ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

বন্ধু আর কত অপেক্ষা

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২০

রাকিব মাহমুদ

বন্ধু আর কত অপেক্ষা

বন্ধুত্ব আবার পূর্ণ হোক আড্ডায় - ছবি :লেখক

নির্ধারিত ক্লাস বাতিল হলে ক্লাসরুমেই আড্ডা জমিয়ে ফেলা বন্ধুটি আজ বাড়িতে বসে সেই সময়গুলো অনুভব করছে। সকালে খেয়ে না এসে দুপুরবেলা ক্যাফেটেরিয়ার শিঙাড়া কাড়াকাড়ি করে খাওয়া বন্ধুরা সেই শিঙাড়ার স্বাদ ভুলে গেছে। আড্ডায় নিজেদের ভেতর চেপে রাখা অন্যায়-অবিচারের কথা মন খুলে বলতে পারা বন্ধুরা এখন কথা বলতে না পেরে নিশ্চয়ই ছটফট করছে। সারাদিনের ক্লাস শেষ করে ক্লান্ত শরীরে টং দোকানে বসে আড্ডা দিতে দিতে লেবু চা বা মামা হোটেলের চপ-পেঁয়াজু কিংবা কোনো মামার ঝালমুড়ি খাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের রোজ বিকেলের নাশতার মেন্যু এমনই। এই মেন্যুতেই আমাদের রাজ্যের সুখ। ক্লাস শেষ করে বন্ধু মহলের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে শহীদ মিনারে চলে যাওয়া, যেখানে গানের আসর জমত বেশ। খেলার মাঠে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত মশার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলা খুনসুটি আড্ডা। আলোর মুখ না দেখা হাজারটা পরিকল্পনা করে সময় নষ্ট করা। কোনো একজন বন্ধুকে ধরে এনে টংয়ে বা মামা হোটেলে বসিয়ে তার পকেটের ওপর সুনামি বয়ে যাওয়া। এক প্লেটে খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি। প্লেটের শেষ পেঁয়াজুটা নিয়ে রাজ্য জয়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পকেটের জোর বেশি থাকলে মাসে দু-একবার দল বেঁধে রেস্টুরেন্ট অথবা ফাস্টফুডের দোকানে বসে চলে সেই আড্ডা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সারাদিন ঠিক ওপরের চিত্রগুলোই দেখা যায়। কিন্তু আজ সে চিত্র কোথায়? যেন এক শতাব্দী আগে আমরা এমন আড্ডা দিতাম।

গত সাত মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা ক্যাম্পাস যেন এক মনুষ্যহীন নগরী। হাজার হাজার শিক্ষার্থী জীবনের সুখ-দুঃখ কিংবা উত্থান-পতনের সাক্ষী কুবি ক্যাম্পাসের লালমাটি যেন একাকিত্বে নীরবে ব্যথিত হৃদয়ের শোক প্রকাশ করে যাচ্ছে। নিজেকে আরও সবুজ করে অপেক্ষা করছে মহামারি শেষে তার নিত্যদিনেরসঙ্গীদের বরণ করে নিতে। ঘাসের চাদর বিছিয়ে রেখেছে কবে আমরা ফিরে সে চাদরে বসে মেতে উঠব নিজেদের আলাপে। দিনের পর দিন নিজ ঘরে বসে আড্ডায় অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করা শিক্ষার্থী হয়তো এসব মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে যাচ্ছে।

পড়ালেখায় ফাঁকিবাজ কোনো শিক্ষার্থী হয়তো শ্রেণিকক্ষের থেকে বাবুই চত্বরে বসা আড্ডার অভাব বেশি অনুভব করছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গেই দল বেঁধে মুক্তমঞ্চে বসে গিটারের সঙ্গে গলা মেলানো ছেলেমেয়েগুলো কত দিন গলা ছেড়ে গান গায় না। তাই আজ চিৎকার করে বলি, 'এই মহামারি শেষ হোক।' মহামারি শেষে জমে থাকা এসব আড্ডা প্রাণ ফিরে পাক। ক্যাম্পাসের কোনো এক পাশ থেকে শোনা যাবে বেসুরে গলায় গান। হোটেলের কারিগরগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়বে বিকেলের নাশতা তৈরিতে। টং দোকানের বেঞ্চগুলো ভরে উঠুক এক কাপ লেবু চায়ের আশায়। আমাদের বন্ধুত্ব আবার পূর্ণ হোক আড্ডায়।