শৈলী

শৈলী


বিয়ের সজ্জা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯      
বিয়েটা সবসময় হওয়া চাই রমরমা। তাই সবারই কমবেশি মনোযোগ থাকে সাজসজ্জার দিকে। মেয়ে দেখতে যাওয়া থেকে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত থাকে নানা আয়োজন। আর সবকিছুতেই থাকা চাই একটু ভিন্নতা। মিষ্টির হাঁড়ি, তত্ত্ব পাঠানো, বিয়ের সব আয়োজনে ডেকোরেশন বেশ গুরুত্ব পায়। বিয়ের সাজসজ্জার সব দিক নিয়ে লিখেছেন তৌহিদুল ইসলাম তুষার

বিয়ের পরিকল্পনা মানে শুধু সুন্দর স্টেজ ডিজাইন করা নয়। অনুষ্ঠান কেমন হবে সে অনুযায়ী ভেন্যু ঠিক করা, অতিথির তালিকা আর খাবারের মেন্যু ফাইনাল করা, বর-কনের পাশাপাশি আত্মীয়দের পোশাক কেনা, যানবাহনের ব্যবস্থা করা, দাওয়াতপত্র ছাপানো আর সেগুলো তালিকা অনুযায়ী সব আত্মীয়ের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক কাজ। এগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হয় বাজেটেরও। আপনার সাধ্যের সীমা কত দূর, বাজেট জানা না থাকলে নির্ধারণ করা মুশকিল। যে কোনো বিষয়ে আপনার নির্ধারিত বাজেটের কম-বেশি হওয়াকে আপনি চাইলে অন্য আরেকটা আইটেমের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে নিতে পারবেন। বাজেটে প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য ভেন্যু ভাড়া থেকে শুরু করে, দাওয়াতপত্র, বর-কনের পোশাক-গহনা, পরিবারের সবার পোশাক এবং অনুষঙ্গ, উপহার, মিষ্টি, খাবার, যাতায়াত, ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফারসহ সব কিছুই তালিকাভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। ছেলে ও মেয়ের আলাদা অনুষ্ঠান হবে, নাকি জয়েন্ট প্রোগ্রাম হবে সেটা দু'পক্ষ মিলে আলাপ করে নিতে হবে।

পানচিনিতে পর্ব শুরু

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পানচিনি বা বাগদানের মধ্য দিয়ে। এই অনুষ্ঠানে সাধারণত দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাই উপস্থিত থাকেন। এক সময় বাগদান অনুষ্ঠান শুধু কনেকেন্দ্রিক হলেও আজকাল বর-কনে দু'জনের উপস্থিতিই দেখা যায়। বাগদান অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন হচ্ছে আংটি পরানো। এ ছাড়া পোশাক, গহনা, মিষ্টি, খাওয়া-দাওয়া এসবের আয়োজনও থাকে। এনগেজমেন্ট বা বাগদান অনুষ্ঠানের সাজ-পোশাক খুব বেশি জমকালো না হলেও চলে। হালকা রং ও হালকা কারুকাজের পোশাকই বেশি মানানসই এই অনুষ্ঠানে। যেহেতু আংটি বাগদান অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূূর্ণ অংশ, তাই আংটিটি হওয়া চাই মনের মতো। নিজের পছন্দ মতো স্বর্ণের বা হীরার আংটি বেছে নিন। তবে তার আগে বর-কনের আংটির মাপটি অবশ্যই জেনে নেবেন।

দাওয়াতপত্র

বিয়ের কাজ শুরু হয় কার্ডের মধ্য দিয়ে। আপনার মনের মতো কার্ড ডিজাইন করে দেওয়ার জন্য ঢাকায় এখন প্রচুর কার্ডশপ রয়েছে। ঢাকার নিউমার্কেট আর পুরানা পল্টনে গেলেই খোঁজ পাবেন অনেক দোকানের। হ্যান্ডমেইড পেপার থেকে শুরু করে চাহিদামতো যে কোনো থিমের কার্ড পেয়ে যাবেন এসব দোকানে। এসব দোকানে বিভিন্ন কালেকশন ছাড়াও পছন্দের কোনো ডিজাইন দেখালেও সেটা করে দেওয়া হয়। এসব পছন্দ না হলে একটু ইউনিক ডিজাইনের কার্ডের খোঁজে যোগাযোগ করতে পারেন গুলশানের কিছু স্টুডিওর সঙ্গে।

বিয়েবাড়ির তত্ত্ব

সাধারণত গায়ে হলুদের আনুষ্ঠানিকতায় তত্ত্বের আদান-প্রদান হয়। কনেপক্ষ হোক বা বরপক্ষ, দুই বাড়ির ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পায় এটি। বিয়ে মানেই বর-কনের মিলন নয়, দুই বাড়ির মানুষের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন। এই বন্ধন অটুট রাখতে তত্ত্বের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কুটুমবাড়িতে পাঠানো এই তত্ত্ব আপনার রুচির পরিচায়ক। তাই হবু আত্মীয়ের তত্ত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিন। এতে অবশ্য কোনোরকম কনফিউশন ছাড়াই খোলামেলা আলাপ করে নিতে পারেন হবু আত্মীয়ের সঙ্গে। আজকাল দুই পরিবার এক হয়ে নানা বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করে নেন। আগেভাগেই জেনে নিন, কুটুমবাড়ির পরিবারের সদস্যরা কেমন পোশাক পছন্দ করেন। হবু শ্বশুর-শাশুড়ির পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিন। তত্ত্বে পোশাক তো পাঠাবেনই, সঙ্গে আরও বিশেষ কিছু। হবু শ্বশুরবাড়িতে ননদ বা শ্যালিকা থাকলে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ, গহনা, সুগন্ধি এবং জুতাও দিতে পারেন। এতে অবশ্য ননদ বা শ্যালিকা খুশিতে লুটোপুটি খাবে। বাড়ির খুদে সদস্যদের জন্য অবশ্যই নিন সফট টয় বা চকোলেট। বাড়ির পুরুষ সদস্যদের জন্য দিতে পারেন গ্রুমিং গ্যাজেট বা স্মার্ট কোনো এক্সেসরিজ। পোশাকের সঙ্গে মিষ্টির তত্ত্বও কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আত্মীয়ের বাড়ির কারও ডায়াবেটিসের প্রবলেম থাকলে সুগার ফ্রি মিষ্টি পাঠান। জাঁকজমকপূর্ণ পেপারে মোড়ানো মিষ্টির প্যাকিং তো অতি আধুনিক। তবে সাবেকিয়ানা লুক আনতে মাটির হাঁড়িতে মিষ্টি পাঠাতে পারেন হবু শ্বশুরবাড়ি। তত্ত্বে রাখতে পারেন ফিরনি-পায়েস, পুডিং, নোনতা ড্রাই ফ্রুটস, চিপস, চকোলেট এবং নানারকম কাবাব। তত্ত্বে মিষ্টির পাশাপাশি থাকতে পারে লাড্ডু, বালুশাই, রসকদম, প্রাণহরা ইত্যাদি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তত্ত্বে থাকতে পারে পিঠা-পুলি। নানারকম নকশি পিঠা সাজিয়ে তত্ত্ব হিসেবে পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া ওয়েস্টার্ন কালচারকে ধারণ করতে তত্ত্বে রাখতে পারেন গায়ে হলুদের উপহারস্বরূপ কেক। বাড়ির মুরব্বিদের জন্য তত্ত্বে অবশ্যই রাখতে হবে নানারকম ফল এবং পান। তত্ত্বকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে হবু শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা কবিতা বা মজার ছড়া লিখে দিতে পারেন। এই ছোট ছোট ছোঁয়া দুই পরিবারের ভবিষ্যতের বন্ধনকে সুদৃঢ় করবে। তত্ত্বে কী পাঠাবেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি কীভাবে পাঠাবেন সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর করে সাজিয়ে পাঠানো উপহারও অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এ জন্য অবশ্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রফেশনালদের সাহায্য নিতে পারেন।

ডেকোরেশন ও আলোকসজ্জা

বিয়েবাড়ি, গায়ে হলুদ ও বিয়ের স্টেজ, ফুলের গহনা, অতিথি বরণ, মালাবদল, ফুলসজ্জা- বিয়ের প্রায় সব প্রয়োজনীয় মুহূর্তেই থাকে ফুলের উপস্থিতি। প্রফেশনালদের দিয়েই আজকাল স্টেজ সাজানো হয়। এ ছাড়া বিয়েবাড়িতে চটজলদি উৎসবের আমেজ আনতে আলোকসজ্জা আর ফুল দিয়ে ডেকোরেশনের কোনো জুড়ি নেই। বাড়ির রঙিন পর্দার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিন কিছু গাঁদা ফুলের মালা আর তার ফাঁকে ফাঁকে থাকতে পারে ঝিলিক দেওয়া কিছু মরিচবাতির নরম আলো, সঙ্গে ঘরের কোণে ফুলদানিতে রাখুন ফ্রেশ কিছু ফুল, দেখবেন মায়াময় এক পরিবর্তন এসে গেছে ঘরদোরে। গাঁদা ফুলের দাম অন্যান্য ফুলের চেয়ে কম। আবার দু-তিন দিন ধরে বেশ তাজাও থাকে। শাহবাগ অথবা কাঁটাবন থেকে খুব অল্প দামে ফুল সংগ্রহ করা যায়। আলোকসজ্জার জন্য নিজের এলাকার যে কোনো ডেকোরেটরের কাছে গেলেই ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এখনকার দিনে সবাই চায় একটা থিম অনুযায়ী বিয়ের ভেন্যুটা সাজাতে। চলনসই কিছু থিম হলো রয়েল, মুঘল, রাজস্থানি, ময়ূর, গার্ডেন, ফেইরিটেল, রিকশা, মেলা, বাংলা ট্র্যাডিশনাল, ফিউশন অথবা পছন্দের কোনো রং। থিম অনুযায়ী কাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিয়ের গেট থেকে শুরু করে, চেয়ার-টেবিল সাজানো, দেয়াল, সিলিং কিংবা স্টেজ- সব কিছুতে একটু নতুনত্বের ছোঁয়া পাওয়া যায়।

গাড়ি

বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য অনেকেই গাড়ি ভাড়া করে থাকেন। রেন্ট-এ কারে আপনি মার্সিডিজ, টয়োটা করোলা, মাইক্রোবাস, পাজেরো জিপ সবই পাবেন। ঘণ্টা হিসাবে এগুলোর দাম ধরা হয়। ঢাকার বাইরে গেলে ভাড়া হবে আলাদা। বায়তুল মোকাররম, জিপিওর মোড়, পল্টন প্রভৃতি জায়গায় ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া যায়।

বিয়ের ভেন্যু

আপনার হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে ছয় মাস আগেই ভেন্যু বুকিং দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অতিথির যাতায়াতের জন্য সহজ হবে এমন লোকেশন বেছে নিন। ভেন্যুর ধারণ মতোও একটা বড় বিষয়। সব গেস্টের একই সঙ্গে বসা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব কি-না, সে তথ্য জানুন। হলের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে। ভাড়ার ক্ষেত্রে বছরের কিছু কিছু সময় ছাড় পাওয়া যায়। এ ছাড়া অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী চেয়ার-টেবিলের পরিমাণ ও বিন্যাস, কাটলারি সেট, গেস্ট রিসেপশনের সুযোগ-সুবিধা, কার পার্কিং, হলের অভ্যন্তরীণ সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং ইত্যাদি বিষয়ে হলের অন্তর্ভুক্ত ডেকোরেটরের সঙ্গে আপনার কথা বলে নিতে হবে আগে থেকেই। আপনি চাইলে একটু ভিন্ন পরিবেশে বা ছোট পরিসরে আপনার নিজের বাসার ছাদে কিংবা বাগানে অনুষ্ঠান করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ডেকোরেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শামিয়ানা, চেয়ার, টেবিল, কাটলারি সেট, হটডিশ, লাইটিং, কার্পেট, ওয়েটার এমনকি কিনার সবই পেয়ে যাবেন ডেকোরেটর হাউসগুলোতে। া