শৈলী

শৈলী


বিশ্বজুড়ে ড্যান কেক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯      

শৈলী ডেস্ক

সেই ১৯৩১ সালের কথা। 'সিমেকজার' নামক ছোট্ট একটি ড্যানিশ শহরে বাস করতেন 'এস্কিলডসন' নামের এক তরুণ বেকার (ইধশবৎ)। তিনি বেকিংয়ের ব্যাপারে খুব উৎসাহী ছিলেন। বেকিং শিল্পকে তিনি 'ফাইন আর্ট'-এর আরেকটি মাধ্যম হিসেবেই ভালোবাসতেন। তিনি চাইতেন মানুষের মাঝেও 'ফাইন আর্ট অব বেকিং'-এর স্বাদ ছড়িয়ে যাক। এই ভালোবাসা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় ড্যান কেকের যাত্রা। পথচলার প্রথম থেকেই উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ও চমৎকার স্বাদের কারণে ড্যান কেক জনপ্রিয়তা লাভ করে দ্রুত। ফলে ব্যবসাও বড় হতে থাকে। এ কারণে এস্কিলডসন সিমেকজার থেকে 'গিভ' শহরে এসে ফ্যাক্টরি চালু করেন। তখন শুধু 'হাফ মুন' আর 'সুইস রোল'ই উৎপাদন করত ড্যান কেক। গিভ শহরেও খুব দ্রুত ড্যান কেকের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ স্ন্যাক্স আইটেম থেকে ধীরে ধীরে ড্যান কেক সবার পারিবারিক সময় উপভোগের মূল উপাদানে পরিণত হয়। মানুষ পায় 'ফাইন আর্ট অব বেকিং'-এর স্বাদ!

শুরু থেকেই মন মাতানো স্বাদে মানুষে-মানুষে মেলবন্ধন ঘটিয়ে চলেছে ড্যান কেক। অল্প সময়ের মাঝেই সুস্বাদু ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের কারণে এই ব্র্যান্ডটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মার্কেট লিডারের অবস্থান নেয় এবং এক সময় স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ড্যান কেকের অসংখ্য পণ্য ৩০টিরও বেশি দেশে সমাদৃত।

বাংলাদেশে ড্যান কেকের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। ড্যান কেক এ/এস ডেনমার্ক ও পান্ডুঘর লিমিটেড, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ড্যান ফুডস লিমিটেড। ঢাকা জেলার সাভারে ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডে নির্মিত হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফ্যাক্টরি। ২০১৫ সালে ড্যান কেকের উৎপাদন ও বিপণন সারাদেশে প্রসার লাভ করে। এই ফ্যাক্টরির কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ। উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে অত্যাধুনিক মেশিনারিজ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে পুরো ফ্যাক্টরিটি। পণ্য উৎপাদনের জন্য সংগ্রহ করা হয় সেরা কাঁচামাল, যার একটি অংশ আসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। আর এই যত্নসহকারে বেছে নেওয়া কাঁচামাল দিয়ে সম্পূর্ণ ডেনমার্কের রেসিপিতে হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই তৈরি হয় ড্যান কেক। উৎপাদিত পণ্যের চূড়ান্ত স্বাস্থ্যগুণ, স্বাদ ও মান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পুরো ফ্যাক্টরিকে করা হয়েছে অটোমেটেড। পণ্যের স্বাস্থ্যমান ও স্বাদের প্রতি ড্যান কেক এতটাই যত্নশীল যে, উৎপাদন চলাকালীন প্রতিটি ব্যাচকে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা হয়। স্বাদ, ঘ্রাণ, টেক্সচার ও স্বাস্থ্যমান 'পারফেক্ট' প্রমাণ হলে তবেই মোড়কজাত হয়। এভাবেই পূর্ণ সতর্কতা ও যত্নের সঙ্গে নিশ্চিত করা হয় পণ্যের সর্বোচ্চ মান। বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত ড্যান কেক পণ্য ভারত, নেপাল ও দুবাইয়ে রপ্তানি হচ্ছে।

এ দেশের মানুষের হাতের নাগালে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত নানা ধরনের বেকারি আইটেম পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেসিপি উদ্ভাবনে নিয়োজিত রয়েছে ড্যান কেক। নিত্য গবেষণা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারে ড্যান কেক যে পণ্যগুলো এনেছে, তাদের মাঝে আছে মাফিন, লেয়ার কেক, সুইস রোল, ম্যাকারুনস, পাফ পেস্ট্রি, পাউন্ড কেক, প্লেইন কেক, ফ্রুট কেক এবং ড্রাই কেক। ড্যান কেকের প্রতিটি পণ্যই যেন জীবনের কোনো না কোনো অংশের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। হোক তা যখন-তখন কিছু খাবার ইচ্ছা, কলেজ বা অফিসের ব্রেকে স্ন্যাকস অথবা প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো প্রিয় মুহূর্ত। এক কথায় বলা যায়, এ দেশের ভোক্তাদের কাছে পারিবারিক আবহে আনন্দময় সময় উপভোগ করার এক নতুন 'কালচার' বা 'ট্রেন্ড' নিয়ে এসেছে ড্যান কেক।

নিত্যনতুন পণ্য উদ্ভাবন ও সেরা গুণগতমান সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তাদের মন জয় করাই ড্যান কেকের লক্ষ্য। তাই এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তি আন্তরিকভাবে নিয়োজিত দেশের ঘরে ঘরে নিরাপদ, পুষ্টিকর, মানসম্মত ও সুস্বাদু বেকারি আইটেম পৌঁছে দিতে। বিশ্বজুড়ে ড্যান কেক একটি নির্ভরযোগ্য নাম। ড্যান কেকের রয়েছে এক গৌরবান্বিত ইতিহাস। এই গৌরবের ধারাকে অব্যাহত রাখতে নিয়মিত পণ্যের স্বাস্থ্যমান, স্বাদ ও মানোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছে ড্যান কেক।