শৈলী

শৈলী

উৎসবে রঙিন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

আমাদের দেশে ঈদপরবর্তী সময়ে বিয়ের ধুম লেগে যায়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ছুটি ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পাওয়ার সুযোগ। বিয়ের মতো আনন্দ আয়োজনের আকর্ষণীয় উপলক্ষের নাম হলুদ আয়োজন। এতে প্রয়োজন হয় রকমারি গহনার। লিখেছেন সাফিয়া সাথী

আমাদের দেশে ঈদপরবর্তী সময়ে বিয়ের ধুম লেগে যায়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ছুটি ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পাওয়ার সুযোগ। বিয়ের মতো আনন্দ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় উপলক্ষের নাম হলুদ আয়োজন। এ আয়োজনের জন্য প্রয়োজন হয় রকমারি গহনার।

গায়ে হলুদের জন্য নতুন ধরনের, ব্যতিক্রম গহনার কালেকশনের জন্য ফ্যাশন সচেতনদের কাছে ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইন ব্র্যান্ড উৎসাহ। কাজ করছে গায়ে হলুদের গয়না নিয়ে। বাহারি ফুল দিয়ে মনোরম ডিজাইন করে তৈরি হয় প্রতিটি গহনা। তাদের এই গহনাগুলোর সঙ্গে মিশে আছে একজন শিল্পীর ভিন্ন ধরনের কিছু করার প্রবল ইচ্ছা। এই ভিন্ন উদ্যোগের উদ্যোক্তা মনামী সানজিয়া। তিনি গহনা নিয়ে কাজ শুরু ২০১৫ সাল থেকে। তখন তিব্বতের গহনা নিয়ে কাজ করতাম। সব সময় মনে ইচ্ছা ছিল, মানুষের বিয়ে নিয়ে যদি কিছু করতে পারি তবে একটা ইচ্ছা পূরণ হবে। কোনটা নিয়ে এগোলে ভালো হবে ভাবছিলাম, তখন আমার ননদের বিয়ের গহনা দেখে খুব মন খারাপ হয়। অনুষ্ঠানটা ছিল গায়ে হলুদ। তখন আমার মাথায় আসে এটা নিয়ে কাজ করা যায়। গায়ে হলুদের গহনা নিয়ে মেয়েরা বেশ বিপাকে পড়ে। তখন আমি আমার পথচলার সঙ্গীর সঙ্গে ভাবনা নিয়ে আলোচনা করি। দু'জনে মিলে সিদ্ধান্ত নিই, এ ধরনের গহনা নিয়ে কাজ করব। কাঁচা ফুলের বাইরে গায়ে হলুদের জন্য যে ধরনের গয়না বাজারে পাওয়া যায় তা সব একই ধরনের। এ ছাড়া দেখতেও বেশ কৃত্রিম। বিয়ের পোশাক বা সাজের সঙ্গে মিলিয়ে পরার কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। তখন আমরা খুঁজে বের করি কোন ধরনের উপাদান ব্যবহার করলে একটু নতুন ও ভিন্ন ধরনের কিছু করা যাবে। আমাদের উপাদানগুলোর মধ্যে আছে রিয়াল টাচ আর্টিফিসিয়াল সিল্ক্ক ফ্লাওয়ার, রিয়াল টাচ পেপার ফ্লাওয়ার।

এই গহনার ক্রেতা কারা ও কেমন তা জানতে চাইলে এই ভিন্ন ধরনের উদ্যোগের উদ্যোক্তা মনামী বলেন, 'এই গহনাগুলোর ক্রেতা প্রধানত ফ্যাশন সচেতন নববধূরা। তবে আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি যেন এ ধরনের গহনাকে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার তালিকায় আনতে পারি। মনে করি, আমরা অনেকখানি সফল হয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় এখন ব্রাইড মেইডদের জন্যও আমরা গহনা বানাই। শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, পহেলা বৈশাখ, ফাল্‌গুন, ভ্যালেন্টাইন, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস, বেবি শাওয়ার, ব্রাইডাল শাওয়ারেও অনেকে ফুলের গহনা পরছে।

বাজারে চাহিদা বেড়েছে অনেক। গহনার কারিগরি যত্ন নিয়ে করতে আমরা অন্তত ৫ দিন আগে অর্ডার নিই। প্রতি মাসে ১৫-২০ তারিখের মাঝে আমাদের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিতে হয়। কাজের ক্ষেত্রে গবেষণার গুরুত্ব হিসেবে তিনি বলেন, 'যেহেতু নতুন প্রোডাক্ট তাই প্রচুর পড়াশোনা ও মার্কেট সার্ভে করতে হয়েছে। এখনও করতে হয়। উদ্যোক্তা হিসেবে ৮ বছরে এই প্রোডাক্ট লাইনের যাত্রা সহজ ছিল না।'

ফুলের গহনাকে এক ভিন্ন জায়গায় দেখতে চান মনামী। আর চান এই গহনা পাক এক ভিন্ন ধরনের জায়গা, যা শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানেই নয়, অন্যান্য অনুষ্ঠানেও পরতে পারবে মেয়েরা।



ছবি : উৎসাহ