আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, বৃত্তি, গ্রুপ ওয়ার্ক, মুক্তচিন্তার পরিবেশ পশ্চিমইউরোপের উন্নত দেশ সুইডেনকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে শিক্ষার্থীদের কাছে। উচ্চশিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যজানাচ্ছেন সুইডেন থেকে মারুফ রায়হান

আমি এখানে প্রায় তিন বছর ধরে সুইডেনে আছি। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে পড়ছি। পরিবেশ বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিং- এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইডেনকে আদর্শ বলা হয়। আরও কিছু বিষয় যেমন এমবিএ, টেলিকমিউনিকেশন, আইন, ম্যাথমেটিকস, জনস্বাস্থ্য, আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন, মেডিকেল, অর্থনীতি, ভূগোল, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম ও মিডিয়া বিশ্বমানের। উত্তর ইউরোপে বাল্টিক সাগরতীরের দেশ সুইডেন। শিক্ষা, গবেষণা, চাকরি ও ব্যবসার জন্য পৃথিবীর বহু দেশ থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে এ দেশে।

পড়াশোনার বিষয়: এ দেশটিতে যেসব বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে সেগুলো হলো পরিবেশ বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিং, এমবিএ, টেলিকমিউনিকেশন, আইন, গণিত, জনস্বাস্থ্য, আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন, মেডিকেল, অর্থনীতি, ভূগোল, হিউম্যান রিসোর্স, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম ও মিডিয়া, লাইফ সায়েন্স ইত্যাদি। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই ব্যয়বহুল। তাই সুইডেনে পড়তে গেলে বেস্ট অপশন হলো স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় ও টিউশন ফি: সুইডেনে বেশ কয়েকটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই দেশীয় সরকারি তহবিলে পরিচালিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিন বছর মেয়াদি ব্যাচেলর, দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স এবং পিএইচডি করার সুযোগ আছে। সুইডেনের শিক্ষাব্যবস্থা সব স্তরেই অনেকটা গবেষণানির্ভর। আর এ কারণেই সারা বিশ্বের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এর চাহিদাও অনেক বেশি। এখানে ব্যাচেলর প্রোগ্রামের জন্য ১২ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য ১৬ বছরের শিক্ষা যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় এখানে টিউশন ফি অনেক কম। তবে এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে।

সুইডেনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় রয়েছে ইংরেজি ভাষায় প্রায় ৯০০ স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেলে বিশাল অঙ্কের টিউশন ফি দেওয়া লাগবে না, যা একটা বড় প্রাপ্তি। যেহেতু টিউশন ফির চাপ নেই সেক্ষেত্রে শুরুতেই থাকা-খাওয়া বাবদ কয়েক মাসের টাকা সঙ্গে করে নিয়ে এলে পরবর্তী সময়ে একটা খণ্ডকালীন কাজ জোগাড় করে মাসিক খরচ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে কাজের ক্ষেত্রে সুইডিশ ভাষা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সুইডেনে বিভিন্ন বৃত্তির মধ্যে অন্যতম এসআই স্কলারশিপ। আবেদনের জন্য প্রথমে সুইডেনে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন করতে হবে। প্রায় সব বিষয়েই ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য লাগবে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং আইইএলটিএস। একটি অ্যাপ্লিকেশনে চারটি বিষয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার পছন্দের কোর্স এবং এ সংক্রান্ত সব তথ্য খুঁজে পাবেন  www.universityadmissions.se সাইটে। এসআই স্কলারশিপে আবেদনের জন্য বাড়তি হিসেবে লাগবে তিন হাজার কর্মঘণ্টা কাজের অভিজ্ঞতা, ফুলটাইম কাজ করলে যা প্রায় দেড় বছরের কাজের অভিজ্ঞতার সমতুল্য। এসআই স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে অনেক সুযোগ-সুবিধা। রয়েছে এককালীন ১৫ হাজার ক্রোনারের ভ্রমণ অনুদান এবং স্বাস্থ্যবীমা, ভিসা ফিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ।

ভর্তির জন্য বিষয়ভিত্তিক বেশ কিছু শর্ত (স্নাতক ডিগ্রি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোটিভেশন লেটার/স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেফারেন্স লেটারস, সিভি ইত্যাদি) পূরণের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাগত যোগ্যতা যেমন- ন্যূনতম আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোরের কথা বলা থাকে।

সুইডেনের প্রথম সারির কয়েকটি ইউনিভার্সিটি

Stockholm University-https://www.su.se/cmlink/stockholm-university
lLund University-https://www.lunduniversity.lu.se/
lUppsala University-https://www.uu.se/en/admissions/
l University of Gothenburg-www.gu.se/en

মন্তব্য করুন