শৈলী

শৈলী


ভুলে ঝরে চুল

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      
চুল নিয়ে স্বস্তিতে আছেন এমন মানুষ পাওয়া খানিকটা কঠিন। যার সঙ্গেই আলোচনা হয়; কুন্তল কাহিনী, সে-ই জানায় চুল নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা। নিয়ম করে তেল, রোজ শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, ট্রিম, সিরাম; তবুও চুলে নিয়ে হতাশার শেষ নেই। কিন্তু দৈনন্দিন কিছু ভুলের কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চুলের স্বাস্থ্য সংরক্ষণে হতে হবে সচেতন। পরিকল্পনা থাকতে হবে ঘুম ভেঙে চোখ মেলা থেকে শুরু করে দিনের শেষে নিদ্রা দেবীর আগমনের পরও। সপ্তাহের সাত দিনেই চুলের যত্ন চাই।

চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি বেছে নেওয়া জরুরি। লম্বা চুলের জন্য প্যাডল ব্রাশ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কার্লি বা ঘন চুলের জন্য পিন ব্রাশ, আর বড় দাঁতের চিরুনি অথবা রেগুলার চিরুনি অন্যান্য চুলের জন্য ভালো। সঠিক চিরুনি বেছে নিয়ে সময় করে চুল আঁচড়ে নিন। যত্ন করে চুল না আঁচড়ানোর কারণে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা সবাই মোটামুটি এ কাজটি করি। তাড়াহুড়া করে আমরা চুলের জট ছাড়াতে চেষ্টা করি। এতে চুলের স্থায়ী ক্ষতিই শুধু হয় না; সেই সঙ্গে চুলের গোড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যখন হাতে কিছুটা সময় থাকবে তখন বসে চুল আঁচড়ে নিন। ধৈর্যের সঙ্গে চুলের জট ছাড়ান। আর হাতে সময় না থাকলে চুল উঁচু করে বেঁধে রাখুন, নয়তো একটি মেসি বান করে ফেলুন। চুল আঁচড়ানোর সময় নিয়ম মেনে চলুন। মনে রাখবেন, চুল আঁচড়ানোর মাধ্যমে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।

নানা কারণে মানুষের বেড়েছে ব্যস্ততা। এ জন্য চুল শ্যাম্পুর সময় পাওয়া যায় না যখন, তখন ড্রাই শ্যাম্পুই ভরসা। মাঝেমধ্যে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ঠিক আছে। কিন্তু ঘন ঘন এর ব্যবহার আপনার স্ক্যাল্পের ক্ষতি করবে। ড্রাই শ্যাম্পু চুল পরিস্কার করতে পারে না। এটা শুধু স্ক্যাল্প থেকে সব ময়েশ্চার শুষে নেয়। এর ফলে মাথার ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। ড্রাই শ্যাম্পুর অত্যধিক ব্যবহার চুলের গোড়ার ক্ষতি করে চুল পড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি চুলের বৃদ্ধিও কমিয়ে দিতে পারে।

শ্যাম্পু বিষয়েও হতে হবে সচেতন। কয়েক দিন পরপর বাজারে নতুন নতুন কনসেপ্ট নিয়ে শ্যাম্পু আসে। চটকদার বিজ্ঞাপনে খবর পৌঁছে যায় আপনার কাছে। ব্র্যান্ডমাত্রই দাবি করে, আপনার চুলে আমূল পরিবর্তন আনার সুপার পাওয়ার আছে এই শ্যাম্পুর। আপনিও সেই বিজ্ঞাপনে অভিভূত হয়ে কিনে ফেলবেন। এভাবে যদি ঘন ঘন শ্যাম্পু পরিবর্তন করার অভ্যাস থাকে আপনার, সেটা আপনার চুলের জন্য অনেক ক্ষতিকর। হেয়ার এক্সপার্টদের মতে, ঘন ঘন শ্যাম্পু পরিবর্তন করলে মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে, স্ক্যাল্পে চুলকানি, জ্বলুনি হতে পারে। প্রসাধনের লেবেল পড়ার অভ্যাস করুন। পণ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন। চুলের জন্য কোনো প্রোডাক্ট কেনার আগে তার উপাদানগুলো জেনে নিন। কিছু অ্যালকোহল চুলের ক্ষতি করে, আর কিছু আপনার চুলের জন্য ভালো। যেমন চুলের ক্ষতিকর কিছু অ্যালকোহল প্রোপাইল অ্যালকোহল, ইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, প্রোপানল, এসডি অ্যালকোহল, অ্যালকোহল ডিনাট। এগুলো চুলকে শুস্ক ও রুক্ষ করে দেয়। আবার সিটাইল অ্যালকোহল আপনার চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে।

গোসল করার পর ভেজা চুল সবচেয়ে নাজুক থাকে। কারণ এ সময় চুলের ফলিকল খোলা থাকে। এ সময় চুল আঁচড়ালে বা কোনো স্টাইলিং-এর চেষ্টা করলে সেটা চুল ভেঙে দিয়ে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ায়। তাই চুল আঁচড়ানো বা স্টাইলিংয়ের আগে চুল শুকিয়ে নিন। জট না ছাড়িয়ে চুল শ্যাম্পু করার সময় যখন চুলে আঙুল চালাবেন, জট বাঁধার কারণে চুল ভেঙে যেতে পারে। তাই চুল ধোয়ার আগে ভালো করে আঁচড়ে এবং আঙুলের সাহায্যে আগে চুলের জট ছাড়িয়ে নিন।

আমরা অনেকেই নানি-দাদির কাছে শুনেছি, শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুল তাড়াতাড়ি বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে হেয়ার এক্সপার্টরা বলছেন, চুল শক্ত করে বাঁধলে তা দৈর্ঘ্যে বাড়বে না, বরং চুলের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। চুল বাঁধুন বুঝে। নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হবে। হতে হবে সচেতন। চুলের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে জানুন। রাসায়নিক ব্যতীত শ্যাম্পু তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে মনে রাখতে হবে, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সিরাম- সবকিছু ব্যবহারেই সচেতন থাকতে হবে। চুল ও মাথার ত্বক রাখতে হবে পরিস্কার।





লেখা : নাইফা উনাইসা; মডেল : তাসনুভা; ছবি : শৈলী