে প্যাকেজ ডাটা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণই ক্লাসের সুবিধা পাওয়া যাবে। ডাটা শেষ হলেই ক্লাস হতে বঞ্চিত হতে হয়। এরপর ক্লাস চলাকালে নেটওয়ার্ক কেটে যাওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই। যেসব শিক্ষার্থী প্রান্তিক অঞ্চলে থাকে তাদের জন্য নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকে অনেক বেশি।

ফলে তারা অনলাইন ক্লাসগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছে অবিরত। এরপর আসা যাক মনোস্তাত্ত্বিক বিষয় সম্পর্কে। পাঠক্রমে কিছু বিষয় থাকে, যা মুখস্থবিদ্যা নয়, যা পুরোপুরি সাইকোলজিক্যালের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা কার্যত অনলাইন শিক্ষার এ সুযোগ থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। এত সংকটের মধ্যেও জয় হোক মানবতার। একদিন পৃথিবী সুস্থ হবে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিরে পাবে আপন প্রাণ। া