শৈলী

শৈলী


শীতের আমেজে

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯      

গোলাম কিবরিয়া

দরজায় কড়া নাড়ছে শীত, বাড়ছে ডেনিমের তৈরি পোশাকের কদর। টেকসই ও শরীরের অনুকূলে থাকায় সারাবিশ্বে ডেনিমের ব্যবহার বছরজুড়ে থাকলেও আমাদের দেশে ডেনিম শীতেই বেশি ব্যবহূত হয়। যদিও ডেনিম শুধু শীতের পোশাক নয়, তবে শীতের ছোঁয়া লাগতে না লাগতেই ফ্যাশন হাউসগুলো ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলে ডেনিমের পসরা। তাই শীতে এর কদরও থাকে তুঙ্গে। উনিশ শতকের জনপ্রিয় এই ডেনিম জিন্স এখন সব বয়সের মানুষের পছন্দের পোশাক হওয়ায় শীত ফ্যাশনের ট্রেন্ডটাও চলে ডেনিমকে ঘিরেই।

এখন অনুভূত হয় হালকা শীতের। সময়টা যাচ্ছে না গরম, না ঠান্ডার মিশেলে। শীতের পোশাক পরে রাস্তায় বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই কড়া রোদে গরম লাগতে শুরু করে। কখনও রোদ দেখে হাতাকাটা পোশাক পরে বের হলেন। ওই দিনই দেখা গেল ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করেছে। পাতলা জ্যাকেটগুলো এসব পরিস্থিতিতে আরাম দেয়।

এ সময় কেমন জ্যাকেটের চল, জানতে চাইলে সারা লাইফস্টাইলের ফ্যাশন ডিজাইনার স্বর্ণা বলেন, 'বাজারে আসা চলতি ধারা বলছে, যতই শীতের রকমফের আসুক না কেন, জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ডেনিমের জ্যাকেট ও টপস। এখনকার তরুণীরা রঙিন জ্যাকেট খুব পছন্দ করছে। রঙের ক্ষেত্রে সাধারণত আমরা উজ্জ্বল রংটাই প্রাধান্য দিচ্ছি। ডেনিমের জ্যাকেট, টপসের বাইরেও সারা লাইফস্টাইল এবার ডেনিমের শাল এনেছে।' সারার শীতের আয়োজনে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি রয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ ডিজাইনের পোশাক। শীতের এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে ছেলে ও মেয়েদের বোম্বার জ্যাকেট, কুইল্টেট ভেস্ট, পাফার জ্যাকেট, বিভিন্ন রকম হুডি, ছেলেদের ক্যাজুয়াল ব্লেজার, ফ্ল্যানেল শার্ট ও স্কার্ফ, কিডস পাফার জ্যাকেট এবং কিডস হুডি। এসব পোশাকের দাম থাকছে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। আয়োজনে আরও থাকছে শার্ট, এথনিক টপস, বিশেষ পার্টি টপস, নিট টি-শার্ট, লেগিংস, ডেনিম, লন, শ্রাগস, পালাজো ফর লেডিস অ্যান্ড গার্লস, ছেলেমেয়েদের জিন্সের পোশাক, পোলো টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি।

ফ্যাশনকে সবাই বিশ্বব্যাপী অনুসরণ করতে চায়। আর বিশ্ব ট্রেন্ডে এখন ডেনিমের ডিজাইনে আসছে নতুনত্ব। সেই খাতিরে জিন্স এখন ফ্যাশনে ইন। ট্রেন্ডি ফ্যাশনেবল জিন্সে বেশ চলছে এখন রকমারি প্রিন্টের ডিজাইন। তা হতে পারে ডেনিমের বুননে অথবা স্ট্ক্রিন প্রিন্টে। বুনন, প্রিন্টের উদ্ভাবনের মধ্যে টুইল ভেরিয়েশন অন্যতম। এ প্রযুক্তিতে ডেনিম বুননের সময় তাতে বিভিন্নমুখী নানা রংয়ের সুতা ব্যবহূত হয় নির্দিষ্ট ডিজাইনে। ফলে প্রিন্টটি কাপড়ের বুননেই ফুটে ওঠে। তাই এবারের শীতে আপনার পোশাকের পছন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হতে পারে ডেনিমের বাহারি পোশাক।

ডেনিমের মূল রং ইন্ডিগো বা নীল। তবে তা শুধু নীল রংয়েই আটকে নেই। সবুজ, লাল, কালো, ধূসর, মাস্টার্ড, গোলাপি, আকাশি এমনকি সাদা জিন্সও পাওয়া যায়। এর ফেব্রিক দু'ধরনের। একটি ইন্ডিগো ডায়িং, অন্যটি সালফার ডায়িং। ট্র্যাডিশনাল ব্লু ও এর বিভিন্ন শেডের কাপড়গুলোতে হয় ইন্ডিগো ডায়িংয়ে। আর কালো, সবুজ, লাল ইত্যাদি রং করা হয় সালফার ডায়িংয়ের মাধ্যমে। ডেনিম ফেব্রিকে এসেছে পরিবর্তন। তাই এখন পাতলা ডেনিম বাজারে পাওয়া যায় এবং কদরও বেশি। এই শীতে ডেনিমের তৈরি পোশাকের মধ্যে রয়েছে শার্ট, ফতুয়া, স্কাট ও কুর্তি। হাফ হাতা ও ফুল হাতা- দুই ধরনের শার্টই চলছে। তবে ডিজাইনে বৈচিত্র্য ডেনিমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্ন রূপে। শীতের আমেজে ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই পার্টি থেকে শুরু করে কলেজ বা বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ভ্রমণে সব জায়গায় ডেনিম সহজে মানিয়ে যায়। জ্যাকেট আর ব্লেজারের সংমিশ্রণে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের ব্লেজার জ্যাকেট। এ ধরনের ব্লেজার জ্যাকেট বন্ধুদের আড্ডা থেকে শুরু করে সান্ধ্য পার্টিতেও পরা যাবে অনায়াসে। লেদার পিওর সিনথেটিক কিংবা মিশ্র উপাদানে তৈরি জ্যাকেট যা অফিসে, সান্ধ্য পার্টি বা নৈশ আড্ডায় খুব জনপ্রিয়। জম্পেশ একটা লেদার জ্যাকেট আর জিন্স ফুটিয়ে তুলবে আপনাকে। কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের পুরো হাতার জ্যাকেট না পরে পাতলা লেদারের ওয়েস্টকোট পুরো হাতার শার্ট বা পুলওভারের সঙ্গে পরলে ভালো লাগবে। যারা পুরো চামড়ার জ্যাকেট বহন করতে পারবেন কিনা ভেবে চিন্তিত, লেদারের প্যাঁচ দেওয়া জ্যাকেট পরে দেখতে পারেন। জিন্সের সঙ্গে মানিয়ে যাবে বাইকার জ্যাকেটও। বাদামি বা বেজ রঙের লেদার জ্যাকেট সংগ্রহে রাখুন। মিলিয়ে পরতে পারবেন অনেক কিছুর সঙ্গেও।

স্থায়িত্ব, আরাম, রং ও টেক্সচারের জন্য এই জ্যাকেটের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। নকশায় চামড়ার জ্যাকেটের জনপ্রিয় কিছু স্টাইল হচ্ছে বেসিক ওয়েস্ট লেস জিপ ফ্রন্ট জ্যাকেট, ভেলেন্ট লেদার রাইডিং জ্যাকেট, ইলাস্টিকসহ বোম্বার স্টাইল জ্যাকেট, মোটরবাইক, মিলিটারি, অ্যাভিয়েটর, রকস্টার, পাঙ্ক, পুলিশ জ্যাকেট, ক্ল্যাসিক লেংথ জিপ ফ্রন্ট কিংবা টু বাটন, ফোর বাটন জ্যাকেট ইত্যাদি। চামড়ার জ্যাকেটে আছে নানা রংয়ের খেলা। ইস্পাতের বোতামের ব্যবহার জ্যাকেটগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। চামড়ার এক রংয়ের জ্যাকেট ছাড়াও আছে চেক নকশার জ্যাকেট। কোনোটিতে আবার কাপড়ের সঙ্গে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু জ্যাকেট আছে, যেগুলোয় জিপার ব্যবহার করলেও বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। কারণ তা ভিন্ন রংয়ের কাপড়ে ঢাকা। জিপার দেখা না গেলেও সেলাইয়ের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। অন্য সবকিছুর মধ্যে ক্রপ জ্যাকেট থাকতেই হবে। অনেকেরই থাকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তাই এই শীতে বাহারি ক্রুপ জ্যাকেট নিতে ভুলবেন না।

এলিফ্যান্ট রোড, বঙ্গবাজার, মিরপুরে পাবেন ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের ডেনিম কালেকশন। ফর্মাল ও ক্যাজুয়াল সব ধরনের পোশাক হিসেবেই ব্যবহার করা যায় এ পোশাক। ফ্যাশনেবল হওয়ার পাশাপাশি আরামদায়ক, টেকসই। সব ধরনের ক্রেতার ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে বলে ডেনিম পোশাক এখন সব বয়সীদের ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। তাই তো ডেনিম সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্যাশন জগতে জায়গা করে রেখেছে এখনও। ডেনিমের টপস, কটি, ফ্রক ও জ্যাকেটে সেজেছে সারা লাইফস্টাইল। সারা লাইফস্টাইলের ফ্যাশন ডিজাইনার স্বর্ণা জানালেন, তরুণরা বেশ পছন্দ করেছে ডেনিমের এসব পোশাক। একটু ভারি ডেনিমের জ্যাকেট কিংবা ফ্রক যেমন অনায়াসে পরতে পারবেন শীতে, তেমনি জিনসের কটি অথবা টপ পরা যাবে যে কোনো আবহাওয়াতেই। সবসময় পরার জন্য হাতাসহ পোশাকগুলো পাওয়া যাচ্ছে হাতাকাটাও।

রাজধানীর বিভিন্ন শোরুমে মিলবে ডেনিমের বাহারি কালেকশন। সেইলর, এক্সট্যাসি, স্মার্টেক্স, ক্যাটস আই, ওটু, আমবার লাইফ স্টাইল, আর্টেস্টি, ওকোড, ইস্টওয়ে, ডিমান্ড, প্লাস পয়েন্ট, অ্যালফোসি, ফ্যাশন প্যারাডাইস, বিগ বস, লা রিভ, জিন্স গ্যালারি, ফ্রিল্যান্ডসহ ব্র্যান্ডের শোরুমে পাবেন পছন্দের ডেনিম পোশাক। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশান পিংক সিটি, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বঙ্গবাজার, মিরপুরে পাবেন ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ডের ডেনিম কালেকশন।