শৈলী

শৈলী


মাস্কে সুরক্ষা

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০      

বন্যা সরকার

এক দুঃসহ ভয়াবহ সময় পার করছি আমরা সবাই। করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত পৃথিবী। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বাস করা যাচ্ছে না প্রবহমান বাতাসকেও। চারদিকে ভয় আর নিজেকে বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা।

করোনাভাইরাস মূলত ছড়ায় হাত ও মুখ থেকে। তাই এ সময়ের সবচেয়ে দরকারি বস্তু হচ্ছে মাস্ক। এখন প্রায় সবারই মুখে দেখা যাচ্ছে মাস্ক। ঘর থেকে যে বের হচ্ছে, তাকে ঘরের মানুষটি মনে করিয়ে দিচ্ছে মাস্কের কথা। তাই একে এক মাস্কঢাকা প্রহরই বলা যায়।

মাস্ক অনেক রকমের। যে যার সুবিধা মাফিক একটি মাস্ক বেছে নিচ্ছেন। তবে এ নিয়ে সতর্কতা জরুরি। কেনার আগে কী উপাদানে মাস্ক তৈরি হচ্ছে, সেটি ভেবে দেখা উচিত। হয়তো সঠিক মাস্ক ব্যবহার না করার কারণে আপনি সংক্রমিত হতে পারেন। তাই এ সময়ে মাস্ক নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

বাজারে যেসব মাস্ক কিনতে পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি যে ধরনের মাস্ক অনেকে পরছেন, সেগুলো তৈরি নন-ওভেন থার্মোপ্লাস্টিক শপিংব্যাগের কাপড় দিয়ে। এ প্লাস্টিক দামে সস্তা। এটি আসলে প্রোপিলিনের পলিমার দিয়ে তৈরি। তাপ-রাসায়নিক পদ্ধতিতে এটি প্রস্তুত করা হয়।

এ ধরনের মাস্কে সবচেয়ে বেশি বিপদ হচ্ছে কাপড়টির উভয় পাশে অনেক পরিমাণ ফ্লটিং ফাইবার বা আলগা তন্তু থাকে। একে বলা হয় মাইক্রো-প্লাস্টিক। তাই এ ধরনের মাস্ক ব্যবহার না করা ভালো।

প্লাস্টিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সরাসরি নাকে সংযুক্ত থাকায় এ ধরনের কাপড়ে তৈরি মাস্ক থেকে উচ্চমাত্রার থ্যালেট, লিড, মারকারি, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতব এবং বিপিএ উপাদান শরীরে ঢুকতে পারে।

দেশে এখন যে মাস্কগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অস্বাস্থ্যকর এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমদানি করা ও উৎপাদিত মাস্কের সিংহভাগ হচ্ছে নন-ওভেন থার্মোপ্লাস্টিক শপিংব্যাগের কাপড় দিয়ে। উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন স্থানে পিপি মাস্ক অল্প সময়ের জন্য পরিধান করা যেতে পারে।

তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক ভালো বিকল্প হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবে পরীক্ষিত কয়েক স্তরের টেক্সটাইল মাস্ক সর্বোত্তম সমাধান হতে পারে।

এ ছাড়া সুতি কাপড়ে কয়েক স্তরে তৈরি মাস্ক এ সময়ে বাইরে বের হলে পরিধান করা যেতে পারে। এ মাস্কও ধুয়ে পরিস্কার করে শুকিয়ে নেওয়া যায়।

কিছু অসাধু মাস্ক ব্যবসায়ী কোনো এয়ার ফিল্টার বা বায়ু ছাঁকনি ব্যবহার না করেও শুধু একটি প্লাস্টিকে তৈরি চাকতি দিয়ে মাস্ক বিক্রি করছে। এতে জনগণ প্রতারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণও বটে। এ ধরনের মাস্কে নির্দিষ্ট জায়গাটি কেটে তাতে ফিল্টার কাপড় বা উপাদান না বসিয়ে মাঝখানে একটি নরম প্লাস্টিক বসিয়ে দুই পাশ থেকে আটকে দেওয়া। এর ফলে মাইক্রো-প্লাস্টিক ব্যবহারকারীর ফুসফুসে ঢুকে পড়ছে। তাই এ ধরনের মাস্ক ব্যবহার না করা ভালো।

এক্ষেত্রে একটি কথা বলা প্রয়োজন। সেটি হলো, এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করার মতো কোনো প্রচারণা নেই। মাস্ক যখন অবশ্যম্ভাবী, তখন সেই মাস্ক নিয়ে প্রচারণা হওয়া জরুরি ছিল। নইলে মাস্ক ব্যবহার বরং বেশি বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

দরদাম : কাপড়ের উপকরণের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে মাস্কের দাম। এখন বাজারে পাঁচ টাকা থেকে পাঁচশ' টাকা দামের মাস্ক পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে দেখে নিতে হবে কোন উপাদানে তৈরি মাস্কটি আপনি বেছে নিচ্ছেন। মাস্ক ব্যবহারে সতর্কতা এ সময় খুব জরুরি। জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে এ সতর্কতাটুকু মেনে নিতেই হবে।