শৈলী

শৈলী


কক্সবাজার থেকে সরাসরি প্রবালদ্বীপ

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

নাসরীন হীরা

পাহাড়-সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সবাইকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজারের এত গুরুত্ব। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের গুরুত্ব বরাবরই অসীম। কিন্তু কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হতো টেকনাফের এবড়োখেবড়ো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থলপথ। সম্প্রতি এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে রূপ দিয়েছে। নিঃসন্দেহে তা এক বিরল সুযোগ ও সম্ভাবনার পদধ্বনি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারণে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ক্রমেই এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এমএ রশিদ। তিনি এক হাতে যেমন প্রতিষ্ঠা করেছেন দেশসেরা বহুবিধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তেমনি আরেক হাতে গড়ে তুলেছেন বিশাল কর্মক্ষেত্র- কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। যেখানে তিনি নিত্যনতুন ভাবনায় জাহাজ শিল্পের নকশা ও নির্মাণ খাতের উন্নয়নে বহুবিধ প্রতিভাবানদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই গুণী প্রকৌশলী তথা উদ্যোক্তা।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াতে এখন আর টেকনাফের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে না। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের উদ্যোগ ও পরিচালনায় পর্যটকরা এখন থেকে সমুদ্রপথে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামের বিলাসবহুল জাহাজে কক্সবাজার শহর থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। বিলাসবহুল এই জাহাজটির গত ৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএ সামাদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমুদ্রপথে কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। অবশেষে এ দাবি পূরণের মাধ্যমে পর্যটকরা কক্সবাজার শহর থেকে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। জাহাজটি প্রতিদিন কক্সবাজার থেকে ছাড়ে সকাল ৭টায় এবং ফিরতি পথে সেন্টমার্টিন থেকে ছাড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায়। ভ্রমণপিপাসু মানুষের আরামদায়ক ভ্রমণে এবার নতুন সংযোজন এই লিজেন্ডারি নৌযান এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এমএ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরোপুরি প্রস্তুত নৌযানটি সার্ভিসে যাওয়ার আগে সি ট্রায়ালের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদী থেকে পতেঙ্গার সমুদ্র মোহনা পর্যন্ত ট্রায়াল সম্পন্ন করে। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫৫ মিটার এবং ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপলেশন ইঞ্জিন দুটি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এই জাহাজ ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

বিস্তারিত জানতে :ঢাকা :০২-৫৮৩১৭০৬১। চট্টগ্রাম :০৩১-৬২৭৮৬৬। কক্সবাজার :০১৮৭০-৭৩২৫৯০-৯৭ এবং সেন্টমার্টিন :০১৮৭০-৭৩২৫৯৮-৯৯।