করোনাজীবন প্রতিনিয়ত আমাদের মানসিক চাপ নিয়ে তাড়া করে। এতে যে কেউ যে কোনো সময় অসুস্থতার সঙ্গে আপস করছে। এই মানসিক চাপটা প্রতিনিয়ত আমাদের কুরে কুরে খায়। অনেকেই এর সমাধান খোঁজেন। তবে এর বড় সমাধান নিজের ভেতর থেকেই বের করে নিতে হবে। ফলে মানসিকতার সঙ্গে শারীরিক নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনই ১০টি সমস্যা হাজির করা হলো আজ-

রক্তচাপ আর হূৎস্পন্দন


গবেষকরা আগেই বলছেন, মানসিক চাপের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, আর হৃদস্পন্দনও। ঠিক কারণটা না জানা গেলেও এর মানসিক চাপ থেকে যুক্ত করা মুটিয়ে যাওয়া আর ধূমপান হৃদরোগের মারাত্মক অবনতি ঘটায় পরোক্ষভাবে। ডাক্তাররা এও জানান, হঠাৎ সৃষ্ট মানসিক চাপ থেকে ঘটতে পারে হৃদযন্ত্রে আক্রমণ। তাই যাদের হৃদরোগ আছে তাদের মানসিক চাপ এড়ানোর উপায় খুঁজতে হবে। কিছু চাপ, যেগুলো এড়ানো সম্ভব নয়, তার সঙ্গে আপস চাই হৃদরোগীদের।

বাড়িয়ে দেয় হাঁপানি

মানসিক চাপ হাঁপানি আরও বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় এও প্রমাণিত, পিতা-মাতার মানসিক চাপের কারণে হাঁপানি তাদের থেকে বাচ্চাদের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সন্তান গর্ভে থাকাকালে মানসিক চাপ ধূমপান অথবা বায়ুদূষণের মতোই সন্তানের হাঁপানির কারণ হতে পারে।

কর্টেসল হরমোন

শরীরে জমে যাওয়া মেদ ঠেলে দেয় মারাত্মক সব স্বাস্থ্যগত সমস্যার দিকে। মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টেসল হরমোন বেড়ে যায়। আর এই বেড়ে যাওয়ার মাত্রা তলপেটে মেদ জমার কারণ হয়।

ভিন্ন পথে ডায়াবেটিস

মানসিক চাপ দু'ভাবে ডায়াবেটিসকে খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্রথমত, এ থেকে বাড়ে ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো কাজগুলো। যেমন অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, মানসিক চাপে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের।

মাথা ধরার অন্যতম কারণ

মাথা ধরার কারণগুলোর মধ্যে প্রধান মানসিক চাপ। শুধু সাধারণ টেনশনের জন্য সৃষ্ট মাথাব্যথা নয়; এমনকি মাইগ্রেনের কারণও মানসিক চাপ।

হতাশা আর দুশ্চিন্তার সম্পর্ক

এতে বিস্ময়ের কিছু নেই- মানসিক চাপ, হতাশা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। খুব অল্প বেতনে বেশি কাজ করতে হয়- এমন একদল মানুষ যারা মানসিক চাপে থাকেন তাদের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে তাদের তীব্র হতাশায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৮০ শতাংশ বেশি, যারা কাজের চাপে থাকেন না তাদের থেকে।

সমস্যা গ্যাস্ট্রো-ইন্টেস্টিনালের

মানসিক চাপের কারণে আলসারের মতো ভয়ঙ্কর রোগ না হলেও এর কারণে আলসারের রোগীদের সমস্যাকে তীব্রতর করে। তবে গ্যাস্ট্রো-ইন্টেস্টিনালের নানা সমস্যার কারণে ক্রনিক হার্টবার্ন থেকে শুরু করে বদহজম হতে পারে।

ডেকে আনে আলঝেইমার

গবেষণা অনুযায়ী, মানসিক চাপ আলঝেইমার রোগকে ত্বরান্বিত করে। গবেষকদের মতে, বয়সকালে স্মৃতিভ্রমের রোগ আলঝেইমারের প্রভাব কমানোর প্রধান উপায় মানসিক চাপ থেকে মুক্তি।

দ্রুত বেড়ে যায় বয়স!

বাস্তবিক কিছু গবেষণা এটা নিশ্চিত করে, মানসিক চাপে মানুষ দ্রুত বুড়িয়ে যায়। যেসব মা তাদের অসুস্থ শিশুদের দেখাশোনা করেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকেন অন্যদের তুলনায়। গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন, মানসিক চাপের কারণে ৯ থেকে ১৭ বছর বেশি বয়স দেখাতে পারে, যারা মানসিক চাপে থাকেন তাদের।

মৃত্যুঝুঁকি

যারা নিয়মিত মানসিক চাপ মোকাবিলা করেন, এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের সমবয়সীদের চেয়ে তারা ৬০ শতাংশ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন। নিশ্চয় ভাবছেন, কেন মানসিক চাপ আমাদের এতটা অসুস্থ করে ফেলতে পারে? কেনই বা মানসিক ধকল আমাদের শরীরকে সামলাতে হবে? মানসিক চাপ শুধু কোনো অনুভূতি নয়। কে উইনারের ধারণামতে, মানসিক চাপ শুধু আমাদের মাথায় থাকে না। এটা আমাদের একটা মনস্তাত্ত্বিক সংবেদন ও প্রতিক্রিয়া। যে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে যখন আমরা থাকি, তখন আমাদের শরীরও এর সঙ্গে তাল মেলায়। ফলে বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন আর রক্তচাপ। ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়তে থাকে। আমাদের রক্তে অ্যাড্রেনালিন আর কর্টেসল হরমোন বেড়ে যায়।

তাই নিয়মিত মানসিক চাপ ঠেলে দেয় এমন এক শারীরতাত্ত্বিক অবস্থায়, যাতে আমাদের শারীরিক সমস্যার উদ্ভব হয়।

মন্তব্য করুন