নতুন করে শুরু হয়েছে সব; জীবনটাও যেন পেয়েছে আরেকটা জীবন! শুরু হয়েছে ক্লাস। তবে ঘুম পাগলু আপনার বিছানার মায়া ত্যাগ করা বড্ড কষ্টের। হওয়ারই কথা। দীর্ঘ দিন ক্লাসের বিরতি শরীরে এনে দিয়েছে অন্যরকম এক ক্লান্তি। এই ক্লান্তি বা আলসেমিতে ভর করা আপনার ক্লাসের তাড়ায় বাসা থেকে গোছালো কিংবা কিছুটা অগোছালোভাবে যেই পা বাড়াবেন আমনি ডাক পড়ে পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্যটির। অথবা গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাড়াহুড়া করে বাইরে বেরুনোর প্রস্তুতিটা মাত্র শেষ করলেন আর অমনি পাশের রুমে বাড়ির বড় কর্তার ডাক। আপনি মিথ বা লোককথা কানে নেন না। তবু পরিবারের বড় কেউ কাছে ডেকে আপনার হাতে ধরিয়ে দিল আরেকটা জরুরি কাজ। ঠিক সেই সময়ে আপনার করণীয় কী? তা বুঝে উঠতে পারছেন না আপনি। শুধু আপনি কেন; এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রত্যুৎপন্নমতিরও মাথা হ্যাং হয়ে যায়। তাতে কী আমরা তো আছিই। চলুন, উড়ে এসে ঘাড়ে জুড়ে বসা এমন কর্ম সামলে ওঠার বুদ্ধি জেনে নিই-

এড়িয়ে চলুন তাদের

একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে, পরিবারে এমন কিছু লোকও আছে, যারা বুঝতে পারে না আপনার কাজের গুরুত্ব। ফলে আপনাকে যে কোনো সময়, যে কোনো কাজে শুধুই বাধা দিয়ে যায়। এমন হলে সেই মহান সদস্যকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ!

গুরুত্বের বিচারে

পরিবারের কাজটা যদি হয় আপনার কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে অবশ্যই সেই কাজটাতে মন দেবেন এবং নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজটার মতো করেই তা শেষ করে করবেন। তারপর মনটাকে ঠিকঠাক করে আপনার কাজে নামতে পারেন।

ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে যান

আর আপনার এবং পরিবারের দুটো কাজই যদি হয় সমান গুরুত্বের তবে যেই যে কাজটা আগে না করলেই নয়; তা করে দ্বিতীয় কাজটায় মন দিন। তবে তাড়াহুড়ো করতে যাবেন না। তাহলে গুলিয়ে ফেলবেন। সে সময়টায় শুধু মাথাটা ঠান্ডা রাখুন আর বুদ্ধিটাকে কাজে লাগান।

বুঝিয়ে বলুন

আপনার কাজের চেয়ে সেই কাজটা কম গুরুত্বের হলে এবং সেই কাজটা করতে গেলে আপনার কাজটা ঠিকঠাক আদায় করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি যেহেতু পরিবারেরই সদস্য সেহেতু আশা করি অবশ্যই পরিবার বিষয়টি বুঝে নেবে।

গায়ে পড়ে কাজ নেবেন না

অনেকে আবার নিজেকে জাহির করার জন্য পরিবারের সব দায়িত্বে নাক গলাতে যায়। বলি, অমন গায়ে পড়ে পরিবারের কোনো কাজ নিজের দায়িত্বে নিতে যাবেন না। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই ঢের বেশি!

আলোচনায় সমাধান

পরিবারের সব সদস্যের মেজাজ সব সময় এক রকম থাকে না। তাই আপনার বা পরিবারের কাজ নিয়ে কখনও ভুল বোঝাবুঝি হলে, মাথা ঠান্ডা রেখে বিষয়টা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা

মনে রাখবেন, পরিবার ছাড়া আমরা অনেকটাই অচল। তাই পুরোপুরি পরিবারকে এড়িয়ে চলার মনমানসিকতা এড়িয়ে এমন উড়ে এসে ঘাড়ে পড়া কাজের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ান। এসব পরিস্থিতিতে নিজেকে অটল রাখার মানসিকতাও অর্জন করুন। কারণ, পরিবারটা আপনার। তাই কীভাবে চললে সবার মন জুগিয়ে থাকতে পারবেন, তা আপনার চেয়ে বেশি কেইবা জানে!

মন্তব্য করুন