শৈলী

শৈলী

তালের গুণগান

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের সর্বত্র কমবেশি তাল পাওয়া গেলেও তা সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। ধারণা করা হয়, এর জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকা। আবার অনেকের মতে, তাল আমাদের উপমহাদেশীয় বৃক্ষ বা ফল। তালের নেই কোনো অনুমোদিত জাত। তবে এর আকার ও রঙ বিভিন্ন হয়ে থাকে। কোনো কোনো তালগাছ ফল দেয় বারো মাসই। তালের ফল এবং বীজ দুই-ই বাঙালির খাদ্য। কচি অবস্থায় তালের বীজও খাওয়া হয়, যা তালশাঁস নামে পরিচিত। এই তাল পাকলে এর ঘন নির্যাস দিয়ে তালসত্ত্ব, পিঠা, কেক তৈরি করা হয়। এগুলো অনেক সুস্বাদুও বটে। তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিঙ্ক, পটাসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। পাকা তালের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে- খাদ্যশক্তি ৮৭ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, চর্বি .১ গ্রাম, শর্করা ১০.৯ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন .০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন .৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম। তাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায়ও তাল ভূমিকা রাখে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাল ভিটামিন বি-এর আধার। তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভালো ভূমিকা রাখে। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারা ডিমের কুসুম ও দুধ মিশ্রিত কোনো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যাদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল বেশি তারা তালের পিঠা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।



লেখা : নাসরীন হীরা; ছবি : সংগ্রহ