শৈলী

শৈলী


স্বপ্নের পঙ্কজ

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২০      

মিনাক্ষী বিশ্বাস

অনলাইন পেজটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে দাঁড়িয়েছে আট মাসে। তবে তিনি এর কর্মপরিকল্পনা করেছিলেন তারও এক বছর আগে থেকে। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে চান তাদের জন্য 'পঙ্কজ' পেজটি একটি উদাহরণ হতে পারে...



বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন একটি ধারণা রয়েছে 'যেখানেই মানুষ, সেখানেই জমে যায় হাটবাজার'। ধারণাটি আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সত্য হতে দেখেছি। সেই আমাদের গ্রামবাংলার উৎসবকেন্দ্রিক মেলা থেকে শুরু করে হালের ই-কমার্স।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিকিকিনির ধারাটা আমাদের দেশে দ্রুতই জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইনে বসে কয়েকটা মাত্র ক্লিকে চাহিদা জানানো যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য চলে আসছে নিজের ঠিকানায়। বই, পোশাক, চাল-ডাল-সবজি, ইলেকট্রনিকস পণ্য কিংবা কোনো সফটওয়্যার- সবই বেচাকেনা করা যায় অনলাইনে। আর এটাই ই-কমার্স। আর ই-কমার্সে তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহও বেশ। পণ্য বিক্রি করতে যেমন দোকান লাগে, ই-কমার্সেও তাই। তবে তা প্রথাগত দোকান বা বাজার ধারণাকে একটি নতুন রূপ দিয়েছে। সাধারণ অর্থে বাজার বলতে যে ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থান বোঝায় তা একেবাই বাতিল করে দিয়েছে ই-কমার্স। স্থানের ধারণাটি বদলে এখানে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর দোকান হিসেবে কাজ করছে ই-কমার্স সাইট বা ফেসবুক পেজ। সামাজিক যোগাযোগের উপলক্ষে ফেসবুকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষের সমাগম হয় আর তারাই হয়ে উঠছেন প্রতিদিনকার ক্রেতা।

ফেসবুকে যেসব ব্যবসা জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- পোশাক, তৈজসপত্র, উপহার সামগ্রী, কসমেটিকস ও জুয়েলারি। অনেকেই পণ্য এক জায়গা থেকে কিনে এনে তাদের অনলাইন পেজে বিক্রি করছেন আবার অনেকে বেছে নিচ্ছে সম্পূর্ণ হাতে তৈরি পণ্য। তবে সবচেয়ে আশাবাদী দিকটি হলো, বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা তৈরি করছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। এ ব্যবসায় কর্মজীবী নারীদের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই ঘরের নারীরাও। আবার অনেকে লেখাপড়ার পাশাপাশিও চালিয়ে যাচ্ছেন এমন ব্যবসা। অনলাইনে ব্যবসা করেই অনেক নারী ঘরে বসে উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তার থাকতে হবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও কোন ধরনের পণ্যটি বেছে নেওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কর্মপরিকল্পনা থাকলে স্বল্প বিনিয়োগেই শুরু করা সম্ভব এ ধরনের অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা।

অনলাইন কেনাকাটায় সুবিধা-অসুবিধা

শহরের ব্যস্ততম জীবনযাপনের মধ্যে অনেকেই এখন কেনাকাটার জন্য সময় বের করতে পারেন না, তারপর রাস্তার জ্যাম তো আছেই। এসব কিছু মাথায় রেখেই অনলাইন দোকানগুলো অনেক ক্রেতার কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে। অনলাইন শপিং চালু হওয়াতে একদিকে যেমন মানুষের উপকার হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসার মাধ্যমে ক্যারিয়ার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

অনলাইন শপিংগুলোর সুবিধার শেষ নেই। শপিং করার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখার প্রয়োজন হয় না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময়ে আপনি কেনাকাটা করতে পারবেন। সেটি মধ্য রাত হোক কিংবা ভোর বেলা।

যে কোনো জায়গায় বসে আপনি তুলনামূলক কম দামে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন খুব সহজেই। বিভিন্ন উৎসবে অনলাইন শপিংগুলো মাঝে মাঝে ডিসকাউন্ট অফার দেয়, যাতে ক্রেতারা কিনতে আরও বেশি আগ্রহী হয়। এর কারণ হলো, অনলাইন দোকানগুলোও উৎসবের কথা মাথায় রেখে নতুন নিতুন পণ্যের চমক আনে। যারা হাতে তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন সে ক্ষেত্রে পণ্যের নকশাতেও থাকে নিজস্বতা। আপনি চাইলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র একসঙ্গে পেয়ে যাবেন এমন অনলাইন দোকানো রয়েছে। এ জন্য আপনাকে ঘুরে ঘুরে সময় নষ্ট করতে হবে না।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে ক্রেতার অভিযোগ পাওয়া যায় না, তা কিন্তু একেবারেই নয়। পণ্যের সঠিক দাম এবং ওয়েবসাইটগুলো ভালো করে যাচাই করে পণ্য অর্ডার করুন। সবচেয়ে বেশি দ্রুততম যারা পণ্য পৌঁছে দেয়, তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে হবে। মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করলে কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না। বেশ কিছু অনলাইন শপিং সাইটের বিরুদ্ধে জাল বা ডুপ্লিকেট পণ্য বিক্রির করার অভিযোগ আছে। এসব দিকে ক্রেতাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

অনলাইনে কেনাবেচার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দিকটি আরও ভালো করে জানতে পারলাম বুশরা আফরিনের সঙ্গে কথা বলে। তিনি অনলাইনে 'পঙ্কজ' নামে একটি হাতে তৈরি পণ্যের দোকান চালাচ্ছেন। তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম, তার শুরুর গল্প আর অনলাইন ব্যবসার বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শিল্পের প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী, তাই তার শিল্প আগ্রহকেই ব্যবসার কাজে লাগাতে চেয়েছেন। তিনি জানালেন, তার অনলাইন পেজটি হাঁটি হাঁটি পা পা করে দাঁড়িয়েছে আট মাসে। তবে তিনি এর কর্মপরিকল্পনা করেছিলেন তারও এক বছর আগে থেকে। যারা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে চান, তাদের জন্য 'পঙ্কজ' পেজটি একটি উদাহরণ হতে পারে। বুশরা আফরিন তিনি নিজেও পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটি করছেন। এতে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আপাতত তিনি নির্দিষ্ট কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করছেন। তার মধ্যে উল্লেখ্য, তিনি সাড়া পেয়েছেন টিপের পাতায়, হাতে তৈরি পাখির মালায়। তা ছাড়াও তিনি তৈরি করছেন গামছা কাপড়ের ব্যাগ, ব্রোকেন গল্গাস দিয়ে লকেট। সব পণ্যের দামই তিনি রাখছেন ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। তিনি জানান, 'পঙ্কজ' নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক দূর। সামনে তিনি কাজ করছেন বৈশাখকে উপলক্ষ করে। তার মধ্যে বাচ্চাদের লেহেঙ্গা, কুর্তি, পাঞ্জাবি, শাড়ি অন্যতম।

তিনি বলেন, ক্রেতার সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ, পণ্যের গুণগতমান ও পণ্যের উপস্থাপন এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখতে হলে ক্রেতার সঙ্গে সততার সম্পর্ক রাখতে হবে।