আত্মহত্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Suicide. ল্যাটিন ভাষায় সুইসেইডেয়ার থেকে Suicide. শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে নিজে হত্যা করা। বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রতি লাখে ৩৯ দশমিক ৬ জন আত্মহত্যা করে। বহির্বিশ্বে ছেলেদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি হলেও বাংলাদেশে ব্যতিক্রম। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি এবং তা সাধারণত অল্প বয়সী টিনএজদের মধ্যে।

মানুষ নানা কারণে আত্মহত্যা করতে পারে। এর মধ্যে ডিপ্রেশন, বৈষম্য, বঞ্চনা, বিভ্রান্তি, হতাশা এবং না পাওয়ার যন্ত্রণার কারণে মানুষ জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই আত্মহত্যা করে। যেখানে সমাজের ভারসাম্য কম, অগ্রগতির সুফল সবাই সমানভাবে পায় না এবং বিভক্তি বেশি, সেখানেই আত্মহত্যার প্রবণতাও বেশি বলে অভিমত প্রকাশ করেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গুরুতর মানসিক রোগ বা স্বল্পতর মানসিক রোগ। তাছাড়া মাদকাসক্তি, এনজাইটি, অপরাধ বোধ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম-কলহ, অভাব-অনটন, দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা, যৌন নির্যাতন, মা-বাবার ওপর অভিমান, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থ ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে কারণ থাকে অজানা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে আট লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

এক জরিপে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। সুতরাং তরুণ বা বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে অনেক। আবার বয়স বাড়ার ৫০ বা ৬০ বছর হওয়ার পরও মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার প্রবণতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিষণ্ণতার কারণে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া মানসিক বিকৃতির মধ্যে বাইপোলার ডিসঅর্ডার আত্মহত্যার জন্য ২০ গুণের বেশি ঝুঁকি বাড়ায়।

আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এর মধ্যে নারী-পুরুষ-শিশু সব বয়সের মানুষ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করে ২১ বছর থেকে ৩০ বছরের নারী। এ বয়সী কিছু পুরুষও নানা কারণে আত্মহনন করে। ডিপ্রেশনের কারণেও মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

প্রতিটি মানুষের উচিত সবার আগে নিজেকে ভালোবাসা, নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া, নিজেকে খুশি রাখা, নিজেকে খুশি রাখার জন্য নিজের পছন্দের কাজ করুন। তার মধ্যেই আনন্দ খুঁজে নিন। একপ্রকার জোর করেই তা করতে হবে। নিজেকে বলতে হবে আমি ভালো থাকব। আপনার চারপাশে এ রকম অনেক মানুষ পাবেন, যারা সত্যিই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। অনেক বেশি খারাপ রয়েছেন। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিন। প্রথমে নিজেই নিজের বন্ধু হয়ে উঠুন; কারণ আপনার কোথায় সমস্যা আছে, আপনার কোথায় কষ্ট সেটা নিজেকেই বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী সেই সমস্যা থেকে বের হওয়ার পথ বের করুন। মানুষ পারে না এমন কাজ নেই। তারপর পছন্দের মানুষজনের সঙ্গে মিশুন। যোগাযোগ রাখুন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে থাকার চেষ্টা করুন। নিজের মতো করে মানিয়ে নেওয়া অভ্যাস করুন। অন্য কাউকে সমস্যায় দেখলে হাসি-তামাশা না করে সাহস দিন, পাশে থাকুন, ভরসা দিন; তবেই আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন