ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

চিটাগং ইউনিভার্সিটি স্টু্কল অব ডিবেট

দেশ গড়বে তার্কিকরা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২০

রুমান হাফিজ

সংস্কৃতির সবচেয়ে নান্দনিক মাধ্যম হচ্ছে বিতর্কচর্চা। 'যুক্তি বোধের উন্মোচনে সহযোগ সম্মিলন' স্লোগান সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে এই বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার নেতৃত্ব দিয়ে আসছে চিটাগং ইউনিভার্সিটি স্টু্কল অব ডিবেট (সিইউএসডি)। এই সংগঠনের শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালে রওশন ফাতেমা মুনের হাত ধরে। একদল স্বপ্নবাজের হাতে তৈরি এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল বিতর্ককে প্রতিযোগিতার টেবিল আর রুমের চার দেয়ালে আটকে না রেখে এর আদর্শকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, ট্রফি-ভিত্তিক সংগঠন না হয়ে বিতর্কের অন্তর্নিহিত আদর্শ, পরমতকে শ্রদ্ধা করা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক মূলবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরি করা।

সেই তর্কযোদ্ধাদের বিতর্ক বাগ্মিতায় মুখর ছিল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিইউএসডি প্রতি বছর নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করে মাসব্যাপী বিতর্ক কর্মশালা। গত ১০ বছরের বিতর্ক কর্মশালায় সিইউএসডি হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে বিতর্কের আলো। এ ছাড়া দুটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, একটি ইন্টার ক্লাব বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তিনটি আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করেছে সিইউএসডি। করোনায় থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। বেশকিছু আয়োজন এরই মধ্যে অনলাইনে সম্পন্ন করেছেন তারা। সম্প্রতি 'বঙ্গবন্ধু প্রবন্ধ ও ভাবনা প্রতিযোগিতা' শীর্ষক ইভেন্টটি শেষ হয়েছে। যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

বিতর্ক কখনও আমাদের পরাজিত করে সন্ধান দেয় সত্যের, আবার কখনও বিজয়ের মুকুট পরিয়ে মেলে ধরে সম্ভাবনাময় আগামীর। সিইউএসডির বিতার্কিকরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

গত বছর সিইউএসডির বিতার্কিকরা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় নারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ, নিলস জাতীয় আইন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ, বাংলাদেশ টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

চিটাগং ইউনিভার্সিটি স্টু্কল অব ডিবেটের (সিইউএসডি) বর্তমান সভাপতি সজল দাস বলেন, 'বিতর্ক উপভোগ করার পাশাপাশি আমাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি বিনিময়ের দ্বার উন্মোচন করে। সে সঙ্গে চেতনায় ফুটে ওঠে দেশ, মা, মাটি এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ।