ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

মেধাবী মুখ

ধৈর্য হারালে চলবে না

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাইফুল ইসলাম

বাবা-মা চেয়েছিলেন আমি ডাক্তার হই। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে মেডিকেলের জন্য প্রিপারেশন নেই। কিন্তুু অল্পের জন্য মেডিকেলে চান্স হয়নি।

মেডিকেলে চান্স না পেয়ে পরে ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। এভাবেই নিজের কথাগুলো বলছিলেন ৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কাজী রবিউস সারোয়ার।

কাজী আবুল কাশেম ও মা শাহিনা আক্তার। সারোয়ার জন্মগ্রহণ করেন কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায়। বাবা সাবেক কম্পিউটারের প্রশিক্ষক ও মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। সারোয়ার বলেন, ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে কার্টুনিস্ট হওয়ার। কিন্তু সুযোগের অভাবে ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই ইচ্ছাটা অপূর্ণ থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার ইচ্ছা ছিল। যেহেতু আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে তাই বিদেশ যাওয়া হয়নি। এ ছাড়া অনার্স শেষ করে আইবিএর জন্য ট্রাই করি। যার জন্য মাস্টার্স করতে এক বছর দেরি হয়েছে। আমি সব সময় দু-তিনটি করে টিউশনি করতাম। চাকরির ক্ষেত্রে আমার গণিত ও ইংরেজিতে অনেক হেল্প হয়েছে। বিসিএসের প্রস্তুতিটা অনেক দীর্ঘ, তাই ধৈর্যটা জরুরি। আমি যখন মাস্টার্সে পড়ি, তখন থেকে বিসিএসের প্রস্তুতি নেই। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতে বিসিএসের পড়া শুরু করে দেয়, ফলে অনেকেই কিছুদিন পর ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। যে যেই বিষয়েই অনার্স করি তার সম্পর্কে অবশ্যই ভালো ধারণা রাখতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় সঠিক উত্তর না দিতে পারলে একটা খারাপ প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন।

যারা বিসিএস দেবেন তাদের জন্য বলব, বিসিএস পরীক্ষা দিতে হলে সর্বপ্রথম বিসিএসের সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। প্রস্তুতির শুরুতেই বিগত ১০ বছরের সব প্রশ্ন অবশ্যই সমাধান করতে হবে। সবকিছুর আগে ঠিক করে নিতে হবে সিভিল সার্ভিসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব কিনা। প্রিলিমিনারি পাসের জন্য কী কী পড়তে হবে, সেগুলোর পাশাপাশি কী কী পড়ার দরকার নেই- সেগুলোও জানতে হবে। জীবনেও পরীক্ষায় আসবে না এমন টপিক একবার পড়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক বারবার পড়া অনেক ভালো। যেহেতু বিসিএস একটি দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগ কার্যক্রম, তাই এটা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ইংরেজি ভাষা, গাণিতিক দক্ষতার ভিত সবল থাকলে প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখা যায়। নিয়মিত পত্রিকা পড়া, বিবিসি, সিএনএনের মতো সংবাদ চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত কিছুক্ষণের জন্য চোখ বুলানো ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। া