প্রকাশনা শিল্প দিন দিন উজ্জীবিত হচ্ছে। অনেক বই প্রকাশক আসছেন। এটাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে বইয়ের মানের দিকে। তাহলেই সমৃদ্ধ হবে আমাদের প্রকাশনা শিল্প। একদিকে অনেকে এই শিল্পকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে না বুঝে এই শিল্পের জগতে প্রবেশ করছেন, যারা বই ছাপানোর কৌশল জানেন না। আমাদের দেশের প্রকাশনা শিল্প এখনও লাভজনক শিল্পের দিকে যেতে পারেনি। তার জন্য আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রকাশনা শিল্প আসলে সৃষ্টিশীল কাজ। এটি যদি লাভজনক ব্যবসা হতো তবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে হতো এই মেলা। আমাদের প্রকাশনার শুরু ছিল আটাত্তরের দিকে। সেই সময় লেটার প্রিন্ট, সিসার টাইপে বই কম্পোজ হতো। জেলিতে তার প্রুফ ওঠানো হতো। তারপর ১৬ পেজ করে মেকআপ করে প্রুফ রিডিং হতো। সর্বশেষ পাঠানো হতো ছাপাখানায়। তখন এত বই ছাপানো যাবে, তা কেউ চিন্তাও করেনি। ১০টি বই বের হলে সেটাই ছিল বেশি। এখন বইয়ের সংখ্যা বেশি, মান কম। খুবই ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকাশনা শিল্প। আগের চেয়ে দ্রুত হলেও বাইরের দেশ থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে আমাদের প্রকাশনা। ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন ই-বই কোনোভাবেই কাগজের বইয়ের চাহিদা কমাতে পারবে না। এটা হতে কমপক্ষে ১০ বছর সময় লাগবে।

এ বছর মেলাতে মোট ৮০টা বই আসছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- হাসনাত আবদুল হাইয়ের 'শিল্পকলার নান্দনিকতা', তারই লেখা নতুন চিন্তার আরেকটি উপন্যাস 'ফেসবুকে কয়েকদিন'। আব্দুর রউফ চৌধুরীর 'মুক্তি সংগ্রাম সমগ্র' পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। কারণ তিনি যুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া রয়েছে আসাদুজ্জামান আসাদের 'মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র', ড. এম আব্দুল আলীমের 'ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ :কতিপয় দলিল', রফিকুল ইসলামের 'বাংলা ভাষার ব্যাকরণ', আসাদুজ্জামানের 'পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার জীবন এবং কর্ম', মোনায়েম সরকার সম্পাদিত 'একুশের নির্বাচিত প্রবন্ধ', আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন'। এবারের মেলার উল্লেখযোগ্য আরও একটি বই হতে পারে 'লালন গুরু সিরাজ সাঁইয়ের গান'। এটি লিখেছেন সৈয়দ জাহিদ হাসান। আমরা প্রতি বছর নবীন কিছু লেখকের বই বের করি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এর মধ্যে আছে অপরাজিতা অর্পিতার 'অব্যক্ত হৃদ কথন', তাহমিনা খানের 'নৈঃশব্দের ঢেউ' এবং মোহাম্মদ আলী কিরণের 'অবিনাশী ভালবাসা।

প্রকাশক, আগামী প্রকাশনী

মন্তব্য করুন