১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ শহীদ হন মুক্তির স্বপ্নে বিভোর থাকা কবি মেহেরুন্নেসা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রথম নারী শহীদ কবি তিনি। ১৯৪২ সালের ২০ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের খিদিরপুরে তার জন্ম। ১৯৪৭ সালে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর পুরো পরিবার ঢাকায় এসে মিরপুরে স্থায়ী হন। কবিতা লেখার ঝোঁক ছিল শৈশব থেকেই। ১৯৫৪ সালে খেলাঘরের পাতায় প্রথম কবিতা 'চাষী' প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময়ে 'ইত্তেফাক', দৈনিক 'পাকিস্তান', মাসিক 'মোহাম্মদী'সহ মূলধারার পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশিত হতো। ৭ মার্চ ১৯৭১, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। ২৩ মার্চ মিরপুরে নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ফলে ২৭ মার্চ তার বাড়িতে পাকিস্তানি আলবদররা আক্রমণ করে দুই ভাই রফিক-টুটুল এবং মাকেসহ মেহেরুন্নেসাকে নারকীয়ভাবে হত্যা করে। কবি মেহেরুন্নেসার লেখা শেষ কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল 'সাপ্তাহিক বেগম' পত্রিকায় মৃত্যুর ঠিক ৪ দিন আগে, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ।

জনতা জেগেছে

মুক্তি শপথে দীপ্ত আমরা দুরন্ত দুর্বার,
সাত কোটি বীর জনতা জেগেছি, এই জয় বাঙলার।
পাহাড়, সাগর, নদী প্রান্তর জুড়ে-
আমরা জেগেছি, নবচেতনার ন্যায্য নবাঙ্কুরে।
বাঁচবার আর বাঁচাবার দাবি দীপ্ত শপথে জ্বলি,
আমরা দিয়েছি সব ভীরুতাকে পূর্ণ জলাঞ্জলি।
কায়েমি স্বার্থবাদীর চেতনা আমরা দিয়েছি নাড়া,
জয় বাঙলার সাত কোটি বীর, মুক্তি সড়কে খাড়া।
গণতন্ত্রের দীপ্ত শপথে কণ্ঠে কণ্ঠে সাধা-
আমরা ভেঙেছি, জয় বাংলার যত বিজয়ের বাধা।
কায়েমি স্বার্থবাদী হে মহল! কান পেতে শুধু শোনো-
সাত কোটি জয় বাঙলার বীর! ভয় করিনাকো কোনো।
বেয়নেট আর বুলেটের ঝড় ঠেলে-
চিরবিজয়ের পতাকাকে দেব, সপ্ত আকাশে মেলে।
আনো দেখি সাত কোটি এই দাবির মৃত্যু তুমি,
চিরবিজয়ের অটল শপথ, এ জয় বাঙলা ভূমি।

মন্তব্য করুন