শৈলী

শৈলী


পোশাকে ট্যাফের ভিন্নতা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯      

সাফিয়া সাথী

শুধু লজ্জা নিবারণই পোশাকের একমাত্র লক্ষ্য নয়। মৌলিক এই চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি প্রকাশ করে তার স্বাতন্ত্র্য। বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো তাই সক্রিয় পোশাক নিয়ে নানা নিরীক্ষায়। বাংলাদেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোও সে পথে হাঁটছে।

আজকের সময়ের ফ্যাশনে বড় একটা জায়গা দখল করে আছে ট্রেন্ডি ক্যাজুয়াল পোশাক। আমাদের দেশের ফ্যাশন সচেতন ব্যক্তিরা নিত্য জীবনের অন্য বিষয়গুলোর মতো পোশাক ভাবনায়ও গ্লোবাল ট্রেন্ড দিয়ে প্রভাবিত। চিরাচরিত ধারার পোশাকে নিজেকে আর দেখতে চান না অনেকেই। কিন্তু এ ধরনের পোশাকে এখনও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেনি আমাদের ফ্যাশন বাজার। এই অপূর্ণতার জায়গা থেকে এ সময়ের পোশাক দুর্ভাবনায় মুক্তি দিতে যাত্রা 'ট্যাফ'-এর।

প্রতিশ্রুতিশীল এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডটির কালেকশনে আছে লং, সেমি লং, নি লেংথ ফ্রক, টপ, লং টপ, ম্যাক্সি ড্রেস, জাম্প স্যুট ইত্যাদি পোশাকের সমাহার।

কথা হয় ট্যাফের অন্যতম উদ্যোক্তা তাসনীম আমিন অভ্রর সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের স্টাইল বা নিজের পছন্দের পোশাক বাজারে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যেত না বললেই চলে। নিজের ওয়ার্ডরোব নিয়ে আমি যেভাবে চিন্তা করি, নিজে যেরকম কাপড় পরতে পছন্দ করি, সেটির ভালো একটা ডিমান্ড আছে বাজারে। এই ভাবনা থেকে আমার আর আমার বন্ধু ফারাজের সম্মিলিত উদ্যোগ 'ট্যাফ'। পুরোপরি নিজেদের ডিজাইনে, নিজস্ব কারিগর দিয়ে তৈরি হয় আমাদের পোশাক।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কনটেম্পোরারি ট্রেন্ড মেইনটেন করতে পছন্দ করি। টিনএজার বা কর্মজীবী করপোরেটরাও এসব পোশাক পছন্দ করেন।

ট্যাফের পোশাকে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট বা মোটিফের সঙ্গে রং ও কাপড়ের ধরন প্রাধান্য পায়। ফ্লোরাল প্রিন্ট, পলকা ডট, ছোট-বড় বিভিন্ন মোটিফ তাদের কালেকশনকে করেছে দেশের অন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো থেকে আলাদা। ব্র্যান্ডটির পোশাকে রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড মাথায় রাখা হয়। একই সঙ্গে সময়োপযোগী রং ও প্রিন্ট ব্যবহার করায় ট্যাফের পোশাক পেয়েছে এক ভিন্নমাত্রা।

নি লেংথ স্কার্ট উয়েস্টলাইনে বো বা বেল্ট দেওয়া ড্রেসের স্টাইল ট্যাফ অনন্য বৈশিষ্ট্য। ব্র্যান্ডটি সাফল্যের সঙ্গে এ প্রবণতা ধরে রেখেছে। এ ছাড়া পোশাকে বৈচিত্র্য আনতে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের বোতাম ও বর্ডার। ট্যাফের পোশাকে ফ্রিলের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। নেক লাইন, ড্রেসের হাতা, ম্যাক্সি ড্রেসের বর্ডার লাইনে দেখা যায় ফ্রিলের ব্যবহার। এ ধরনের পোশাক পরে তরুণরা যেতে পারেন অনায়াসে ক্লাসে কিংবা হ্যাং আউটে। পেশাজীবীরা একই পোশাক বেছে নিতে পারেন অফিসে যাওয়ার সময়ও।

শুরু থেকেই ট্যাফের লক্ষ্য ছিল ট্রেন্ডি স্টাইলিশ পোশাক তৈরি। তা শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য নয়, মধ্যবিত্তরাও যেন বাজেটের মধ্যে এক্সক্লুসিভ পোশাক পরতে পারেন, সে লক্ষ্যও ব্র্যান্ডটির ছিল। এখনও সে পথেই হাঁটছে ট্যাফ। মসৃণ হোক তাদের এই পথচলা- এই কামনাই এখন ট্যাফ প্রেমীদের।

ছবি : ট্যাফ