শৈলী

শৈলী

বিয়ের অনুষঙ্গ

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯

ব্রাইডাল পারফিউম

বিয়ের সব আয়োজন শেষ। আপনি বোধ হয় ভুলে গেছেন বিয়ের পোশাকের বাইরেও প্রয়োজন হয় নানা অনুষঙ্গ। সেসব অনুষঙ্গেও থাকা চাই চলতি ফ্যাশন ধারা। কী হতে পারে সেসব অনুষঙ্গ, জানিয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম তুষার





বিয়ের দিনটি হওয়া চাই সুরভিত। এজন্য বর-কনের প্রয়োজন পারফেক্ট সুগন্ধি। বিয়েতে তো আর যেনতেন সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় না। ব্রাইডাল পারফিউম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঋতুর রয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। বছরের উষ্ণ সময়ে বিয়ে হলে সাইট্রাস ও ফোরাল গন্ধযুক্ত পারফিউম বেছে নেওয়া ভালো। আর শীতের মৌসুমে বিয়ে হলে উডি নোটের সুগন্ধিই ভালো। তাই বিয়ের অনুষ্ঠান কোন সময়ে, কোথায় এবং কখন হচ্ছে, সেটাও থাকতে হয় বিবেচনায়। বিয়ের দিনে কনের জন্য সঠিক মেকআপের মতোই সঠিক পারফিউম বেছে নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। শীত মৌসুমে আম্বার, ভ্যানিলা বা সিনামন জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করা যায়। আর সিনামন জাতীয় সুগন্ধি চেনার উপায় হচ্ছে এ পারফিউমগুলো অরেঞ্জ, ক্যারামেল, লেমন গন্ধযুক্ত হবে। তা ছাড়া উল ওয়াটার, স্কাটা, বারবারি ও কোরাস ক্যালাভিন পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন। বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত একটু গাঢ় সৌরভের পারফিউম ব্যবহার করাই উত্তম। হলুদ উৎসবে নিজেকে আরও প্রাণবন্ত করতে কনে ব্যবহার করতে পারেন ফুলের মিষ্টি সুগন্ধি। উপহার হিসেবে কনেকে দিতে পারেন আলাদা সুগন্ধি। উপহার হিসেবে কিনতে পারেন হুগো বস, আরমানি, ডানহিল, গুচি, শ্যানেল, কেলভিন কেইন, অ্যাইগনার, ভারসাচে, কেনেথ কোল, জিডেন্সি, ডেভিডফ, বুলগারি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের পারফিউম। তা ছাড়া রয়েছে মেরিজ পারফিউম, রয়েল মেরিজ, জোভাল সেক্স অ্যাপিল, ইন্টারনাল লাভ, বল্‌গু-লেডি, বল্‌গু-ফর মেন, ওডি অ্যাপারেল, ওয়ান ম্যান শো, জাগুবার, ম্যাক্সি ইত্যাদি। বিয়ে করতে যাওয়া কনেদের পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে কার্টিয়ারের লা প্যাথেঁয়া অ দে পারফিউম, এস্টি লডারের মডার্ন মিউস চিক, জো মালোঁর উড সেজ অ্যান্ড সি সল্ট কোলোন, মার্ক জ্যাকবসের ডেইসি ড্রিম, কেলভিন কেইনের রিভিল, কিনিকের বিয়ন্ড রোজ, বসের ম ভিয়, ল্যাঁকয়ের লা ভির এচ্চ বেলে ল' অ্যাবসলিউ দে পারফিউম।

গহনা

বিয়ের গহনা নিতে নিশ্চয়ই কেউ ভোলেন না। তবে এই গহনা একটু আলাদা। পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা। কেউ কেউ স্বর্ণের ওপরের রঙের কারুকাজ করে নিলেও অনেকে পছন্দ করেন ইমিটেশনের গহনা। কারণ, এটি ইচ্ছেমতো করে নিতে পারেন, ডিজাইনেও আনতে পারেন ভেরিয়েশন। অনেকে শাড়ি বা লেহেঙ্গার কাজ বা ফুলের ডিজাইনেও গহনা বানিয়ে নিয়ে থাকেন। এসব গহনার মধ্যে হতে পারে গলায় মুক্তার কয়েক লহরের হার, কানের ঝুমকা অথবা ঝোলানো দুল, খোঁপার জমকালো কাঁটা, সেইসঙ্গে টিকলি বা সিতাপাটি, টায়রা ও ঝাপটা। সবকিছুতেই চাই নতুনত্ব এবং আধুনিকতার ছোঁয়া। খুব সাধারণ নকশার বাহারি রঙের কুন্দনের গহনা পছন্দ অনেকের। হাতে চওড়া চূড়ের চল আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছে। রতন চূড়, মানতাসা, কোমরে বিছা, বাজুও পরছেন অনেকে। বর শেরওয়ানির সঙ্গে এক বা দুই লহরের মুক্তার মালা পরতে পারেন। যে কোনো রঙের শেরওয়ানির সঙ্গে মানানসই। এ ছাড়া পাথর বা কুন্দনের ব্রোচও পরতে পারেন।

জুতা এবং পার্স

পোশাক গহনার সঙ্গে আরও একটি বিষয় লক্ষণীয় থাকে, তা হলো ব্রাইডাল ব্যাগ আর জুতা। বিয়েতে পার্সের পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে বাটুয়ার। কনের সঙ্গে অনেক সময় অল্পস্বল্প জিনিস যেমন মোবাইল ফোন, টিস্যু কাছে রাখতে হয়। এগুলো হাতের মুঠোয় রাখা একদম বেমানান। সেক্ষেত্রে এ পার্স ব্যাগ বা বাটুয়ে যেমন ফ্যাশনেবল, তেমনি মানিয়ে যায় খুব সহজে। বাটুয়ে দেখতে চারকোণা আর একটু লম্বা আকৃতির হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা বক্সের মতো হয়ে থাকে। এতে রেশমি, জামদানি আর কাতান কাপড়ের ব্যবহার অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাতে কাচ, পুঁতিদানার ব্যবহার আর হাতের কাজের ব্যবহার তো আছেই। আর পার্সের ক্ষেত্রে মেটালের ব্যবহার আর স্টোনের তৈরিগুলোই চোখে পড়ে সবার আগে। এসব পার্সের ক্ষেত্রে সোনালি, রুপালি, লাল রঙের ওপর কাজের দেখা বেশি মেলে। আর বাটুয়ার ক্ষেত্রে বেগুনি, নীল, আসমানি রং কনের যে কোনো রঙের পোশাকের সঙ্গে মানানসই। বাটুয়া আর পার্সের সঙ্গে আছে কনের জুতা। বিয়ের ক্ষেত্রে হিল আর স্টোনের কাজ করা জুতা কনের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে। এসব শুতে পুঁতি ক্রিস্টানের কাজের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এসব শু লাল, সোনালি, রুপালি, গাঢ় নীল আর ভেলভেটের কাপড়েও হয়ে থাকে। এসব শু পায়ের সামনের দিক সরু আর পেছনের দিক তুলনামূলক প্রশস্ত আর চ্যাপটা হয়ে থাকে। বরের জন্য শেরওয়ানির সঙ্গে নাগরা ছাড়া আর কিছুই যেন মানায় না। সোনালি, চাঁপাসাদা আর মেরুন রঙের নাগরা চলতি ধারায় বেশি জনপ্রিয়।

পাগড়ি

বরের মাথায় পাগড়ি এখনও জনপ্রিয়। শেরওয়ানির সঙ্গে পাগড়ি নিয়ে আসে একটা রাজসিক ব্যাপার। বিয়েতে পাগড়ি বরের অলঙ্কারের মতো। এই পাগড়ি পরার ঐতিহ্য প্রাচীন। তবে পাগড়ি পরার নকশা এবং রঙে এখন ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। উজ্জ্বল রঙা পাগড়ি পরার চল এখন। কেনা পাগড়ির বদলে হাতে বাঁধা পাগড়িতে বিয়ের সাজে আসে ভিন্নতা। বরের সাজে নতুনত্ব আনতে ভারতের রাজস্থান, বেলুচ, হায়দরাবাদ কিংবা মোগল ঘরানার পাগড়ি এখন বেশি জনপ্রিয়।

বেল্ট জুতা আর মানিব্যাগ

রিসিপশন আয়োজনে ছেলেদের পোশাকে নজড় কাড়ে বেল্ট ও জুতা। এটি অবশ্যই মানানসই হওয়া উচিত। স্যুটের সঙ্গে পরার জুতাগুলো একটু আলাদা হয়। এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জুতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে বেল্ট। আর মানিব্যাগটা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। এগুলো চেষ্টা করবেন ব্র্যান্ডের দোকান থেকে নিতে। া