করোনা মহামারির শুরু থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা শাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত করোনা শনাক্তের ল্যাবে স্বেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু করোনা শনাক্তকরণ নয়; সিলেট অঞ্চলে করোনার ধরন, পরিবর্তন ও জীবনরহস্য নিয়েও গবেষণা করছেন তারা। করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে কাজ করা শিক্ষার্থী সালমান বলেন, 'আমদের এখানে ল্যাব স্থাপনের পর দুই ঈদ গেল। বিগত দুই ঈদের দিনেও আমরা কাজ করেছি। ল্যাবের কাজে চাপ থাকলেও আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ করে মানুষকে রিপোর্ট দিয়ে দিতে। যাতে তারা রিপোর্ট হাতে পেয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারে।' করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে কাজ করা আরেক স্বেচ্ছাসেবী রকিব ওয়াজেদ নয়ন বলেন, 'আমরা বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছি। এমন ল্যাবে বায়োসেইফটি, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করে কাজ করার অভিজ্ঞতা পুরোনো। প্রথম থেকে এমন সুযোগ খুঁজছিলাম। সেই হিসেবে এই কাজে অবদান রাখা আমাদের জন্য অনেকটা সহজ হয়েছে।'

২০২০ সালের ১৮ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন শাবিতে করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব উদ্বোধন করেছিলেন। ল্যাব স্থাপনের পর থেকে ওই বিভাগের শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটদের ২৫ জনের একটি টিম নিয়মিত নমুনা শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ডিএনএ এবং আরএনএ'র মতো জিনতত্ত্ব নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি ল্যাবে করোনা শনাক্তের পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলে করোনা নিয়ে গবেষণা করে করোনাভাইরাসের নতুন ছয় ধরনের পরিবর্তন ও জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে এই স্বেচ্ছাসেবী গবেষক দল। করোনার নতুন ছয় ধরনের এই পরিবর্তন শনাক্ত বিশ্বে এটাই প্রথম। এ ছাড়া বাংলাদেশে নতুন কিন্তু বহির্বিশ্বে আগে শনাক্ত হয়েছে- এমন ২৪ ধরনের করোনার পরিবর্তন ও জীবনরহস্য উন্মোচিত হয়। তাদের গবেষণায় পাওয়া জিন বিন্যাস, বিশ্নেষণ ও পর্যালোচনায় সিলেট বিভাগে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সঙ্গে ইতালি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, রাশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে আগে পাওয়া করোনার সাদৃশ্য ছিল। স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, 'এই জীবনরহস্য বা করোনার ধরন দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে ও ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে অধিকতর গবেষণায় কাজে আসবে।'

মন্তব্য করুন