সারাবেলা

সারাবেলা

তোমাদের জন্য বাংলা সিনেমা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

বাংলা সিনেমা আমাদের অহঙ্কার। ছোটদের মানে আমাদের জন্য কম সিনেমা নির্মাণ হলেও দেশে বেশ কয়েকটি সিনেমা আছে যেগুলোর জনপ্রিয়তা থাকবে যুগ যুগ ধরে। আজ এমন তিনটি সিনেমার গল্প জানাব, যা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। প্রতিটি সিনেমাতেই আছে একটি করে বিশেষ বার্তা।
ছুটির ঘণ্টা : ছুটির ঘণ্টা সিনেমা বড়ই বেদনাদায়ক। এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে রয়েছে ১২ বছরের ছোট ছেলে খোকন। খোকন অনেক নম্র-ভদ্র স্বভাবের। তাই স্কুলের সবাই তাকে অনেক পছন্দ করে। কিন্তু এই খোকনের জীবনে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা। খোকনের স্কুল এগারো দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই ছুটিতে সবাই খুশি। স্কুল থেকে এক এক করে সবাই বাড়ি চলে যায়। কিন্তু খোকনের গাড়ি আসতে সেদিন অনেক দেরি হয়। সবাই চলে যাওয়ার পর খোকন বাথরুমে যায়। আর এর মধ্যেই স্কুলের দপ্তরি আব্বাস মিয়া এসে বাথরুমসহ পুরো স্কুল তালা মেরে চলে যায়। খোকন বের হতে গিয়ে দেখে কে যেন বাইরে থেকে বাথরুমের দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ সে বুঝতে পারে সে বাথরুমে আটকা পড়েছে। অনেক চিৎকার করেও কোনো লাভ হয় না। একে একে খোকন দশটি দিন বাথরুমে কাটায়। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে সে শেষ পর্যন্ত বই-খাতা, কাগজ খেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু সে বাঁচতে পারেনি। এই মৃত্যুর দায় নিজের কাঁধে তুলে নেয় স্কুলের দপ্তরি আব্বাস মিয়া। এই মৃত্যুর দায় নিয়ে সে জেলে যায়।
দীপু নাম্বার টু: এই সিনেমায় প্রধান চরিত্র দীপু। দীপুর বাবা একজন সরকারি চাকুরে। সরকারি চাকরি করার কারণে তাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে হয়। দীপুও বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যায় এবং প্রতিটি নতুন স্থানে তাকে নতুন স্কুলে ভর্তি হতে হয়। এমনিভাবে একদিন দীপুর বাবা রাঙামাটিতে বদলি হয়ে যান। দীপু তখন ক্লাস সেভেনের ছাত্র। দীপু রাঙামাটি জিলা স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়। দীপুর বাবার সঙ্গে দীপুর সম্পর্কটা অনেকটা বন্ধুর মতো। একসময় দীপু জানতে পারে তার মা তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমেরিকায় চলে গেছেন। তার মা তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমেরিকা থেকে চলে আসে। দীপুর সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরে যায়। দীপু যখন রাঙামাটি জিলা স্কুলে ভর্তি হয়, তখন তার অনেক বন্ধু জুটে যায়। কিন্তু প্রথমদিকে তাদের সহপাঠী তারেকের সঙ্গে তার খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না। পরে কয়েকদিন তারেক স্কুলে না আসায় দীপু তারেকের খোঁজ করার জন্য তারেকের বাসায় যায়। ক্লাসের সবাই যখন তারেককে এড়িয়ে চলে, তখন দীপুর সঙ্গে তারেকের বন্ধুত্ব হয়। তারেক তাকে একটি লুকনো প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যায়। একদিন তারা জানতে পারে, কিছু পাচারকারী সেখান থেকে মূর্তি পাচার করছে। তাই তারা বন্ধুদের নিয়ে সেই মূর্তি পাচারকারীদের ধরিয়ে দেয়। এই হচ্ছে সিনেমাটির গল্প।
আমার বন্ধু রাশেদ: আমার বন্ধু রাশেদ সিনেমা মূলত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির পুরো ঘটনা মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক। সিনেমার শুরুতে দেখা যায় একজন বাবা ছেলেকে নিয়ে তার ছোটবেলা যেখানে কাটিয়েছেন সেখানে ফিরে আসেন। তিনি একাত্তর সালের সেই ছোট্ট ইবু যে কি-না রাশেদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ভয়ঙ্কর সব কাজ করেছে। সেই পুরনো জায়গায় ফিরে এসে ইবুর সবকিছু মনে পড়ে যায়। এক এক করে তার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে সেই সময়কার ঘটনাবলি। রাশেদের প্রথম তাদের ক্লাসে আসা তার নাম লাড্ডু থেকে রাশেদ হাসান হওয়া, শফিক ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়া। রাশেদ, ইবু, ফজলু, আশরাফ, দিলীপরা যখন ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস এইটে ওঠে, তার কিছু দিন পর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই ছোট বাচ্চারা তখন ঘরে বসে থাকার কথা। কিন্তু রাশেদরা তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের তৈরি করা পল্গ্যান অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা মিলিটারিদের ক্যাম্প আক্রমণ করে। বুদ্ধির জোরে যে অনেক কিছু করা সম্ভব, সেটা রাশেদ তার বন্ধুদের নিয়ে দেখিয়েছে। আরও অনেক অনেক ঘটনা সংবলিত এ সিনেমাটি। সিনেমাটি দেখতে দেখতে তোমার সামনে ভেসে উঠবে একাত্তর সালের সেই দিনগুলোর কথা। নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য একটি চমৎকার সিনেমা এটি।
লেখা : নাজমুল হক ইমন