শত স্বপ্নের মধ্যেও কিছু মানুষ ভিন্ন স্বপ্ন দেখে আর সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কাজও করে। তেমনই এক স্বপ্নবাজ কিশোরী ফারিয়া নুরুদ্দিন। বয়স ১৭ ছুঁইছুঁই। পড়ছে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে। এই কিশোরীর স্বপ্নটা অন্য সবার চেয়ে ভিন্ন। অল্প বয়সেই নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। ফারিয়ার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলায়। বাবা-মা দু'জনই পেশায় আইনজীবী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজো সে। ব্রকলি, স্কোয়াশসহ বিভিন্ন সবজি চাষ ও বিক্রি করে লাভবানও হয়েছে ফারিয়া।

গল্পের শুরুটা ২০১৯ সালের আগস্টে। ফারিয়া বলছিল, 'স্টু্কলজীবন থেকেই ভাবতাম, কিছু একটা করব। তারপর অনেক চেষ্টাও করেছি। কোনো কিছুতে মন বেশি দিন টিকত না। তারপর আমার এক ভাইয়ের কাছ থেকে কৃষিকাজের বিষয়টা জানতে পারি। তিনি তখন একটা প্রজেক্টে কাজ করছিলেন। মনে হলো এটা আমি করতে পারি। সে ভাবনা থেকেই শুরু।' এত এত পেশা থাকতে কেন কৃষিতে আসা- এমন প্রশ্নে খানিকটা হেসে ফারিয়া বলে, 'ওই যে বলে না মেয়েরা এটা পারবে না, ওটা পারবে না। মেয়েরা কি আবার কৃষক হয়? আমরা সমাজে এসব শব্দের সঙ্গে পরিচিত না। 'পারবে না' শব্দটা বাদ দিলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না।"

পড়াশোনার পাশাপাশি ফারিয়া এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। তবে 'কৃষক' হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে। কৃষিকাজে আসার অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, 'আমার অনুপ্রেরণা আমি নিজেই। পরিবার থেকে কোনো নিষেধ ছিল না। আমার পরিবার আমার স্বপ্নের মাঝে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।'

২০১৯ সালে মাত্র ২০ শতক জমি নিয়ে চাষাবাদ শুরু করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ২০০ শতক ছাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২১০ শতক জমিতে আগাম গ্রীষ্ফ্মকালীন বিভিন্ন চাষাবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে ফারিয়ার। কথায় কথায় ফারিয়া জানায়, প্রথমে ব্রকলি দিয়ে কৃষিকাজ শুরু করে। এরপর বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে শসা, চিচিঙ্গা, লেটুস পাতা, বিটরুটের মতো বেশিরভাগ বিদেশি ফসল চাষ করছে বলে জানায় এই কিশোরী। মূলধনের জোগানের বিষয়ে ফারিয়া বলে, 'আমার জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে ২০ শতক জমিতে কাজ শুরু করি। ১০-১২ হাজার টাকা নগদ দিই। তারপর আমার কিছু শেয়ার ছিল, সেগুলো যুক্ত করেছি। সব মিলিয়ে আমি এখন ২০০ শতক জমিতে কাজ করছি। সামনে জমির পরিমাণ আরও বাড়াব।' চাষাবাদ সম্পর্কে ইন্টারনেট থেকে পড়াশোনা করেছে জানিয়ে ফারিয়া বলে, 'এখন যুগ অনেক পাল্টেছে, আমরা চাইলেই যে কোনো মুহূর্তে ইন্টারনেট থেকে সব তথ্য জানতে পারি। আমিও ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেই কৃষিকাজে নামি। তারপর একটা বাস্তব জ্ঞান লাগে, সেটা জেনেছি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ভাইয়ের কাছ থেকে। তিনি আমাকে বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে সাহায্য করেছেন।' ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে ফারিয়া জানায়, 'ভবিষ্যতেও কৃষি নিয়ে কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে কৃষিকে আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে মনোযোগী হতে চাই।'

মন্তব্য করুন