সারাবেলা

সারাবেলা

শান্ত প্রাণী পান্ডা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯

'কুংফু পান্ডা' সিনেমাটি নিশ্চয় অনেকেই দেখেছ। সিনেমাটির প্রধান চরিত্র হলো 'পো' নামের পান্ডা। সে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে কুংফু মাস্টার। এর আগ পর্যন্ত সে সবার কাছেই ছিল গোবেচারা, লাজুক এবং বোকা। খাওয়া-দাওয়া ছাড়া আর কিছুরই গুরুত্ব নেই তার কাছে। কেবল পো নয়, আসলে সব পান্ডার বৈশিষ্ট্য এমনই। পান্ডা চীন দেশীয় প্রাণী। বড়সড় ভাল্লুকের মতো দেখতে পান্ডারা স্তন্যপায়ী। চীনের মধ্যাঞ্চলের কিছু পাহাড়ি বনে দেখা মেলে এদের। একটা সময় অন্যান্য এলাকায় এরা বাস করলেও এখন সিচুয়ান, সাংশি আর গানসু প্রদেশেই কেবল দেখা যায়। এদের পা, ঘাড়, কান আর চোখের চারপাশ ঘন কালো লোমে আবৃত। শরীরের বাকি অংশ সাদা লোমে ভরা। শরীরের ঘন লোম এদেরকে প্রবল শীত থেকেও রক্ষা করে। বিশাল শরীরের হলেও এরা অত্যন্ত নিরীহ। চীনে তাই পান্ডাকে 'শান্তির প্রতীক' হিসেবে মনে করা হয়। তারা সহজে কাউকে আক্রমণ করে না। কেউ তাদের বিরক্ত করলে এরা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। আকার আকৃতিতে পান্ডারা ছোট নয়। পূর্ণবয়সী পান্ডার উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত আর দৈর্ঘ্যে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত হয়। পুরুষ পান্ডারা তুলনামূলক মেয়ে পান্ডাদের চেয়ে বড়সড় হয়। তবে মজার বিষয় হলো- চিড়িয়াখানায় থাকা পান্ডারা ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এদের প্রধান খাবার বাঁশ। দিনের প্রায় ১৬ ঘণ্টা সময়ই এদের কাটে খাওয়ার কাজে। বাঁশ ছাড়াও কিছু লতাপাতা, ঘাস, ফলমূল, পোকা ইত্যাদিও খায় পান্ডা। তাদের বাচ্চা হয় সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। একটি থেকে দুটি বাচ্চা একসঙ্গে জন্ম নেয়। জন্মের সময় এদের ওজন হয় মাত্র ৯০ থেকে ১৩০ গ্রাম। নবজাতক পান্ডা চোখেও যেমন দেখতে পায় না, তেমনি এদের দাঁতও থাকে না। এরা কেবল মা পান্ডার বুকের দুধ খেয়েই বড় হতে থাকে। দুয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এদের শরীরের রঙ হয় ধূসর। জন্মের মাসখানেক পর এদের শরীরের রঙ বড় পান্ডাদের মতো হয়ে থাকে। আড়াই মাসের মধ্যেই শিশু পান্ডা হামাগুড়ি দিতে শেখে। আর ছয় মাসের মধ্যেই অল্প অল্প করে বাঁশ খাওয়া শুরু করে পান্ডারা। এক বছর বয়সের মধ্যেই পান্ডার ওজন প্রায় ৪৫ কেজি হয়ে যায়। জন্মের দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত তারা মা পান্ডার অধীনেই থাকে। পান্ডাদের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। একটি পান্ডা অন্য একটি পান্ডাকে চিনে থাকে তার গায়ের গন্ধ দিয়েই। তাছাড়া রাতের বেলায়ও খাবার বাঁশকে চিনে নিতে সে গন্ধের সাহায্য নেয়। তবে এরা নানারকম ডাকও দিতে সক্ষম। প্রায় ১১ ধরনের ডাক পান্ডারা দিতে পারলেও এগুলোর কোনো অর্থ বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি। পান্ডারা চার পায়ে চললেও কখনও কখনও মানুষের মতো দুই পায়ে দাঁড়াতে পারে। তবে পেছনের দুটি পায়ে খুব বেশি জোর না থাকায় এরা বেশি সময় এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এরা সাঁতারও জানে। আর গাছে চড়তেও বেশ ওস্তাদ পান্ডারা। খেলাধুলার অংশ হিসেবে এরা ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। এরা প্রবল শীতে গাছের কোটর বা গুহায় আশ্রয় নেয়।

লেখা : তাবাসসুম রহমান পিংগলা