সারাবেলা

সারাবেলা

বইয়ের মধ্যে নিহিত মানুষের প্রাণ

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল


অনেকেই বলেন তার বই পড়তে ভালো লাগে না। অথবা বই কেনেন না! এ কথাটির সঙ্গে আমি একমত নই। যে মানুষ একবার বইয়ের প্রেমে পড়েছেন বা বইয়ের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেছেন, তিনি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বই থেকে দূরে থাকতে পারবেন না। বইয়ের আকর্ষণে তিনি ছুটে আসবেনই। বই তিনি কিনবেনই। হয়তো মেলা বলতে যে হৈ হৈ রৈ রৈ একটা ব্যাপার-বোঝায়, সেটি এবারের মেলায় এখনও দেখতে পাইনি। এই না দেখতে পাওয়াটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা এমন একটা দেশে বাস করি, যে দেশে লাখো শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও ভাবনা নেই। দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে মাথাব্যথা নেই। যদি থাকত, তবে ভাষা আন্দোলনের মাসেও দেশে এমন সহিংসতা বিরাজ করত না। বছরের এই একটি মাসের জন্য দেশের অগণিত লেখক, পাঠক ও প্রকাশক অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। শব্দের সঙ্গে শব্দের মালা গেঁথে একজন লেখক একটি বই রচনা করেন এবং প্রকাশকরা বহু প্রক্রিয়া অতিক্রম করে লেখাটাকে বইয়ের আকার দেন। বই তো শুধু একটি পণ্য নয়; বইয়ের মধ্যে নিহিত থাকে মানুষের প্রাণ। সেই প্রাণপিপাসু মানুষ বই কিনতে আসতে পারেন না প্রাণের ভয়ে। গতবার মেলাতে নিরাপত্তাহীনতার অভাব ছিল। সবার মনে ছিল আতঙ্ক। এর মাঝেও আমি প্রতিদিন মেলায় গিয়েছি, বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসে থেকেছি। আমারও প্রাণ কি দুরুদুরু করেছিল। কিন্তু তোয়াক্কা করিনি। এটা কেবল বইয়ের প্রতি ভালোবাসার ফসল। তবে এবারে ভিন্ন চিত্র। সবাই মেলায় আসছে, কারও মধ্যে নেই আতঙ্ক। নিরাপত্তার বলয়ে আমরাও বেজায় খুশি। বিক্রি বেশ ভালোই যাচ্ছে। সারাদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়ে উঠত লেখকদের হাসিমাখা মুখ দেখে। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানা আতঙ্কে খারাপ কাটলেও এবার ভালো হয়েছে। বেড়েছে পরিসরও।
নতুন লেখকদের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থেকেই আমি তাদের জন্য কিছু কাজ করি। প্রকাশকদের একটা বদনাম আছে, নতুন লেখকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই করেন। কিন্তু একজন লেখক তিনি নতুন হোক বা পুরনো, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বই করতে আমার বিবেক সায় দেয় না কখনও। তবে নতুনদের বই আমি করি। লেখা যদি মানসম্মত হয়, অবশ্যই বইটি তৈরি করি। তবে তাদের সম্মানী দিতে হয় আমার বিক্রির ওপর ভিত্তি করে। কারণ একজন নতুন লেখকের বই কতটা বিক্রি হয়, আদৌ হয় কি-না সেই গ্যারান্টি আমরা কেউই দিতে পারি না। তবে তরুণদের নিয়ে আমি বরাবরই আশাবাদী। তাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ হয়ে উঠতে পারেন একজন ভালো লেখক। এখনকার তরুণ সমাজ বই পড়ে না, এটা আমি মানি না। কারণ মেলায় আগতদের অধিকাংশই তরুণ। তারা বই দেখে, পড়ে ও কেনে। তাদের পদচারণায় মেলা আরও মুখর হয়ে উঠবে, তরুণরা বেশি বেশি বই পড়বে- এটিই আশা করি। মানুষ যত বেশি বইয়ের সানি্নধ্যে থাকবে, তত বেশি সে অপরাধ জগৎ থেকে দূরে থাকবে, তার বিবেক জাগ্রত হবে, মনুষ্যত্ববোধ বিকশিত হবে এবং আলোর জগতে প্রবেশ করবে। তাই আসুন, সবাই বই ভালোবাসি, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করি।


স্বত্বাধিকারী, নালন্দা প্রকাশনী
অনুলিখন :সারাবেলা প্রতিবেদক