শৈলী

শৈলী

ঝলমলে শাড়ি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাহিদার শীর্ষে রয়েছে হাফসিল্ক্ক, কটন, এন্ডি, জামদানি, মসলিনের মতো জমকালো ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। গ্রহণযোগ্যতার শীর্ষে পৌঁছতে শাড়িতে করা হয়েছে ভ্যালু অ্যাড, অর্থাৎ এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ব্লক, ফুলেল প্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, জারদৌসি। লিখেছেন রেনেসা আফরিন

যুগে যুগে এ দেশের ফ্যাশন দুনিয়ায় নানা ধরনের পোশাক যোগ হয়েছে। ভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাবও বেশ প্রবল। তবে কোনোটাই হয়নি চিরস্থায়ী। গঠনগত দিক থেকে পরিবর্তন হয়েছে সব ধরনের পোশাক। শুধু শাড়ি তার ঐতিহ্য নিয়ে একই রকম উজ্জ্বল। ইতিহাসবিদ নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে সেলাই করা কাপড় পরার রেওয়াজ আদিমকালে ছিল না। এই সেলাইবিহীন অখণ্ড বস্ত্র পুরুষের ক্ষেত্রে 'ধুতি' এবং মেয়েদের বেলায় 'শাড়ি' নামে অভিহিত হয়। বয়ন শিল্পের উৎপত্তির সঙ্গে শাড়ির সংযোগ রয়েছে। তখন যেহেতু সেলাই করার কৌশল জানা ছিল না, তাই সেলাই ছাড়া টুকরা কাপড় পরাই ছিল শাস্ত্রীয় বিধান। এ সময়ে সেলাই ছাড়া কাপড় পরার রেওয়াজ উপমহাদেশের বাইরেও প্রচলিত ছিল। পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতায় যেমন মিসর, রোম, গ্রিসেও সেলাই ছাড়া কাপড় ঐতিহ্য হিসেবেই চালু ছিল।

শাড়ি একখণ্ড সেলাইহীন বস্ত্র। অথচ একে শরীরে জড়িয়ে নেওয়া যায় বিচিত্র সব কৌশলে। আঁচল খুলে রেখে শাড়ি পরার আবেদন সব সময়ই ট্রেন্ডি। অনেক আগেও দেখা যেত এমন ঢঙে শাড়ি পরার চল। এখনও দেখা যাচ্ছে, আগের মতো রয়েছে এর জনপ্রিয়তা। দাওয়াত ও ঘুরতে যাওয়ার সময় এমনভাবে শাড়ি পরতে পারেন। শুধু নিমন্ত্রণ, উপলক্ষ কিংবা উৎসবেই নয়, শাড়ি নিত্যদিনের পোশাক হিসেবে প্রিয়। কাজে বেরোবার সময় শাড়ি পরুন গুছিয়ে। কাঁধের ওপরে আঁচল একটু চিকন করে গুছিয়ে রাখার চল বেশ নজরকাড়া এবং আরামদায়ক। এমন ঢঙে শাড়ি পরে সহজে কাজ করা যায়, চলাফেরায়ও হয় বেশ সুবিধা। আপনি কাজ করতে পারবেন স্বাচ্ছন্দ্যে। আবার আঁচল ভাঁজ করে রাখা যেতে পারে কাঁধের পাশে। এভাবে শাড়ি পরে নিলে ভারী গড়নের মেয়েদের পাতলা দেখায়। এমনভাবে ভাঁজ করে শাড়ি পরলে পাড় সুন্দরভাবে দৃশ্যমান হয়, যা নিয়ে আসে বেশ জমকালো ভাব। অনেকে এখন শাড়ির আঁচল পেছন থেকে ঘুরিয়ে এনে সামনে সুন্দর করে একপাশে সেট করে নিচ্ছেন। এর সঙ্গে পরতে হবে একটু বাহারি ধরনের ব্লাউজ। কোমর পর্যন্ত লম্বা হলে বেশ মানাবে, সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে অনেকাংশে। এ ধরনের শাড়ি পরে চলে যেতে পারেন সন্ধ্যার আড্ডা কিংবা রাতের জমকালো দাওয়াতে।

বর্তমানে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে হাফসিল্ক্ক, কটন, অ্যান্ডি, জামদানি, মসলিনের মতো পাতলা ধরনের জমকালো ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। গ্রহণযোগ্যতার শীর্ষে পৌঁছতে জামদানিতে করা হয়েছে ভ্যালু অ্যাড, অর্থাৎ এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ব্লক, ফুলেল প্রিন্ট, টারসেল, জামদানি প্রিন্ট। সুতি ও রেশমের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে অনেক শাড়ি, যার বুননই এনে দিয়েছে গর্জিয়াস লুক। এসব শাড়িতে বডির চেয়ে পাড় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বডিতে হালকা, পাড়ে ভারী নকশা। জমিনে জারুল, স্বর্ণালু কিংবা কৃষ্ণচূড়া ফুল ও টাইপোগ্রাফির মোটিফে নকশা করা শাড়ি বেশ চলছে। কিছু শাড়ির পাড়ে একেবারেই ভিন্নরঙের কাপড় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কুচির অংশে একরঙা, জমিন, আঁচল ও পাড়ে ভিন্নরঙের ব্যবহারে শাড়ি হয়ে উঠেছে বর্ণিল।

শাড়ির ধরন বুঝে নিতে হবে যত্ন। সুতির শাড়ি ম্যাড়মেড়ে হয়ে গেলে সব কায়দাই শেষ! তাই সুতির শাড়ির রঙ এবং কাপড় যাতে একেবারে কড়কড়ে থাকে, সেদিকে নজর রাখুন। যেহেতু এই শাড়ি বাড়িতেই ধুয়ে ফেলা যায়, তাই প্রথমবার যখন শাড়ি ধোবেন তখন উষ্ণ গরম পানিতে খানিকটা বিট লবণ মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখবেন। এতে শাড়ির রঙটি একেবারে পাকা থাকবে বারবার ধোয়ার পরও। এর বাইরে পানিতে অল্প রিঠা মিশিয়ে শাড়ি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে মেলে দিন। এতে শাড়ি অনেকদিন পর্যন্ত ফ্রেশ এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। সুতির শাড়ি প্রতিবার ধোয়ার সময় অবশ্যই তাতে হালকা করে মাড় দেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া যদি সুতির শাড়ি প্রতিবার পরার পর আয়রন করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে আলমারিতে রাখতে পারেন, তাহলে অনেকদিন আপনার শাড়ি ভালো থাকবে।

সিল্ক্কের শাড়ির আভিজাত্য আলাদা। এই আভিজাত্যে যাতে কোনো দাগ না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। সিল্ক্কের শাড়ি কোনোভাবেই মেটালের হ্যাঙ্গারে ঝোলানো উচিত নয়। এতে শাড়িতে মরিচার দাগ পড়ে যেতে পারে। বাড়িতে না ধুয়ে ড্রাইওয়াশ করে নিন। মাঝেমধ্যেই বাইরে বের করে ছায়ায় রাখুন। এতে শাড়িতে ফাঙ্গাস তৈরি হবে না।

আলমারিতে ন্যাপথলিন রাখলে তা সরাসরি শাড়ির সঙ্গে না রেখে অন্য কোথাও রাখলেই ভালো। জামদানি ও মসলিন রাখুন কাগজে মুড়ে। পোকামাকড় আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ শাড়ির প্রধান শত্রু।