শৈলী

শৈলী


স্বস্তির টপস

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০      

মীনাক্ষী বিশ্বাস

শহরজুড়ে শীতের আমেজ শেষ। শীতের পোশাক আলমারিতে গুছিয়ে ফেলা হয়ে গেছে। ঠিক এ সময় আপনি নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবছেন, গরম তো এসেই গেল এ সময়ের জন্য উপযুক্ত পোশাকটি কী হতে পারে? হাল ফ্যাশনের পোশাকের মধ্যে গরমকালে অন্যতম জনপ্রিয় হলো টপস। এই টপ জাতীয় পোশাক সাধারণত বিশেষ লম্বা হয় না। বেশিরভাগই কোমর পর্যন্ত। তবে ধরনভেদে এটি বিভিন্ন রকম হতে পারে। অনেক টপ অবশ্য হাঁটু পর্যন্তও হয়, এদের টিউনিক টপ বলে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের টপের দেখা মেলে বাজারে। এর মধ্যে শার্ট কাটিং টপস বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট বা লেগিংসের সঙ্গে এ ধরনের শার্ট বেশ মানানসই। যেসব টপ সাধারণত কোমর পর্যন্ত হয়, সেগুলো স্কার্টের সঙ্গেও মানিয়ে যায়। গরমে যেহেতু টপ বেশ আরামদায়ক একটি পোশাক এবং তার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে তাই বেশ কয়েক বছর ধরে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্যাশন হাউস টপ নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন কাটিংয়ের টপ আজকাল বাজারে দেখতে পাওয়া যায়, এর মধ্যে ফতুয়া বা কুর্তি স্টাইলটি বেশ পুরোনো হলেও এখনও সমানভাবে জনপ্রিয়। তবে আজকাল টপের বেশ কিছু নতুন সংযোজন দেখা যায়, যার মধ্যে রয়েছে ক্রপ টপ, কাফতান কাটের টপ। এ ধরনের টপ সাধারণত লম্বায় বেশি নয়, হাফশার্ট বা ব্লাউজ ধরনের হয়ে থাকে। পুরোনোর সঙ্গে নতুন কাটিংয়ের সংযোজন করে ও নকশায় এসেছে বৈচিত্র্য। গরমের কথা মাথায় রেখেই বাজারে গরম উপযোগী কাপড়ে করেই করা হচ্ছে টপস।

এই টপসের ধারণাটি যদিও আমাদের দেশে এসেছে পশ্চিমা পোশাকের প্রভাব থেকে, তবে বাঙালি নারী এটিকে নিজের মতো বানিয়ে নিয়েছেন। অনেক সময় শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের পরিবর্তেও পরা হচ্ছে টপ। অনেকে আবার একটি নতুন লুক আনতে টপের ওপরে পরছেন কটি, স্কার্ফ বা ওড়না। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলের বিশেষ করে এই বাংলায় ব্লাউজ পরার প্রচলন ছিল না। ইংরেজ আমলে ভারতবর্ষে ব্যাপকভাবে ব্লাউজের ব্যবহার শুরু হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন উপমহাদেশে ব্যবসা করতে এলো তখন তাদের সঙ্গে যে ইংরেজ মেয়েরাও এ দেশে এসেছিল তাদের কাছ থেকেই বাঙালি নারী প্রথম শেখে ব্লাউজ বা এই টপের ব্যবহার। ইংরেজ মেয়েরা তখন পরত ছেলেদের শার্টের মতো টপ আর নিচে পরত লং স্কার্ট। সেই থেকেই ভারতবর্ষের নারীদের মধ্যে তাদের প্রতি আগ্রহ দেখা যায়। আর আজকাল যেহেতু ফ্যাশন জগতে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাপক সেখানে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন ধরনের টপের ধরন ও ব্যবহার। অফ শোল্ডার টপ, বুক বা কোমরের কাছে একটু আঁটসাঁট টপও বেশ দেখতে পাওয়া যায়। হাতা থাকা বা না থাকার ব্যাপারটি অবশ্য আজকাল ঐচ্ছিক। অনেকেই আজকাল হাতা ছাড়া টপ পরতে পছন্দ করছেন। টপে হাতার বদলে ফিতার ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। গলায় ও হাতার ডিজাইনে নতুনত্ব আনা হয়েছে অনেক দোকানে। আবার একটু ভিন্ন রকম লুক আনতে টপের ওপর স্ট্ক্রিন প্রিন্ট, ছাপা নকশা হাতের কাজ এমব্রয়ডারি থাকছে। আনারকলি কাটিংয়ের লম্বা কুর্তি ধরনের টপস নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন ব্র্যান্ড মিথ বাজারে এনেছে বেশ কিছু টপস। ক্যাজুয়াল ধাঁচের এসব পোশাক গরমে হয়ে উঠতে পারে নিত্যদিনের প্রয়োজন। মূলত সব বয়সের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে এসব টপস। টপস বা কুর্তিগুলোতে লিনেন, সুতি, এন্ডি কটনসহ গরমকাল উপযোগী কাপড়ের ব্যবহার করা হয়েছে। সাদা বা হালকা রঙের প্রাধান্য বেশি দেওয়া হয়েছে এবং টপসের ওপরেও করা হয়েছে হালকা ছিমছাম কাজ।

মিথ ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মো. সাব্বির নেওয়াজ জানান, এ বছর তারা টপসের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে করেছেন। যে কোনো বয়সী ক্রেতা যে কোনো প্রয়োজনেই টপস বেছে নিতে পারবেন। যেহেতু এখনও বসন্তের আমেজটা শেষ হয়ে যায়নি তাই তারা সেই কথা মাথায় রেখে প্রিন্টে রেখেছেন ফুলেল ছাপ। সব ধরনের টপসেই ভিসকস সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কাপড়ের শোষণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় একাধারে যেমন নরম তেমনি গরমে ঘামের কারণে শরীরে অস্বস্তি হবে না।

তিনি আরও জানান, পশ্চিমা ও আমাদের দেশীয় কাটিংয়ের সংমিশ্রণও পাওয়া যাবে টপসে, তা সব ধরনের দেহ গড়নের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। তাই যারা টপস পরা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন তারাও নির্দি্বধায় বেছে নিতে পারেন এই টপস। সব রঙেরই পাওয়া যাবে টপস, তবে তার হালকা ধরনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের টপস তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৭৫০ থেকে ১১৫০ টাকার মধ্যে।

এসব নিত্যব্যবহার্য টপস সাধারণত হয়ে থাকে বাজেট ফ্রেন্ডলি। তবে স্থান বা ব্র্যান্ডভেদে দামের তারতম্য হয়ে থাকে। সাধারণত দেশের যে কোনো জায়গায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন নিত্যদিনের ব্যবহার উপযোগী এসব টপস। একটু ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন গাউছিয়া, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট। নিত্য ব্যবহারের জন্য কমদামে ফতুয়া বা টপ একটু খুঁজলেই চোখে পড়বে আপনার।