জাপানের টোকিওতে যখন অলিম্পিক-২০২০ চলছিল, ঠিক সেই সময়ে ৯৯ বছর বয়সী ফ্লোরিডার এক নারী পাওয়ারলিফটিংয়ে করলেন বিশ্বরেকর্ড। নাম তুললেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। রেকর্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাওয়ারলিফটিংয়ের ভিডিওটি নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে।

তার নাম এডিথ মারওয়ে ট্রাইনা। আগস্টের ৮ তারিখ শততম জন্মদিন উপলক্ষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য নিজের সামর্থ্যের পরীক্ষা দেন তিনি। ইচ্ছাশক্তির বলে যে অনেক কিছুই করা সম্ভব তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন এডিথ। বয়স ৪০-৫০ হলেই যেখানে মানুষ মনে করে এবার অনেক কিছুতে লাগাম টানতে হবে। সেখানে এডিথের এই অর্জন এবং শারীরিক সক্ষমতা সত্যিই অনন্য এক ব্যাপার। মানুষের সক্ষমতার সীমা যে প্রকৃতই অসীম সেটাই যেন প্রমাণ করলেন এডিথ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এডিথকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, ৪০-১৫০ পাউন্ড ওজনের পাওয়ারলিফটিং করে এডিথ প্রতিযোগিতামূলক পাওয়ারলিফটিংয়ের প্রথাগত ধারণা ভেঙে দিয়েছেন এবং নিজের শক্তি সামর্থ্য দিয়ে বিচারক ও দর্শকদের অভিভূত করেছেন।

নাচের এই প্রাক্তন শিক্ষক শারীরিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন আগে থেকেই। এডিথ নিয়মিত জিমে যেতেন এবং একটু একটু করে উন্নতির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়াকে উপভোগ করতেন। তিনি বলেন, ৯১ বছর বয়স থেকে আমি নিয়মিত পাওয়ারলিফটিং শুরু করি। কখনও কল্পনা করিনি নিয়মিত এটা করব। কোনো পুরস্কার বা কোনো কিছুর প্রত্যাশা আমার ছিল না। কিন্তু প্রথমবার ট্রফি পাওয়ার পর ভাবলাম বিষয়টা দারুণ তো। আমার বয়স যখন ৯০-এর ঘরে তখন আমি মানুষ আসলে কী, কে এবং কেন- সেই ব্যাপারে বোঝাপড়ার ব্যাপারে বেশি সচেতন হয়ে উঠেছিলাম।

বয়স হয়েছে এই অজুহাতে এডিথ কোনোকিছুতে ছাড় দেন না। যেমন তিনি মজা করতে পছন্দ করেন এবং সবকিছুতে স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশ নেন। সেটা নাচই হোক কিংবা জ্যাকসন স্প্রিং সেন্টারে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক আড্ডাই হোক বা বয়স্ক নারী পাওয়ার- লিফটিংয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস করাই হোক।

মন্তব্য করুন