শৈলী

শৈলী


যত্নে থাক চুল

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২০      

বন্যা সরকার

চুলের সমস্যা আমাদের জীবনে অনেক বড় সমস্যা, যা নিয়ে সবসময় অনেক বেশি আতঙ্কিত থাকে সবাই। চুল পড়ে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া কিংবা চুলের আগা ফেটে যাওয়া নিয়ে আমাদের উদ্বেগের শেষ নেই। কিছু বিষয় মেনে চললেই আমরা চুলের যাবতীয় সমস্যা কিংবা ক্ষতি হওয়া কমাতে পারি।

মাথার ত্বক পরিস্কার না থাকলে চুলে সেটা অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। তাই মাথার ত্বক অবশ্যই পরিস্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন শ্যাম্পু করতে হবে এবং চুল খুব ভালো করে ম্যাসাজ করে তেল ব্যবহার করতে হবে। কারণ, চুলের একটি অন্যতম খাদ্য হলো তেল।

বাইরে বের হলে ধুলা ও রোদ থেকে চুলকে রক্ষা করতে ছাতা, স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করতে পারি।

আমরা ঘরোয়া উপায়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাক তৈরি করে সেটা ব্যবহার করে আমাদের চুলকে অনেক সুন্দর করে তুলতে পারি।

একটি পরিস্কার পাত্রে ডিমের সাদা অংশটুকু নিন। ১ চা চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল এবং ১ চা চামচ পরিমাণ মধু নিন। এ ক্ষেত্রে আপনার চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এরপর ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এ দুটি উপকরণ খুব ভালোভাবে মেশান। ভালোভাবে ফেটিয়ে নিলে একটি পেস্টের আকার ধারণ করবে। এরপর এই দ্রবণ মাথায় আলতোভাবে লাগান। অন্তত ২০ মিনিট রেখে তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। এ ক্ষেত্রে কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার চুল ঘন হওয়ার সঙ্গে আসবে বাউন্সি ভাবও।

মেহেদি পাতার হেয়ার মাস্ক

প্রাচীনকাল থেকেই চুলের বৃদ্ধির জন্য মেহেদি পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদি পাতায় রয়েছে চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব পুষ্টিকর উপাদান, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় ও বৃদ্ধিসাধন করে। এ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে এই মাস্ক। নতুন চুল গজাতে মেহেদি পাতার তুলনা নেই। নিয়মিত ব্যবহারে চুল হয় ঘন, কালো ও ঝলমলে।

পদ্ধতি :মেহেদি পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। ১ কাপ পরিমাণ শুকনো গুঁড়ো মেহেদির সঙ্গে অর্ধেক পরিমাণ টকদই নিয়ে ভালোভাবে মেশান। ভালোভাবে মিশ্রিত হওয়ার পর এটি নিয়ে পুরো চুলে ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে নিন। মিশ্রণটি শুকানো পর্যন্ত রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন।

চুলের যত্ন নিতে ওপরে যে পদ্ধতিগুলোর কথা বলা হয়েছে তার প্রতিটিই প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া পরিবেশে করা যায়। বর্তমানে বাজারে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অনেক বেনামি কোম্পানি চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কথা বলে মানহীন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, তেল এবং আরও অনেক পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করে চুলের যত্ন নেওয়া তো সম্ভবই নয় বরং চুলের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করে। এমনকি চুল পড়া, চুলের রং নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করে এসব রাসায়নিক পণ্য। তাই আপনি যদি সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিতে চান তবে অবশ্যই ভালোমানের পণ্য ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় বাজারের রাসায়নিক পণ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া। তাহলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন আপনার চুলের সৌন্দর্য।



মডেল ::মিথিলা

ছবি ::শৈলী আর্কাইভ