শৈলী

শৈলী

রোদে পোড়া ত্বক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সূর্যালোক আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি হতে পারে ক্ষতিকরও। আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলো ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন ডি আমরা পেয়ে থাকি সূর্যালোক থেকে। বর্তমান যুগে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যাপক ব্যবহার এবং শারীরিক পরিশ্রম হয়- এমন কাজ কমে মানুষের মধ্যে রোদে না যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। ফলে হাড়ের ক্ষয়সহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, যারা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন তাদের ত্বক সূর্যের অতিরিক্ত তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সূর্যালোকে অতি বেগুনি রশ্মিসহ আরও ক্ষতিকর রশ্মি থাকে, যা মানুষের ত্বকের জন্য ভালো নয়। এসব রশ্মি মানবশরীরে প্রবেশে তৈরি করে স্কিন ক্যান্সারের মতো রোগও। অতিরিক্ত রোদে যখন ত্বকের উপরিভাগ ঝলসে যায়, তখন সেটি কালো দেখায়। একে সানবার্ন বলে। সানবার্ন আপনার ত্বকের সব উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। সেইসঙ্গে অনেক দিনের সানবার্ন আপনার ত্বকে আনতে পারে বলিরেখা। এ ছাড়া স্কিনে কালো দাগ পড়া, র‌্যাশ হওয়া, আনইভেন স্কিন হওয়ার পেছনেও কারণ থাকে সূর্যরশ্মি। সানবার্ন হলে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, সেটি ঠিক করতে একটু সময় ধরে পরিচর্যা করতে হয়। শসা ও টমেটোর রস এ ক্ষেত্রে ভালো কাজে দেয়। আপনি চাইলে বিভিন্ন হাইঅ্যান্ড প্রসাধনীও ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো অভ্যাস। প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট ভালো অভ্যাস ও নিয়ম প্রতিরোধ করে নানারকম রোগ এবং ভোগান্তি। তাই রোদ থেকে হওয়া ক্ষতি এড়াতে আপনাকে থাকতে হবে সাবধান এবং মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ছাতা ব্যবহার করা একটি ভালো অভ্যাস। সানস্ট্ক্রিন ত্বকের জন্য ছাতার কাজটাই করে। চুল ও চামড়াকে রক্ষা করতে ছাতা কিংবা স্কার্ফ ব্যবহার করলেও অনেকাংশেই আমাদের মুখ, হাত-পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর থেকে বাঁচার জন্য ব্যবহার করতে পারেন সূর্যরশ্মি থেকে রক্ষাকারী ক্রিম। সানস্ট্ক্রিন ক্রিম দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো সূর্যের মারাত্মক ক্ষতি থেকে ক্যান্সারের মতো রোগ হওয়া রোধ করে। এটি খুব একটা প্রচলিত নয়। আর অন্যটি মানুষের চামড়াকে বার্ন ও ট্যান হওয়া থেকে রক্ষা করে। পৃথিবীজোড়া সৌন্দর্য সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে যার কদর আজকাল তুঙ্গে। এ ধরনের ক্রিমে ব্যবহার এসপিএফ ফরমুলা। এসপিএফ মানে সান প্রটেক্টিং ফ্যাক্টর। এটি একটি পরিমাপ, যা নির্দেশ করে কতটুকু সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি এই ক্রিম লেয়ার ভেদ করে ত্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে। ধরুন, কোনো ক্রিমের এসপিএফ আঠারো। তার মানে হলো আঠারোভাগের একভাগ ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি ওই ক্রিমের পরত ভেদ করে আপনার ত্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে। সাধারণত বিভিন্ন ব্র্যান্ড এসপিএফের মাত্রা ত্রিশ থেকে চল্লিশ পর্যন্ত রাখে। ব্র্যান্ড ভেদে বিভিন্ন সাইজের ক্রিম এবং লোশনের দাম ভিন্ন ভিন্ন। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মাপের বোতলের জেল, লোশন এবং ক্রিমের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ধুলাবালু আর গাড়ির ধোঁয়া থেকে বাঁচার জন্য সঙ্গে রাখতে পারেন স্কার্ফ। এটি আপনার ত্বক ও চুলকে রক্ষা করবে বাইরের ধুলাবালু থেকে। বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক লাগানো উচিত। এতে করে দূষিত ধুলা-ময়লা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকে কোনো রোগ বাঁধাতে পারে না। বাইরের কড়া রোদে বেশিক্ষণ ত্বক ও চুল খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়।

নিয়মিত রোদ চশমার ব্যবহার আপনার চোখকে সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। রোদে চোখের বিভিন্ন ইরিটেশন থেকে এটি চোখকে বাঁচাবে। ভালো মানের রোদ চশমার জন্য ঘুরে দেখতে পারেন বসুন্ধরা সিটি, পিঙ্ক সিটিসহ বিভিন্ন শপিংমলে।



লেখা : নাইফা উনাইসা

মডেল :আফরীন; ছবি : শৈলী