ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

অপেক্ষা বন্ধুর জন্য

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাছিবুল বাসার মানিক

বন্ধু ও বন্ধুত্ব মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনচলার পরিক্রমায় বন্ধুদের ভূমিকা অপরিসীম। স্কুল-কলেজের বন্ধুদের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বের দিনগুলো সব শিক্ষার্থীর কাছে রোমাঞ্চকর স্মৃতি বটে!

নির্ঘুম রাতকে সঙ্গী করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে যখন পা দিই, বন্ধুরাই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আপনজনে পরিণত হয়। নিজ গৃহের বাইরে ক্যাম্পাসে থেকে বুঝতে পারলাম বন্ধুরাই পরিবারের পর সবচেয়ে বেশি আপনজন। বন্ধুত্ব বিষয়টা মূলত উপলব্ধি করতে শিখেছি ক্যাম্পাসে এসেই। এদের কাছেই তো শিখেছি, কীভাবে মানুষকে কাছে টেনে নিতে হয়, বিপদ-আপদে কাঁধে কাঁধ রেখে পাশে থাকতে হয়। সবারই তো কমবেশি বন্ধু থাকে। আর বন্ধু থাকলেই হবে দেখা, হবে কথা, হবে অনাবিল আড্ডা, গান, আনন্দ কভিড-১৯ প্রকোপে পুরো পৃথিবীর সঙ্গে প্রিয় স্বদেশও আজ বিধ্বস্ত। সেই ধারাবাহিকতায় প্রিয় ক্যাম্পাস আজ কয়েক মাস বন্ধ। রঙিন ক্যাম্পাস আজ মলিন। প্রিয় বন্ধুরাও বাসায় অলস সময় পার করছে। সবাই মিস করছে প্রিয় ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে। এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কবে খুলবে প্রিয় ক্যাম্পাস।

প্রথম বর্ষের শুরু থেকে করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত মনে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একসঙ্গে টিএসসি প্রাঙ্গণে আড্ডা দেওয়া, ক্লাসের শেষে একটু গলা ফাটিয়ে গান গাওয়া, ডাকসুতে চায়ের আড্ডা, শ্যাডোতে শিট ফটোকপি করার জন্য দীর্ঘ লাইনকে বেশ মিস করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবনে সাহিত্য আড্ডা, ক্যারিয়ার আড্ডা কিংবা গানের আড্ডায় বন্ধুরাই সবসময় আনন্দ জুগিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যখন অংশ নিই, বন্ধুরাই সামনে থেকে অনুপ্রেরণা ও অভিবাদন দিয়েছে। সব ছাপিয়ে বন্ধুদের স্মৃতি ভোলা সহজ নয়। রাতে একসঙ্গে দলবেঁধে ক্রিকেট খেলা কিংবা নিশাচর হয়ে ভ্রমণের দিনগুলো যেন এখনও চোখে ভাসে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যাচ হলে একসঙ্গে উপভোগ করা কিংবা বিভিন্ন কনসার্টে যাওয়ার স্মৃতিগুলো বন্ধুত্বের দিনগুলোকে বেশ মনে পড়ে।

কখনও ক্লাসে উপস্থিতি দিয়ে, কখনও অ্যাসাইনমেন্ট, নোট করে দিয়ে হেল্প করা বন্ধুদের আজ ভীষণ মিস করি। রোকেয়া হলের আমবাগান থেকে আম ও ইন্টারন্যাশনাল হল প্রাঙ্গণের লিচু গাছ থেকে রাতে লিচু চুরি করে খাওয়ার দিনগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল। একসঙ্গে আমরা বইমেলায় গিয়েছি। নিজেদের মধ্যে বই বিনিময় করেছি। বন্ধুর সঙ্গে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই যেন অমূল্য হয়ে ধরা দেয় স্মৃতির পাতায়।

যাদের বন্ধু নেই তারা বিষণ্ণতায় ভোগে, একাকিত্ব গ্রাস করে নেয় সবদিক থেকে। ছন্দহীন জীবনে ছন্দ আর নিরানন্দ জীবনে আনন্দের জোয়ার যোগ করতে তাই বন্ধুর জুড়ি নেই। আবার সে বন্ধুদের ছেড়ে চলে যাওয়াটাও সবচেয়ে কষ্টের। তবে করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও আমরা ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে ঠিকই বন্ধুত্বে বন্দি আছি। প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছি। তবে সবাই মিলে প্রত্যাশা রাখছি আবারও আমাদের দেখা হবে। আবারও আড্ডা হবে। সেই নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখে আজও দিন পার করছি। আশা করছি দ্রুতই করোনার কালো মেঘ কেটে যাবে। আবারও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে প্রাণের ক্যাম্পাসে। া