ঘুমের ওষুধ খায় অনেকেই। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া। ফলে মুখের ভেতর শুকিয়েও যায়। আর এসবই এর ছোটখাটো প্রতিক্রিয়া। তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসা থেকে শুরু করে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। যদিও এ সমস্যাগুলো কদাচিৎ দেখা যায়, কিন্তু ঘুমিয়ে থাকলে এগুলো বোঝা মুশকিল।

কঠিন সতর্কতা


স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির জন্য ২০০৭ সালে সব ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা সিগারেটের প্যাকেটের মতো করে এই ওষুধের গায়েও পরিস্কার করে লেখার কথা সুপারিশ করেছিলেন আমেরিকার 'ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই তারা এমন সুপারিশ করেছিলেন। এ ছাড়াও ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বলা হয়েছিল-

ূ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের চিঠি দিয়ে ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানাতে।

ূ ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাও ওষুধ বিক্রির আগে রোগীদের জানিয়ে দিতে।

ূ তা ছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর ক্ষেত্রে গবেষণায় মন দিতে।

পূর্ব সতর্কতা

ূ এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর যখন চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হবেন তখন শুরুতেই আপনি চিকিৎসককে আপনার যে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগের কথা জানান।

ূ ওষুধ নেওয়ার আগে ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কিত গাইড লাইনটা পড়ে নিন।

ূ ওষুধের মাত্রা বাড়ানো-কমানোয় অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ থাকা জরুরি।

ূ নেশা জাতীয় কোনো ওষুধ নিলে তাও পরিত্যাগ করুন। কারণ এসবই আপনার নার্ভাস সিস্টেমকে তলানিতে নিয়ে ছাড়ে!

ূ আর হুটহাট করে যেমন এটা খাওয়া যাবে না, তেমনি কোনো ব্রেক ছাড়া বন্ধও করা যাবে না। সব কিছুতেই ডাক্তারের পরামর্শ থাকা চাই।

ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

ূ প্রতিদিন রুটিন করে একই সময় ঘুমান ও ঘুম থেকে উঠুন।

ূ ঘুমের দু'ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করা যাবে না।

ূ খেয়েই ঘুমানো যাবে না। বেলা ৩টার পর ঘুমাবেন না।

ূ অন্ধকার, খুব ঠান্ডা বা অনেক গরম এমন জায়গায় ঘুমাবেন না।

ূ শোয়ার ২০ মিনিটে যদি ঘুম না আসে তবে উঠে এমন কিছু করুন যাতে ঘুম আসে। আর ঘুমের ২০ মিনিট আগেই সব ছেড়ে ছুড়ে রিলাক্সড হয়ে যান।

ঘুম সংক্রান্ত অজানা তথ্য

ূ ঘুমের সময় মস্তিস্ক সজাগ থাকে।

ূ কম ঘুমানো উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ূ রাতে না ঘুমানো রোগ বা ইনসমনিয়া মহিলাদের মধ্যে বেশি হয়, অবসাদগ্রস্তদের এবং ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

সুস্থ থাকতে যতটুকু ঘুম চাই

ূ প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। তবে এই ঘুমটা রাতে হলেই ভালো। অর্থাৎ দিনের ঘুম এড়িয়ে চলুন।

ূ নবজাতদের দিনে ১৬ বা ১৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। এই ঘুম যে কোনো সময়ই হতে পারে। স্কুলে না যাওয়া বাচ্চাদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা দিনে ঘুমানো উচিত।

ূ আর স্কুলের বাচ্চাদের ও কম বয়সীদের অন্তত ৯ ঘণ্টা রাতে ঘুমানো উচিত।

তো এভাবে চালিয়ে যান ঘুমের রুটিন। এতে করে আপনার দুশ্চিন্তা আর ঘুমের ভৌতিক রোগ আশা করি সেরে যাবে সহজেই!

মন্তব্য করুন