জুনাইদ আল হাবিব। পড়ছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, বাংলা বিভাগে। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরমার্টিন গ্রামে বেড়ে ওঠা জুনাইদ ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন উপকূল অঞ্চলের মানুষের কষ্ট। মাধ্যমিকে পা রাখার পর জুনাইদ উদ্যোগ নেন মানুষের জন্য কিছু করার। সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ান উপকূলীয় অঞ্চলের অসহায়, হতদরিদ্র, নদীভাঙা ও চরের মানুষের পাশে। ঈদে শিশুদের নতুন জামা, শীতবস্ত্র, করোনা ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার দেওয়া থেকে শুরু করে অসহায়দের পুনর্বাসনও হয়েছে জুনাইদের প্রচেষ্টায়। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঘর পেয়েছে নদীতে ঘর তলিয়ে যাওয়া মানুষ। শুধু তাই নয়, তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে চিকিৎসা হয় প্যারালাইজড রোগীর।

এ ছাড়া করোনার শুরু থেকে করছেন জনসচেতনতার কাজ। বিতরণ করছেন মাস্ক। সচেতনতা তৈরিতে বাজারে বাজারে করছেন ভ্রাম্যমাণ সভা। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে। ২০১৭ সালে প্রথম সামাজিক কাজের উদ্যোগ নেন জুনাইদ। সে বছর ঈদে শিশুদের মাঝে নতুন জামা বিতরণ করেন। প্রথম বছরেই ৬৫ জনের মাঝে ঈদ পোশাক বিতরণ করেন। ২০১৮ সালে পরিসরটা বড় হয়। দুই শতাধিক শিশুকে ঈদের নতুন পোশাক দেন দ্বিতীয় বছর। গত শীতে আড়াইশ' পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন শীতবস্ত্র।

সামাজিক কাজের কথা চিন্তা করে জুনাইদ একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন। তাতে চরাঞ্চলের দুর্বিষহ জীবন এবং অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষদের জীবনযাত্রার মান ও তাদের গল্প তুলে ধরা হয়। জুনাইদ স্বপ্ন দেখেন, তার বেড়ে ওঠা দ্বীপ অঞ্চলের মানুষ এক সময় ঘুরে দাঁড়াবেন। তারাও একদিন পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখবেন।

মন্তব্য করুন