শৈলী

শৈলী


ফুরফুরে পালাজ্জো

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০      

ফ্লোরিডা এস রোজারিও

পালাজ্জো এতই স্বস্তির পোশাক যে, এর ওপরে যে কোনো কিছুই পরা যেতে পারে। টি-শার্টের সঙ্গে আপনি চাইলে পরে নিতে পারেন পালাজ্জো। ছোট ফতুয়া থেকে শুরু করে কামিজের সঙ্গেও মানিয়ে যায় এই পোশাক অনুষঙ্গটি। অনেক টিনএজারকে ইদানীং পালাজ্জোর সঙ্গে শর্ট টপ পরতেও দেখা যায়...


বসন্ত প্রকাশিত। শীত শেষে এর আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে বেশ অনেক দিনই হয়। কোকিলের কুহুকুহু ডাক আর চারদিকে গাছে গাছে সবুজ কচি পাতার দুলুনি।

গরমও পড়েছে বেশ কিছুদিন যাবত। সকালের পর থেকেই রোদের তাপ যেন জেঁকে বসে শহরজুড়ে। কর্মব্যস্ততাও শুরু হয় তখন। কারও থাকে অফিস, তো কারোর ইউনিভার্সিটি। আর বাসা থেকে বের হওয়ার আগে সবাই চায় একটা আলাদা প্রস্তুতি। কোন জামাটা আজ সারাদিনের জন্য মানানসই সেটিই মাথায় ঘুরতে থাকে। সবচেয়ে বড় যে ব্যাপার, সেটি হলো- স্বাচ্ছন্দ্যবোধ কিংবা জামাটা আরামদায়ক কিনা। পোশাক পরে যদি খুঁতখুঁতে ভাব আসে, তবে সেটি খুবই অস্বস্তিকর সবার কাছেই। তাই সাজপোশাক ঠিক থাকলে সারাদিন কাটে অনেক ফুরফুরে মেজাজে।

যেহেতু গরম পড়ে গেছে অনেকটাই, তাই শীতের কাপড় তুলে রাখার সময়ও এসে গেছে। এখন পরা চাই, আরামদায়ক পোশাক। কারণ গরমকালে প্রচুর ঘাম হয় এবং সুতি কাপড়ে আরাম মেলে। এ সময় আরামদায়ক পোশাকের মধ্যে যে পোশাকটি শীর্ষে বলা চলে, তা হলো পালাজ্জো। ঢিলেঢালা এই প্যান্টের রয়েছে বিভিন্ন কাটিং। পোশাকের ফ্যাশন ফিরে ফিরে আসে। তবে গত কয়েক বছরে এই পালাজ্জো গরমের আরামদায়ক অনুষঙ্গ হিসেবে জড়িয়ে আছে।

পালাজ্জো এতই স্বস্তির পোশাক যে, এর ওপরে যে কোনো কিছুই পরা যেতে পারে। টি-শার্টের সঙ্গে আপনি চাইলে পরে নিতে পারেন পালাজ্জো। ছোট ফতুয়া থেকে শুরু করে কামিজের সঙ্গেও মানিয়ে যায় এই পোশাকটি। অনেক টিনএজারকে ইদানীং পালাজ্জোর সঙ্গে শর্ট টপ পরতেও দেখা যায়।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'কইন্যা' এখন বেশ জনপ্রিয়। কইন্যার স্বত্বাধিকারী তাসনিমা নিশাত জানান, 'গরমকালে সবাই চায় আরামদায়ক কিছু পরতে। কারণ এ সময় রোদের জন্য অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ে। গরমের জন্য তাই চাই স্বস্তির পোশাক। যেটা পরে মানুষ অন্তত শান্তি পাবে সারাদিনে। সেই কথা মাথায় রেখে আমরা সুতির কিছু পালাজ্জো নিয়ে এসেছি। এরই মধ্যে ডেনিমের পালাজ্জোও রয়েছে। একদম হালকা কাপড়ের তৈরি এই ডেনিম পালাজ্জো।

সব বয়সের মেয়েই পালাজ্জো পরতে পারে। সেভাবেই এগুলোর ডিজাইন করা এবং বানানো হয়েছে। তবে আমাদের টার্গেট ক্রেতারা হলো, টিনএজার কিংবা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা। কারণ পালাজ্জো চটজলদি পরে ফেলার মতোই একটি পোশাক।

পালাজ্জোর বৈচিত্র্য মূলত প্যাটার্ন এবং কাটিংয়ে। তবে ছাঁটে থাকা চাই ভিন্নতা। সাধারণত ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঢোলা কাটে বানানো হয় এই প্যান্ট। আবার কখনও ওপরের দিকে কিছুটা চাপা রেখে নিচে ঢোলা দেওয়া হয়। মাপের ক্ষেত্রে ঘেরটা প্রাধান্য পায়- কমবেশি ২৫ থেকে ৩০ ইঞ্চি হয়ে থাকে পালাজ্জো।

হ্যাঁ, পালাজ্জো ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন নতুন কিছু নয়। কিন্তু ফ্যাশন তো বরাবরই নতুনত্ব পছন্দ করে। সে হিসেবেই ডিজাইনাররা কাটিংয়ে এনেছে পরিবর্তন। যেন একঘেয়েমি না চলে আসে।

নতুনত্ব আনতে নকশায়ও এসেছে ভিন্নমাত্রা। এমব্রয়ডারি, কারচুপি, লেইসের পালাজ্জো এখন ফ্যাশন ট্রেন্ড।

এখনকার তরুণীদের কাছে পালাজ্জো মানেই যেন আভিজাত্য। সাধারণ দিন ছাড়াও, উৎসব কিংবা পার্টিতে অনায়াসেই বেছে নেওয়া যায় এই প্যান্ট। পরতে বেশ আরামদায়ক বলে ঘরে রাফ ইউজের জন্যও এই প্যান্টের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। পালাজ্জোর প্রতিদ্বন্দ্বী যেন পালাজ্জো নিজেই। নকশা করা কিংবা প্রিন্টের পালাজ্জোর সঙ্গে একরঙা টপস কিংবা ফিটেড শার্টও বেশ মানিয়ে যায়।

প্রিন্টেড টপসের সঙ্গে একরঙা পালাজ্জো ইন করে পরলেও চমৎকার দেখায়।

পালাজ্জো সাধারণত সুতি কাপড়েরই বেশি হয়। কারণ সুতিতে গরমকালে আরাম মেলে। এ ছাড়াও লিনেন, সিল্ক্ক, জর্জেট ও ডেনিম কাপড়েরও হয়ে থাকে। উৎসব এবং ঋতু বিবেচনা করে বেছে নিতে হবে কাপড়।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি এসে রুমা রহমান জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, 'প্রায় প্রতিদিনই ক্লাসে যাওয়ার সময় বিপত্তিতে পড়তে হয় পোশাক নিয়ে। কী পরা যায় তা নিয়ে ভাবতে হয়। তার মধ্যে এখন গরমকাল চলে এসেছে। তাই আরামদায়ক পোশাক কিনতেই এখানে এসেছি। সে ক্ষেত্রে পালাজ্জোকে আমি বেছে নিয়েছি। ঢিলেঢালা এবং বেশ আরামদায়ক এই পোশাক। ওপরে কোনো টপস কিংবা শার্ট পরে আমি বেরিয়ে যেতে পারব অনায়াসেই।

সব বয়সী ক্রেতার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয় পালাজ্জো। যেমন- যাদের উচ্চতা পাঁচ ফুট এক বা দুইয়ের ওপরে, তাদের যে কোনো কাটই মানিয়ে যায়। কিন্তু যারা উচ্চতায় এর চেয়ে কম, তাদের একটু চাপা কাটিংয়ের পালাজ্জো মানিয়ে যাবে। সিঙ্গেল না ডাবল লেয়ার নাকি সিঙ্গেল, একরঙা না প্রিন্টেড? মোটিফ কেমন হবে, ফেব্রিকস কেমন দেওয়া যায় এসব নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মগ্ন ফ্যাশন কারিগররা। লম্বা কাটের কামিজ কিংবা সোজা কাটের কুর্তিও মানাবে পালাজ্জোর সঙ্গে। সবকিছুই নির্ভর করে উপযুক্ত কাটিং, নিজের উচ্চতা এবং পছন্দের ওপর। তাই পালাজ্জোতে সঠিক কাটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ষাট এবং সত্তরের দশকে বেশ জনপ্রিয় ছিল ঢিলেঢালা প্যান্ট। আমাদের দেশে একসময় ডিভাইডার প্যান্টেরও বেশ চল ছিল। কিন্তু এখন পাশ্চাত্য ফ্যাশনের অনুকরণে ঢিলেঢালা প্যান্ট এসেছে পালাজ্জো নামে। গরমকে রুখে দাঁড়াতে এই প্যান্টের বিকল্প নেই। আরামদায়ক পোশাক হিসেবে পালাজ্জো একটি আদর্শ পোশাক বলা যেতে পারে।

দরদাম : ঢাকা শহরের বিভিন্ন শপিংমলে ভালো মানের পালাজ্জো পাওয়া যাবে ৫০০-১৫০০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়াও সুন্দর কাটিং এবং ফেব্রিকের পালাজ্জো 'কইন্যা'তেও পাওয়া যাচ্ছে সাধ্যের মধ্যে। দাম পড়বে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে।