ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

সব সময় সবার পাশে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্বপ্নোত্থান'

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২০

রাজীব হোসেন

'আমি শুনেছি তোমরা নাকি এখনও স্বপ্ন দেখো/এখনো গল্প লিখো, এখনও গান গাও প্রাণভরে।/মানুষের বাঁচা-মরা এখনও ভাবিয়ে তোলে,/তোমাদের ভালোবাসা এখনও গোলাপে ফোটে।' শিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া গানের এ কথাগুলোই যেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'স্বপ্নোত্থান'-এর। এই সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের পড়াশোনা ও টিউশনিসহ নানা ব্যস্ততার মধ্যে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। জীবন যাদের দুঃখে গাঁথা তাদের সঙ্গে বসে গান, গল্প ও স্বপ্ন দেখান এক সুন্দর জীবনের। মানুষের বাঁচা-মরা যেন সবসময়ই তাদের ভাবিয়ে তোলে। তারা ভালোবাসা দিয়ে সব মানুষের জীবন গোলাপে ফোটাতে চান। মহামারি করোনাভাইরাস তাদের কাজে সাময়িক বাধা এনেছে ঠিকই, তবুও এর মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। স্বপ্নোত্থানের এই তরুণ শিক্ষার্থীরা সিলেট শহরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, রক্তদান এবং চ্যারিটিসহ সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে থাকেন। এ দেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। সমাজে কোনো মানুষই অবহেলিত থাকবে না- এমন স্বপ্ন নিয়ে তারা এখন এক সুন্দর পৃথিবীর অপেক্ষায় আছেন।

স্বপ্নবাজ শফিকুর রহমানের হাতে ২০০৭ সালের ১ আগস্ট গড়ে উঠেছিল 'স্বপ্নোত্থান'। প্রথম দিকে সিলেট শহরের শেখঘাটে অবস্থিত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলে তারা কাজ শুরু করেছিলেন। সেখানে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ক্লাস নিতেন। পরে তারা ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শহরের শ্রমজীবী শিশুসহ সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক শিশুকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ান।

অন্যদিকে সিলেটের খাদিমনগর 'মহিলা পুনর্বাসন' কেন্দ্রে 'স্বপ্নোত্থান'-এর নারী সদস্যরা গিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের নারীদের সময় দিতেন, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেন এবং মানসিক সাহস দিতেন। সেখানে স্বপ্নোত্থানের কর্মীরা তাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তারা তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজ শেখাতেন। এ ছাড়া শীতকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শীতবস্ত্র বিতরণ, প্রতি ঈদে তাদের স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈদবস্ত্র বিতরণ, বইমেলার আয়োজন ও বন্যায় ত্রাণ বিতরণসহ মানুষের সেবায় নানামুখী কাজ করে থাকেন। কিন্তু করোনা এই স্বপ্নবাজদের থামিয়ে দিয়েছে। শাবির স্বপ্নোত্থানের স্বেচ্ছাসেবীরা মনে করেন, 'আমরা প্রত্যেকে সমাজের কাছে মানবিক এবং ব্যক্তিগত কারণেই দায়বদ্ধ। আর সে দায়বদ্ধতা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব, যদি স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যক্তি অথবা সমাজের কল্যাণে কাজ করা যায়।'

স্বপ্নোত্থানের সভাপতি মোসাদ্দেক হাসান রাকিব বলেন, 'আমাদের প্রাপ্তি হলো মানুষের ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তি। এটি ভাবতেই ভালো লাগে যে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু একটা করতে পারছি। আমরা মনে করি, দেশের সব শিশুরই শিক্ষা লাভসহ সবার সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার আছে। আর এই অধিকার নিশ্চিতকরণে স্বপ্নোত্থান সব সময় করে যাবে।'