শৈলী

শৈলী


হালকা হিমে স্টাইলিশ

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০১৯      

হাসান শাওন

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এখন চলছে মধ্য কার্তিক। সরে গেছে বাতাসের গতিপথ। মেঘেরাও কেমন আনমনে। কখনও ঝরছে ঝিরি ঝিরি হয়ে। আবার সূর্যকেও সুযোগ দিচ্ছে। তাই একটা মিষ্টি রোদ ঋতুর এই সময়ে।

জীবনানন্দ দাশের মতো স্পর্শকাতর হৃদয়ের মানুষকে কার্তিক না ছুঁয়ে পারেনি। তাই 'কার্তিক ভোরে : ১৩৪০' কবিতায় লিখেছেন :

"কার্তিকের ভোরবেলা কবে

চোখেমুখে চুলের ওপরে

যে শিশির ঝরল তা

শালিক ঝরাল বলে ঝরে . . ."

শালিক, মানুষের এই বন্ধন প্রকৃতির মাতার ঋণে। সেই একই ঋণে অসহ্য উষ্ণতা থেকে হিম আসে। সহনীয় এই হিমের ঋতুই কার্তিক।

গ্রামে কুয়াশা পড়ে গেছে। ভোরে পায়ের নিচের শিশিরও জানান দিচ্ছে পালাবদলের। তাই চাইলে নিজেকেও বদলে নেওয়া যায় সময়ের সঙ্গে। নিজের পোশাক, ত্বক, চুল সব কিছুই সেজে উঠতে পারে এই হেমন্তে।

দিনের বেলায় এ সময় রোদের তীব্রতা থাকে না। তাই ভারী কাপড়ে স্বস্তি হতে পারে। পুরুষরা অফিসের পোশাকে এ সময় যোগ করতে পারেন ফুলহাতা শার্ট। বছরের এ সময়টায় ফুল স্লিভই আরামের হবে। তা হতে পারে পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট। চোখে থাকতে পারে সানগ্লাস।

সন্ধ্যা নাগাদ আবার বদলে যায় এ সময়ের আবহাওয়া। উত্তর থেকে আসা বাতাসটা তীব্রতর হয় এ সময়। তাই দিনের চেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয় তখন।

মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে সিল্ক্ক কিংবা জর্জেট পরার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। ক্লজেটে আড়ালে থাকা ধুপিয়ান, লিনেন, ভয়েল, মসলিন, তাঁতের কাপড়ও এ সময় চমৎকার মানাবে। জর্জেট, জয়সিল্ক্ক, সিল্ক্ক কাপড়ের লং কামিজ, টপস, স্কার্ট, গাউন ধাঁচের পোশাক এ সময়ের আরামদায়ক। একই সঙ্গে ফ্যাশনেবল।

রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার শৌমিক দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, 'ছেলেদের কাছে এই ঋতুতে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় ফুলস্লিভ টি-শার্ট কিংবা পলো টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল টি-শার্ট সঙ্গে জিন্স, সুতি প্যান্ট বা গ্যাবার্ডিন এ সময় আরামদায়ক। এ সময় জিন্স ও টি-শার্টের সঙ্গে নেট জ্যাকেট, টপসের সঙ্গে কটি বেছে নিতে পারেন ক্যাজুয়াল পোশাকে।

উৎসবের ধরন মানানসই হলে এ ধরনের পোশাক পরতে পারেন সন্ধ্যার পর। প্রতিদিন কর্মজীবী নারীরা অফিসে শাড়ি পরতে চাইলে এখন অনায়াসে বেছে নিতে পারেন তসর, অ্যান্ডি, তাঁত কিংবা কটন শাড়ি। রাতে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সিল্ক্ক, কৃত্রিম মসলিন বা কাতান শাড়ি এ আবহাওয়ায় তা বেশ মানিয়ে যাবে। ফুলস্লিভেই পাওয়া যাবে আরাম।'

ছেলেদের জন্য এখন নানারকম স্টাইলিশ হুডিও বাজারে এসে গেছে। এ ছাড়া হালকা জ্যাকেট পরা যায় এ সময়, যা বেশ স্টাইলিশ। আর শুরুর শীতের ঠান্ডা হাওয়া থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা যেতে পারে একটি স্কার্ফ।

শীতের আগে চুল নিয়েও নিরীক্ষা হতে পারে। যাদের বড় চুল তারা একটু ছোট করে নিতে পারেন। এতে বয়সটাও বেশ কম মনে হবে আর স্টাইলিশও লাগবে। আর পেছনটা ইচ্ছামতো লেয়ার, ইউ কাট করা যেতে পারে।

শাড়ির ক্ষেত্রে হেমন্তে বেছে নিতে পারেন অনেক ধরনের সিল্ক্ক শাড়ি থেকে যে কোনো একটি। যেমন টাঙ্গাইল সিল্ক্ক, সিল্ক্ক শিফন, সাউথ ইন্ডিয়ান সিল্ক্ক ইত্যাদি। খাদির শাড়িও অনায়াসে পরতে পারেন। আর তা যদি হয় উজ্জ্বল রঙের, তবে আপনিই মধ্যমণি হয়ে উঠতে পারেন যে কোনো আসরে।

ত্বকের বেলায় ছেলেরা একটু যেন উদাসীন। শীতের ছোঁয়াতেই ত্বক খসখসে হতে শুরু করে। এ সময় ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখা দরকার। তাই ত্বক পরিস্কার করার পর যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক তেল লাগাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল বেশ উপকারী। মুখ ধোয়ার পর হালকা ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েল লাগিয়ে রাখলে ত্বক দীর্ঘসময় থাকবে নরম, কোমল ও মৃসণ।

এ ছাড়া দিনে রুক্ষতা এড়াতে প্রতিবার হাত-মুখ ধোয়ার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ধুয়ে ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার বেশ ভালো। তা হচ্ছে পানি। সুলভ এবং সহজলভ্য এই পানি হচ্ছে ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপকারী ময়েশ্চারাইজার। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা, দুধের সর অথবা মধু। এসব ময়েশ্চারাইজার দীর্ঘসময় ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখবে।

এ প্রসঙ্গে রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, 'শীতে ত্বকের ওপর মরা কোষ বেশি জমে। ফলে ত্বক নিষ্প্রভ ও অনুজ্জ্বল দেখায়। মরা কোষ দূর করতে শীতে ১৫ দিনে একবার পার্লারে গিয়ে ডিপ ক্লিন করা ভালো। এ ছাড়া বাড়িতে সপ্তাহে একদিন স্ট্ক্রাবার দিয়ে স্ট্ক্রাবিং করলেও ত্বকের মরা কোষ ঝরে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল। স্ট্ক্রাবিং করতে দুই চা চামচ দুধের সরের সঙ্গে এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে হালকাভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। শীতে সব ধরনের ত্বকের অধিকারীরাই সপ্তাহে একদিন অ্যালোভেরা এবং মধু দিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি ব্যবহারে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও কোমল।'

তাই জেগে উঠুন ঋতুর ডাকে। অধিষ্ঠিত হচ্ছে শীত। তার প্রস্তুতি পর্ব এই হেমন্ত। নজরকাড়ার অনবদ্য মৌসুম।