শৈলী

শৈলী


বৈশ্বিক ফ্যাশনে করোনার থাবা

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০      

হাসান শাওন

এক ক্রান্তিকাল পার করছে মানব সভ্যতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে লকডাউন পৃথিবীর সব বড় বড় মেট্রোপলিটান শহর। বিপর্যস্ত অর্থনীতি। অনেকে বলছেন, এক মহামন্দা ধেয়ে আসছে সামনে। ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে মুক্তি নেই মানুষের।

আর সব ক্ষেত্রের মতো বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে ঝঁকির মুখে। চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে স্থগিত করা হয় মিলান ফ্যাশন উইক। মহাবিপদটি তখন সবাই টের পাননি। বিশ্বের ফ্যাশন ডিজাইনাররা সবাই তখন একে একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে ভেবেছিলেন। ফ্যাশন সার্কিটের সবাই চীনের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন।

কিন্তু করোনাভাইরাস সর্বগ্রাসী। শুধু চীনে তা আবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, শুধু ইতালিতেই মৃত্যুর সংখ্যা দশ হাজার পেরিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে, জনপদে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর আসছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

এই পরিস্থিতি কবে শেষ হবে তা কেউ জানেন না। ন্যাশনাল চেম্বার অব ফ্যাশন ইতালির প্রধান কার্লোস কাপাসা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য পুরো স্থবির হয়ে গেছে ইতালি। পোশাক শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ তিনি জানিয়েছেন ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

তিনি বলেন, আমরা সুন্দরভাবে একটি বছর শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সব ভেস্তে গেছে। এই মুহূর্তে শুধু ইতালি নয়, পুরো বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে পুরো বিশ্বেই চীনের দাপট। চীন আক্রান্ত হওয়ায় তাই পুরো বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিরই ক্ষতি হয়েছে। কবে এ ব্যবস্থার উন্নতি হবে তা আমরা কেউ জানি না।

২০২০ সালের জন্য কোনো শুভ বার্তা জানাতে পারেননি কার্লোস কাপাসা। আসলে এই মহামারিতে পুরো পৃথিবীই স্থবির হয়ে গেছে। যার ছায়া অন্য সব খাতের মতো ফ্যাশন খাতেও দৃশ্যমান।

হিলডান করপোরেশনের সিইও গ্যারি ওয়াসনার বলেন, চীনের টেক্সটাইল শিল্পে ধসে পুরো বিশ্বই আক্রান্ত। কারণ পুরো বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিই চীনের ওপর নির্ভর করে থাকে। এই নির্ভরতা এক-দুই বছরে কাটবে না।

ফ্যাশন সংশ্নিষ্ট অনেকে বলছেন, একটি বিশ্বযুদ্ধে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় তেমন ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসতে কত সময় লাগতে পারেন এ নিয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।

মানুষের জীবন যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে পোশাক এখন একটি বাহুল্য ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজ্ঞানীরা রাত-দিন চেষ্টা করছেন একটি প্রতিষেধক উদ্ভাবনের, যাতে মানব জাতি রক্ষা পায়। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন যে অচিরেই বাজারে আসবে, তেমনটা নয়। তাই দুঃসময় শিগগিরই কাটছে তা বলা যাচ্ছে না।

ফ্যাশন সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নিউইয়র্ক, প্যারিসের মতো জায়গাগুলো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির হূৎপিণ্ডের মতো। এই শহরগুলোতে আউটলেট বন্ধ হওয়ার আঘাত পুরো খাতের ওপরেই পড়ে।

অতি সম্প্রতি চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার একটু কমতির দিকে। কিন্তু পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে এ ভাইরাস। চীন হয়তো অটোমেশন পদ্ধতিতে কারখানা চালু করে ফেলতে পারে। কিন্তু বৈশ্বিক ক্রেতারা আসবেন কোথা থেকে! পুরো পৃথিবীই যে লকডাউন।

এভাবে এক দুর্গত সময় পার করছে বিশ্বের ফ্যাশন সার্কিট। কবে এর থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে তা কেউই জানেন না। এ এমন এক মহামারি, যা শুধু মৃত্যুই আনে না, অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে ছাড়ে। শুভদিনের জন্য শুধু অপেক্ষা আর প্রার্থনাই যেন এখনকার একমাত্র করণীয়।