শৈলী

শৈলী

সুস্থ থাকুক শিশু

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

রিমঝিম বৃষ্টির প্রতি শিশু বয়সের আকর্ষণ সব সময়ই বেশি। ঝুম বৃষ্টিতে পুকুরে ঝাঁপের কৌশল এখন আর সেভাবে নেই। এখনকার শিশুরা চাইলেই মাঠে নেমে পড়তে পারে না। কারণ শহরজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে ইট-পাথরের দালান-কোঠা। তবুও এ শহরে বৃষ্টি আসে। শিশুরা মাঠে যেতে না পারলেও জানালার গ্রিল ধরে অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ক্লান্তিহীন বৃষ্টি দেখে। কেউ কেউ তো আরও এককাঠি সরস। মেঘ তাদের কাছে বৃষ্টি আসার খবর নিয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলা ছাদের দিকে।

বর্ষাকালে শিশুর জন্য চাই বিশেষ যত্ন। ত্বক ভেজা থাকলে সহজেই ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে। তাই এ ঋতুতে শিশুর ত্বক সবসময় শুকনো রাখতে হবে। কাদাপানি দেখলেই অবলীলায় পা ডুবিয়ে বসে। এতে দেখা যায় সর্দি-জ্বর-কাশি এবং নোংরা পানি ঘাঁটাঘাঁটিতে চুলকানি-পাঁচড়া। তাই শিশুর শরীরে বৃষ্টির পানি লাগলে দেরি না করে শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। শিশুকে কাদাপানিতে একদম নামতে দেওয়া যাবে না। যদি শিশুর গায়ে কাদাপানি লেগেই যায়, তবে সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে। আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে সহজেই ময়লা জমে খোস-পাঁচড়াসহ নানা ধরনের ইনফেকশন হতে পারে। তাই শিশুকে সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুকে অবশ্যই রেইনকোট, ছাতা, গামবুট ব্যবহার করতে হবে। শরীরে কাদা, ময়লা পানি লাগলে তা পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। খাওয়া, গোসল, খেলাধুলা, হাত-মুখ ধোয়া, ঘামযুক্ত শরীর মুছে দেওয়া শিশুর সুন্দর ত্বকের জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই মায়েদের অবশ্যই এসব বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে এ ঋতুতে সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ জলীয়বাষ্পজনিত আবহাওয়ায় ত্বকে ময়লা জমে খোস-পাঁচড়াসহ সহজেই নানা ধরনের ইনফেকশন হতে পারে।

গরমে শিশু ঘেমে গেলে তার ত্বকে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে হবে। এই ঋতুতে শিশুকে ভিটামিন-সি জাতীয় ফলমূল ও পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। সে সঙ্গে শিশুকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। খোলামেলা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিশুকে খেলতে দিতে হবে। শিশুর বসবাস ও খেলার জায়গা পরিস্কার রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে শিশুর হাত, পায়ের নখ কেটে দিতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে আঙুলের ফাঁকে পানি জমে গিয়ে যেন সেখানে কোনো ছত্রাকের জন্ম না হয়।



লেখা : ফারজানা নীলা

মডেল : সাফওয়ান; পোশাক : শৈশব