নারী, শিশু ও মানুষ পাচার একটা ব্যবসা, যা চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে চলে। এই জঘন্য কাজ যারা করছে তারা দেশের বাইরে মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার অবৈধ তৎপরতায় মদদ জোগাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ও মধ্যপাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশু পাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ১৫-১৬ বা ২৫-২৬ বছরের মেয়েরা বেশি পাচার হচ্ছে। অনেক সময় এ দেশের থানা পুলিশ অভিযোগ নিতে অবহেলা করে। আবার অনেক সময় লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে না।

পাচার হওয়া নারীর ৮০ শতাংশই নানা ঝুঁকিতে থাকে। তারা দরিদ্র, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, বাল্যবিয়ের শিকার। এসব দুর্বলতার সুযোগে আন্তর্জাতিক চক্রের নজর বাংলাদেশে। নানা ভুল তথ্য, প্রলোভন দেখিয়ে অসচেতনতার সুযোগে পাচার করা হচ্ছে নারী ও শিশুদের। স্থলপথে অন্তত ১৮টি রুটে নারী ও শিশুদের পাচার করা হয়। দেশ থেকে প্রতি বছর ঠিক কত সংখ্যক নারী ও শিশু পাচার হয় এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা আমাদের জানা নেই। নারী ও শিশু উদ্ধারসহ নানা আলামত থেকে ধারণা করছি, বছরে ২০-২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই বৈধপথে গিয়ে পাচারের শিকার হচ্ছে।

নারী পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল এ বিষয়ে কাজ করছে কিন্তু জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে যে সচেতনতা তৈরির কথা তা হচ্ছে না। আর পাচারের ক্ষেত্রে যারা ঝুঁকিপূর্ণ তারা ঝুঁকিতেই রয়ে গেছে।

দেশ থেকে নারী ও শিশু পাচার রোধে ২০১২ সালে যে আইনটি করা হয়েছিল, সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইন। নারী পাচারের মামলা হয়। এতে অধিকাংশ সময় দালালরা ধরা পড়ে। তবে মূলহোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এসব ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। পাচারের ক্ষেত্রে যারা ঝুঁকিতে আছে তাদের বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাচার সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই থামবে নারী পাচারের মতো জঘন্য ব্যবসা।

মন্তব্য করুন