শৈলী

শৈলী


শৈল্পিক ফুলহাতা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০      

নুসিয়্যাত নাজনীন

আবহাওয়াও বদলে দেয় ফ্যাশনের সিলেবাস। যোগ হয় বিচিত্রতা আর রঙিন শিল্প। সেই শিল্পের চাদরে মুখরিত হয় ট্রেন্ডি মানুষেরা। আমাদের দেশে শীত খুব কম সময়ের জন্য আসে। কিন্তু আবেদন তৈরি করে দীর্ঘ সময়ের। ভাবনাগুলো পরিপূর্ণ হয় শীত অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে। এবার শীতে ফুলহাতা ব্লাউজের বেশ রকমফের দেখা যাচ্ছে...

সময়ের সঙ্গে ফ্যাশন ধারার পরিবর্তন হয়। আবহাওয়াও বদলে দেয় ফ্যাশনের সিলেবাস। যোগ হয় বিচিত্রতা আর রঙিন শিল্প। সেই শিল্পের চাদরে মুখরিত হয় ট্রেন্ডি মানুষেরা। আমাদের দেশে শীত খুব কম সময়ের জন্য আসে। কিন্তু আবেদন তৈরি করে দীর্ঘ সময়ের। ভাবনাগুলো পরিপূর্ণ হয় শীত অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে। এবার শীতে ফুলহাতা ব্লাউজের বেশ রকমফের দেখা যাচ্ছে। ডিজাইনাররাও বছরভর খেটেখুটে করেছেন চমকপ্রদ সব আয়োজন-

বাঙালি নারীর শাড়িপ্রীতি ঘরে ঘরেই। সুযোগ পেলে শাড়ি পরতে কেউ ভুল করেন না। এখন শাড়ি পরারই মৌসুম। নিমন্ত্রণ থাকছে প্রায় দিন। শাড়ির সঙ্গে নিজেকে অপ্সরা করে তুলতে ব্লাউজের ভিন্ন ডিজাইন যেন অনবদ্য করে তোলে। ফুলহাতা ব্লাউজে ফ্যাশনের সঙ্গে শীতও আটকানো যায়।

টপস কাটিং হাইনেক গলার ব্লাউজ নিজেকে এলিগেন্ট করে তোলে। সঙ্গে থাকতে পারে ম্যাচিং কটি। বললেন রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস। তিনি আরও বলেন, এখন চলছে ম্যাচিং ট্রেন্ড। একই পরিবারের সদস্যরা নিমন্ত্রণের জন্য কিংবা নিজেদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ম্যাচিং পোশাক পরছেন। স্বামী-স্ত্রী, সন্তান পোশাকের যে কোনো একটি অনুষঙ্গ ম্যাচিং করে নিচ্ছেন, দেখতেও ভীষণ ভালো লাগছে আবার বন্ধনের মাত্রাটা আরও এক ধাপ বেড়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এবারের শীতে কটি বেশ চলছে। ফুলস্লিভ ব্লাউজের সঙ্গেও দারুণ মানিয়ে যায় কটি। এ বছর বেশ শীত পড়েছে সে জন্য ফুলস্লিভ ব্লাউজের আবেদন অনেক বেশি।

ব্লাউজের রং মেলানো রুচিশীল মানসিকতার পরিচয় দেয়। শাড়ির রং যদি খুব গাঢ় হয় তাহলে ব্লাউজের রং হতে হবে ঠিক উল্টো। অর্থাৎ হালকা। আবার শাড়ি হালকা হলে ব্লাউজ গাঢ় হবে, দেখতে ভালো লাগবে। গর্জিয়াস শাড়ি হলে ব্লাউজে একটু কম কাজ থাকলেও সমস্যা হয় না। কিন্তু দুটোই হালকা কাজ হলে অনুষ্ঠানের জন্য তা উপযোগী হবে না।

ফুলস্লিভ ব্লাউজের রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে- লাল, মেরুন, বিস্কুট, ম্যাজেন্টা, ডিপ পেস্ট। এই রংগুলোকে প্রধান ধরে একটু হালকা শেডের দিকেও রং বিবেচনা করা হয়েছে। যার যেমন পছন্দ সে তেমন রং বেছে নিতে পারবেন শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে। এ বছর লেয়ার কিংবা কুচি দেওয়া ডিজাইন এগিয়ে। ফুলস্লিভ ব্লাউজেও আমরা লেয়ার ব্যবহার করেছি, বললেন সৌমিক দাস। তা ছাড়া ডিজাইনে এসেছে ঝালর হাতা, ফুল বটম ঘটি হাতা, ফ্রিল হাতা, মাইক হাতা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সুতি কাপড়ই বেশি ব্যবহার করা হয় দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে। আমরাও ভাবি স্টাইল এবং আরাম কীভাবে বজায় থাকে। একটা অনুষ্ঠানে আমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে কিন্তু কাপড়ের ম্যাটেরিয়ালের জন্য পুরো সময়টা খুব অস্বস্তিবোধ হচ্ছে, তাহলে সেই অনুষ্ঠান বিরক্তি ছাড়া ভালো লাগবে না। যেহেতু শীত, তাই সুতির পাশাপাশি আমরা এনেছি খাদির ভিন্ন ভিন্ন রূপ। খাদির তৈরি ব্লাউজ প্রায় সব শাড়ির সঙ্গে খুব শৈল্পিক হয়ে ওঠে। আরও গর্জিয়াস চাইলে এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক্ক, হাফ সিল্ক্ক, কন্ট্রাস্ট মসলিন বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ঝরাপাতার থিম ধরে এবার কাজ করেছে রঙ বাংলাদেশ। শীতে পাতাগুলো নিস্তেজ হয়ে ঝরে যায়। প্রকৃতির সেই রূপ উঠে এসেছে এই ফ্যাশন হাউসের নান্দনিকতায়। পাতার নানারকম বিশ্নেষণ করা হয়েছে এই শীতে। ব্লাউজেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। নকশায় ধরা দিয়েছে মোম বাটিক, স্কিন প্রিন্ট, নানা রকম হ্যান্ড পেইন্টিংস আর হ্যান্ডওয়ার্ক।

টিনএজাররাও মজা করে শাড়ি পরেন বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে। তাদের জন্য জিন্সের কাপড়ের ব্লাউজ খুব ভালো লাগবে। এতে তাদের শীতও মানাবে আবার ট্রেন্ডিও লাগবে। এ ছাড়া এসেছে কোট ব্লাউজ, কার্ডিগান ব্লাউজ, শর্ট কটি, লং কটি, টপস কাটিং ব্লাউজ।

নারী উদ্যোক্তা ও পিজিয়নের কর্ণধার নাহিন বলেন, ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন খুব জরুরি। কোথায় যাবেন, অনুষ্ঠানের ধরন কেমন হবে সে অনুযায়ী পোশাক পরিকল্পনা করা উচিত। ফুলস্লিভ ব্লাউজ আসলে শীত নয়, সব মৌসুমেই পরা যেতে পারে, তবে শীতে এর ডিজাইন নিয়ে নিরীক্ষা চলে। যেমন টপস ডিজাইনের ব্লাউজই রকমারি করে তৈরি করা যেতে পারে। কিংবা আপনার ঘরে আছে সেটাকেই আপনি নতুন মাত্রা দিতে পারেন অনায়াসে। একরঙা ফুলস্লিভ ব্লাউজে লেইস বসিয়ে নিয়ে কোমরের কাপড়ের কাছ থেকে ঝুনঝুনি, নিজের হাতে সেলাই করে নিলেও অসাধারণ হয়ে উঠবে খুব কম সময়ে। আবার গয়নার বাক্স খুলে দেখবেন অনেক গয়নাই দিনের পর দিন পড়ে আছে, সেই গয়নাটি হতে পারে কানের দুল। সেখান থেকে দুলের পিনটি খুলে আপনি আপনার ব্লাউজে লাগিয়ে নিতে পারেন। দুলের ডিজাইনের ক্ষেত্রে পাশা কানের দুল তালিকার ওপরে। এতে দেখুন দারুণ এক মাত্রা যোগ হয়েছে। ব্লাউজের কাজের নকশায় সবসময় জনপ্রিয়, জামদানি নকশা, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক, টাইডাই, কলংকারি, ফুলকারি, হ্যান্ড পেইন্টিং, সময়োপযোগী মোটিফ ব্যবহার।

শীতে ফুলস্লিভ ব্লাউজে ভেলভেট কাপড় বসিয়ে নেওয়া যেতে পারে। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে কাপড়টি সংগ্রহ করতে হবে। হাতায় কিংবা গলার নকশায় বসালে গর্জিয়াস এবং আরামদায়ক হবে। কালারফুল বাটন লাগিয়ে নিতে পারেন। অনেকে পাটের কাপড় ব্যবহার করেন ব্লাউজ তৈরিতে, এটা খুব সৃজনশীল লাগে। আবার উপজাতিয়দের ঐতিহ্যবাহী পোশাক থামি, এটা দিয়েও আপনি ব্লাউজ তৈরি করতে পারেন। এতে চিকন পাড় বসিয়ে পেছনে রঙিন টারসেল ব্যবহার করে ফুলস্লিভ ব্লাউজ নকশা করলে দারুণ হয়ে উঠবে। একটি ব্লাউজই যেন সব সাজ-পোশাকের সংজ্ঞা তৈরি করবে।