সমাজের নিয়মমাফিক ভারী কাজ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করবে শুধু ছেলেরা। মেয়েরা শুধু ছকে বাঁধা কিছু কাজেই গণ্ডিবদ্ধ থাকবে। সমাজের এমন অহরহ ভাবনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অনেক নারী সমাজের তৈরি করা স্রোতের বিপরীতে গা ভাসানো সাঁতারুদের জায়গায় নাম লিখিয়েছেন। তাদের মতোই একজন শাম্মী নাসরিন। যিনি 'পাওয়ার লিফটিং' চ্যাম্পিয়ন।

বাংলাদেশ পাওয়ার লিফটিং অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত পাওয়ার লিফটিং কম্পিটিশনে তৃতীয় স্থান অর্জনের পর আলোচনায় উঠে আসেন তিন সন্তানের মা শাম্মী নাসরিন। বয়স তার ৪৮-এর ঘরে কিন্তু মনোবল আর ইচ্ছাশক্তি যেন ১৮ বয়সী নারীকেও হার মানাবে। তার প্রখর ইচ্ছাশক্তি এবং বয়সের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনুভূতি কেমন ছিল- জানতে চাওয়ায় শাম্মী নাসরিন বলেন, সত্যি সবকিছু স্বপ্নের মতো ছিল। ভীষণ আনন্দিত হয়েছি আমি। এর আগে ২০১৯-এ অংশগ্রহণ করেছিলাম; তবে প্রথমবার অনেক বেশি নার্ভাস থাকার কারণে আর খেলার সঠিক কলাকৌশল সম্পর্ক খুব আইডিয়া না থাকায় সেবার শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল। কিন্তু এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি সব অনুভূতিকে ছাড়িয়ে গেছে।

বয়স যখন চল্লিশের ঘরে পৌঁছেছে, তখন মাথার ওপর ডায়াবেটিসের লালবাতি জ্বলছিল। ডাক্তার বললেন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি আর জিম করুন। তারপর ছেলের হাত ধরে জিমে জয়েন করেন তিনি। জিমে গিয়ে ভারী ওজন নেওয়া শুরু করেন তিনি। সে থেকেই পাওয়ার লিফটিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন বলে জানালেন শাম্মী।

শাম্মী নাসরিনের কাছে জানতে চাইলাম এতকিছুর মাঝে প্রতিবন্ধকতা কি? প্রতিবন্ধকতার কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে মানুষ নেতিবাচক মন্তব্যগুলো। বাইরের মানুষ নানা কথা বলত। বলত জিম করার কী দরকার? বয়স তো অনেক হয়েছে বাসায় থাকলেই তো হয়। বাসায় অনেক কিছু করা যায়। আশপাশের কিছু মানুষ সমালোচনা করে বলে আমি টি-শার্ট পরি। আসলে জিম তো সালোয়ার-কামিজ পরে করা যায় না। দেখা গেল ওয়েট লিফটিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এদিক থেকে আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে; তাই মানুষের কথাগুলো আর কানে নিইনি।

কথায় কথায় ছেলেবেলার স্বপ্ন নিয়ে শাম্মী নাসরিন জানান, তথাকথিত সবার মতো আমিও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু সবাই তো আর ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে না। এসএসসির পর আর পড়াশোনা করতে পারিনি। বিয়ে হয়ে যায়। এতদিন তো গৃহিণী ছিলাম কিন্তু আমার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি কাজ করত; আমার কিছু একটা করতে হবে। সে ভাবনা থেকে জিমে জয়েন করি। এখন আমি শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট। বর্তমান সময় নিয়ে শাম্মী নাসরিন জানালেন, আমার জীবন একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেছে; আমি আর আগের শাম্মী নেই। সেই গৃহিণী শাম্মী থেকে আজকে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। া

মন্তব্য করুন