শৈলী

শৈলী


জলপান ক্যাটারিং

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯      

শৈলী ডেস্ক

বাঙালি ভোজনপ্রিয় জাতি। বারো মাসে তের পার্বণের এ জনপদে খাবার নিয়ে চলে নানান নিরীক্ষা। ঋতু আর উৎসবভেদে এখানে খাবার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আর এতেই রসনা তৃপ্ত হয় সবার।

এখন নগর জীবনের ব্যস্ত সবাই। রান্নায় আলাদা করে সময় দেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আর এই চিন্তা থেকেই শহরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ক্যাটারিং সার্ভিস। বিয়ে বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ একটি জনপ্রিয় সার্ভিস হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রতি।

জলপান ক্যাটারিং সার্ভিস তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান। নিজেদের খাবারের গুণে যেটি হয়ে উঠছে শহরের ব্যস্ততম ক্যাটারিং সার্ভিসগুলোর একটি। এর শুরুটা ছিল ৬ অক্টোবর, ২০১৫ সালে।

তরুণ উদ্যোক্তা ও জলপান ক্যাটারিং সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হায়দার বলেন, বাস্তবতার তাগিদে রান্না শিখতে হয়েছিল। জীবনের প্রথম রান্না করা ডাল আমারই এক রুমমেট ময়লা পানি ভেবে ফেলে দিয়েছিল। সেদিনই হয়তো নিজের অজান্তে মনের মধ্যে একটা কিছু কাজ করেছিল, আমাকে ভালো রান্না শিখতেই হবে।

রান্নাটা খুব দ্রুত এবং ভালোভাবেই শিখে ফেললাম। এর পেছনে যার সবচেয়ে বড় ভূমিকা, সে আমার সহধর্মিণী। ও আমাকে ফোনে বলে দিত আর আমি সেভাবেই চেষ্টা করতাম। রান্না তো শিখে ফেললাম। এবার পরিবার ও বন্ধুদের রান্না করে খাওয়ালাম, বেশ প্রশংসাও পেলাম এবং এভাবে পেতেই থাকলাম।

জলপান ক্যাটারিং সার্ভিসের শুরুটা কেমন ছিল- এ প্রশ্নের উত্তরে আশরাফুল হায়দার বলেন, ২০১৩ সালের কথা। আমি তখন চাকরিজীবী। একদিন আমার খুব কাছের এক বড় ভাই বললেন, চল আমরা একটা ফুড কোর্ট দিই, দু'জনে মিলে চালাব। তিনিও খুব ভালো রান্না করতেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, বানিয়েও ফেললাম। ওটা বানাতে বানাতে হঠাৎ মিরপুরে ঢাকা কমার্স কলেজের সামনে একটা দোকান পছন্দ হয়ে গেল দু'জনের। দু'জনের সর্বস্ব দিয়ে দোকান ও ফুড কোর্ট দুটোই শুরু করলাম। ৩ মাস পর আর চালাতে পারলাম না, দুটোই বন্ধ হয়ে গেল। কারণ চাকরি আর ব্যবসা একসঙ্গে হচ্ছিল না। ফিরে গেলাম পুরোপুরি চাকরিতে।

হতাশা কাটিয়ে কীভাবে আবার ব্যবসায় ফিরলেন- এ প্রশ্নের জবাবে জলপান ক্যাটারিং সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হায়দার বলেন, চাকরিতে কোনোভাবেই মন বসছিল না। এভাবে দু'বছর কেটে গেল। আমি যে কোম্পানিতে চাকরি করতাম সেখানে আমার দায়িত্বে ওই কোম্পানির ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইট তৈরি করা হলো এবং বেশ ভালোভাবেই প্রচার ও পণ্য বিক্রয় হতে থাকল। হঠাৎ একদিন মাথায় এলো, আমিও তো ফেসবুক ও ই-কমার্সের মাধ্যমে খাবার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি। ভাবনা শুরু, নতুন করে। এ যেন আর একটি সন্তান ঘরে আসার মতো। আমার সেই সন্তানের নাম রাখলাম 'জলপান'। নামের ব্যাখ্যা আমি জানি না, শব্দটা ভালো লাগল তাই। আমার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।

জলপান ক্যাটারিংয়ের প্রথমদিকে অভিজ্ঞতা জানিয়ে আশরাফুল হায়দার বলেন, ফেসবুকে 'জলপান'-এর জন্মের শুরু থেকেই বেশ ভালো সাড়া পেলাম। অর্ডার আসতে শুরু করল। আমার সহধর্মিণী আর আমি মিলে বাসায় রান্না করতাম, তারপর মানুষের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিতাম। ১০০ জনের একটা অর্ডার পেলাম হঠাৎ। মেন্যু ছিল ২ পিস লুচি, সবজি, সালাদ আর মিষ্টি। মিষ্টিটা ছোট বোন করে দিল। আমি সবজি রান্না করলাম। সারারাত ও লুচি বানাল আর আমি ভাজলাম। ভোর ৫টায় ডেলিভারি দিলাম। তারপর দু'দিন দু'জনেরই সারা শরীর ব্যথা। তাতে কী, ওতেই মহা আনন্দিত। এভাবেই 'জলপান ক্যাটারিং সার্ভিস' হোঁচট খেতে খেতে বড় হতে লাগল। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে আজ আমরা একটি বিশাল পরিবার।

বর্তমান ব্যবসা সম্পর্কে আশরাফুল হায়দার বলেন, জলপানের মেন্যুতে অফিস লাঞ্চ, বিয়ের শাহী খানা, বেকারিসহ দু'শতাধিক আইটেম আছে। এখন আমাদের নিজস্ব কিচেন আছে ৩টি।

ব্যবসা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে আশরাফুল হায়দার বলেন, ফুড ফটোগ্রাফি, লাইভ টেলিকাস্ট, লাইভ রিভিউ এ রকম কিছু চিন্তা আছে। আপাতত কোনো আউটলেটে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। তবে ভবিষ্যতে হতে পারে। সফল উদ্যোক্তা আশরাফুল হায়দার বলেন, মানুষের ভালোবাসা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা ও স্থিতিশীলতা, সৃজনশীল মন আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। ভালো কাজে অনেক বাধা আসবে, তবে কোনো বাধাই বাধা না, যদি সঙ্গে থাকে সততা আর ধৈর্য। সফলতা আসবেই।

জলপান ক্যাটারিং সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ :০১৮৪২১৩৮৬৯৭